বেলগাঁওয়ে ২ বছরে ছয় লাখ কেজি চা উৎপাদন

এ বছর রোপণ হবে চার লক্ষ নতুন চারা

রাহুল দাশ নয়ন

10

দক্ষিণ চট্টগ্রামের একমাত্র চা বাগান পুকুরিয়া বেলগাঁও চা-বাগান। করোনাতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুরক্ষিত থেকে উৎপাদন চলছে এ বাগানে। অল্প বৃষ্টিতেই তিন হাজার ৪৭২ একর আয়তনের বিশালাকার এ বাগান সবুজ পাতায় ভরে উঠেছে। গত দুই বছরে এ বাগানে প্রায় ছয় লক্ষ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। আগামী মাস থেকেই কোয়ালিটির দিক থেকে দেশে পঞ্চম স্থানে থাকা এ বাগানে চার লক্ষ নতুন চারা রোপণ হবে। চলমান বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতা থাকলে এ বছরেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে। তবে করোনায় চা’র দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কার কথাই বলছেন বাগান সংশ্লিষ্টরা।
পুকুরিয়া বেলগাঁও চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার পূর্বদেশকে বলেন, ‘চা বলতে সবার কাছে সিলেট পরিচিত। গুণগত মানের দিক থেকে এ বাগানের অবস্থান এখন পঞ্চম। জানুয়ারি- ফেব্রæয়ারিতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বাগানে খরা ছিল। যে কারণে উৎপাদন একটু কম হয়েছে। মার্চ মাস থেকে করোনা ভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শ্রমিকরা চা উৎপাদন করছে। এখানে ৭০০ শ্রমিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক ব্যবহার করে পাতা উত্তোলন করেন। কেউ বাগানের বাইরে যায় না। দর্শনার্থী প্রবেশ নিষেধ। চলতি বছর ৪ লক্ষ নতুন চারা রোপণ হবে। তবে বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতা থাকলেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে। যদিও করোনায় দাম কম পাওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়।’
বাগান সূত্র জানায়, তিন হাজার ৪৭২ একরের এ বাগানে ৬৩৮ একর চা-বাগান সৃজন করা হয়েছে। চলতি বছরেও চার লক্ষ নতুন চারা রোপিত হবে। এ বাগানের চা গত বছর গুণগত মানের দিক থেকে দেশের ১৬৬ বাগানের মধ্যে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। গত দুই বছরে (২০১৮ ও ২০১৯) এ বাগানে পাঁচ লক্ষ ৮৭ হাজার ১৮৮ কেজি চা উৎপাদিত হয়। গত ১মার্চ থেকে চলতি বছরের চা উৎপাদন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৫ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। জুন, জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর মাসেই চা উৎপাদনের মোক্ষম সময়। গত বছর ৯৩.৭০ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এ বাগানে। ইতোমধ্যে এ বাগানের চা নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ‘বেঙ্গল ক্লাসিক’ নামেই বাজারজাত শুরু করেছেন বাগান মালিক পক্ষ সিটি গ্রূপ।
সরেজমিনে দেখা যায়, জানুয়ারি-ফেব্রূয়ারি মাসে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বাগানে খরার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টিপাত বাড়ার সাথে সাথে সবুজে ভরে গেছে পুরো বাগান। বাগানের ৭০০ শ্রমিক মাস্ক পড়েই চা পাতা তুলছে। বাগান কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় সুনসান নীরবতা। বাইরে প্রবেশ বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের জন্য সেখানেই বসানো হয়েছে বাজার। নিয়মিত হাত ধোয়া, শ্রমিকের লাইনে ও ফ্যাক্টরিতে নিয়মিত স্প্রে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বাগানের পাতা উত্তোলনে দিন কাটাচ্ছে শ্রমিকরা।
বাগানের শ্রমিক রেহেনা বেগম পূর্বদেশকে বলেন, ‘করোনা এখানে আসেনি। আমরা কেউ বাগান ছেড়ে বাইরে যাই না। প্রতিদিন মাস্ক ও সাবান ব্যবহার করে পাতা তুলি। আমরা ঝুঁকিমুক্ত হয়ে কাজ করছি। এজন্য বাগান কর্তৃপক্ষ আমাদের সবধরনের সহযোগিতা করছেন।’