আমিরাত সরকারের সাধারণ ক্ষমা

বৈধতার সুযোগে বেআইনি কর্মকান্ডে কিছু বাংলাদেশি

সাইফুল ইসলাম তালুকদার, ইউএই

18

আরব আমিরাত সরকারের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণায় বৈধতার বিশেষ সুযোগ পেয়েও বৈধতা লাভ না করে অবৈধভাবে থেকে বেআইনি কর্মকান্ড করে যাওয়াতেই যেন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ মনে করেন কিছু বাংলাদেশি। তাদের কর্মকান্ড দেখে এবং খোঁজ-খবর নিয়ে এমনটিই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ডা. মোহাম্মদ ইমরান বার বার বলে আসছেন, যারা অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করছেন তারা যেন নিজ দেশের সম্মান বৃদ্ধিতে আমিরাত সরকারের ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়ে দ্রুত বৈধতা লাভ করেন অথবা আউট পাস নিয়ে দেশে ফিরে যান।
গত শুক্রবার সকালে আমিরাতের আজমানের নয়া সানাইয়ায় পাকিস্তানী একটি হোটেলের সামনে দেখা গেল বেশ কিছু অপেক্ষমান মানুষের জটলা। জানা গেল তারা বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান থেকে আসা শ্রমিক। প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে ৯- ১০ টা পর্যন্ত তাদের জমায়েত ঘটে এখানে। আসেন শ্রম বিক্রি করতে। আবার কিছু মানুষ আসেন তাদের কিনতে। চলতে থাকে অন্যান্য পণ্যের মতো দর কষাকষি। এভাবেই এক পর্যায়ে বিক্রি হয় তাদের শ্রম। জানা গেছে, এসব শ্রমিকের বেশিরভাগই ভিজিট ভিসায় এসে বিজনেস পার্টনার ভিসা লাগিয়ে এ কাজ করছে কিংবা ভিজিটে এসে পার্টনার ভিসা না নিয়ে বেআইনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। এছাড়াও তাদের মধ্যে কিছু লোক রয়েছেন যারা পান বা পান জাতীয় দ্রব্য বিক্রি করা, কোনো হোটেল-রেস্টুরেন্ট বা সুপার মার্কেটের সামনে ডাকাডাকি করে মোবাইলে ব্যালেন্স দেয়া, রাস্তার পাশে, লেবার ক্যাম্পের সামনে অথবা শুক্রবার জুমা মসজিদের পাশে পোশাকাদি, মুরগি, শাক-সবজি, বা মুদি আইটেমের বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসিয়ে বিক্রি করাসহ নানা রকম কাজ করে যাচ্ছেন যা এই দেশে বেআইনী। মাঝে মধ্যে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অনেককে ধরে নিয়ে যেতেও দেখা যায়। অনেককে দেশেও পাঠিয়ে দেয়া হয়। তারপরও নিজ দেশের ভাবমর্যাদা উজ্জলে সচেতন হচ্ছেন না এসব বাংলাদেশি।
আমিরাত সরকার বিশেষ বিবেচনায় দেশটিতে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বৈধ হয়ে ভালোভাবে বসবাসের অথবা আমিরাত ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য গত ১ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ঘোষিত তিন মাসের ক্ষমার মেয়াদ শেষে আবারো এক মাস বাড়িয়ে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তাই এখন পর্যন্ত যারা বৈধতা লাভ করেননি তাদেরকে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জলে দ্রæত বৈধ হওয়ার অথবা দেশে ফিরে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।