ব্যারিস্টার আনোয়ারুল আজিম (১৮৯৭-১৯৬৫)

12

জন্ম ১৮৯৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। পিতা খান বাহাদুর আমান আলী চট্টগ্রামের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন। পুত্র আনোয়ারুল আজিমকে তিনি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেন এবং চট্টগ্রামের মুসলিমদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ছেলেকে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্যে ইংল্যান্ডে পাঠিয়েছিলেন। ব্রিটিশ ভারতে তিনি চট্টগ্রাম পৌরসভা ও চট্টগ্রাম জেলা বোর্ডের প্রথম বেসরকারি চেয়ারম্যান ছিলেন।
১৯১৮ সালে বিলাতের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও ইনার টেম্পল কলেজ থেকে বার এট ল ডিগ্রী লাভ করেন এবং পরের বছর তিনি লিংকন্স ইনে ব্যারিস্টার হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে চট্টগ্রাম, রেঙ্গুন ও কলকাতার আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। ১৯২৩ সালে নোয়াখালীর খান বাহাদুর বজলুর রহিমের কন্যা তোহফাতুন্নিসার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯২৬ সালের নভেম্বরে ব্যারিস্টার আনোয়ারুল আজিম ভারতীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত সদস্য থাকেন। ১৯৩৬ সালে ভারত সরকার তাঁকে করোনেশন মেডেল দিয়ে স্বীকৃতি দেয় এবং খান বাহাদুর উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে। তবে মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের নির্দেশে তিনি এই উপাধি ত্যাগ করেন। ১৯৩৮ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ছিলেন। ১৯৩২ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত আনোয়ারুল আজিম ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য এবং ১৯৬২ সালেও বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হন।
আনোয়ারুল আজিম ১৯৫২ সালে চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ের আইন পরামর্শদাতা ছিলেন। চট্টগ্রাম আইন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি এর প্রথম প্রিন্সিপাল নিযুক্ত হন। শিক্ষাব্রতী হিসেবে তিনি খান বাহাদুর আবদুল আজিজ কর্তৃক ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম মুসলিম ত্রডুকেশন সোসাইটির কর্মকাÐে সহযোগিতে করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং দিল্লী ও আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৯২৬-৪৬ পর্যন্ত) সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অল ইন্ডিয়া ওল্ড বয়েজ এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং রয়াল এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্য মনোনীত হন। তাঁর স্ত্রী তোহফাতুন্নিসা ছিলেন পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের (১৯৫৪) প্রথম মুসলিম মহিলা সদস্য। ব্যারিস্টার আনোয়ারুল আজিম ১৯৬৫ সালের ১লা মে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পুত্র আরিফ মঈনুদ্দীন এর জন্ম ১৯৪৭ সালের ১২ আগস্ট। তিনি ১৯৭২-৭৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন ও পরে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি সংসদ সদস্য ও উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
সূত্র : চট্টল মনীষা, আহমদ মমতাজ / রাইহান নাসরিন