বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমাবে ন্যাশনাল কুলিং অ্যাকশন প্ল্যান

12

পৃথিবীর জন্য গ্লোবাল ওয়ার্মিং এখন একটা চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছরই একটু একটু করে বেড়ে যাচ্ছে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা। গলে যাচ্ছে হিমবাহ, বেড়ে যাচ্ছে সমুদ্রের উচ্চতা। নানা দুর্যোগে আক্রান্ত পৃথিবী। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির একটি অন্যতম কারন এসি অর্থাৎ এয়ার কন্ডিশনার।
আধুনিক সময়ে এসি একটি দৈনন্দিন অনুষঙ্গ। বদ্ধ ঘরের হাওয়া শীতল করতে এর ব্যবহার সর্বত্র। কিন্তু প্রতিদিন এসি আমাদের ক্ষতি করছে। এসি প্রচুর এনার্জি গ্রহণ করে। ইলেক্ট্রিসিটি হিসেবে এই এনার্জি ব্যবহৃত হয়। ভারতের মতো একটি বড় দেশে এসির ব্যবহার এবং তা থেকে নানা তথ্য নিয়ে নড়েচড়ে বসেছেন সে দেশের কর্তারা। হিসেব করে দেখা যাচ্ছে এসি থেকে প্রতিদিন ‘পিক আওয়ার’এ মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের অর্ধেকের বেশি ব্যবহৃত হয়। দিনদিন এসির চাহিদা বাড়ছে বই কমছে না। যদিও আজকাল এসি তৈরির কোম্পানি নানা উপায়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাওয়ার কনজাম্পশন কমানোর চেষ্টা করছে তবুও ২০৫০ সাল নাগাদ এক বিলিয়ন উইনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে কেবল এসি চালানোর জন্য।
অন্যদিকে এসি যেমন ঘরের হাওাকে শীতল করে, তেমনি বাইরের হাওয়ার তাপ বাড়ায়। ফলে দিনদিন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা মানুষকে আরও এসি কিনতে উদ্বুদ্ধ করছে। মানুষ না বুঝেই ডেকে আনছে নিজের সর্বনাশ।
এমতাবস্থায় একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত সরকার। উচ্চাভিলাষী মনে হলেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত সরকার একটি ‘ন্যাশনাল কুলিং অ্যাকশন প্ল্যান’ হাতে নিয়েছে। বিশ বছরব্যাপী এই রোডম্যাপ অনুসারে এসির প্রতি ইউনিট ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হবে। সেই সঙ্গে এসি তৈরিকারী কোম্পানিগুলোকে বলা হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে যেন তা পরিবেশের কম ক্ষতির কারন হয়।
এখানেই শেষ নয়। এই রোডম্যাপ এবং পরিকল্পনা অনুসারে নানা ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মানুষকে বোঝানো হবে এসির ক্ষতিকর দিক এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি সম্পর্কে। হয় এভাবেই উঠে আসবে তাপমাত্রা থেকে বাঁচার নতুন কোন পরিবেশ বান্ধব উপায়। অনলাইন বার্তা সংস্থা