বৃহত্তর চট্টগ্রামের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষে মেগা প্রকল্পসমূহের দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি

14

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালে দেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষে পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জানেন চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতিতে কি পরিমাণ অবদান রাখে। দেশের রাজস্বের সিংহভাগ চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর হতে পাওয়া যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা লাভ করার পর আন্তরিকভাবে চট্টগ্রামের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তাঁর হাতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। যা এখন ৫৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে কর্ণফুলী বঙ্গবন্ধু টানেলের কাজ স্বাভাবিকভাবে এগোতে পারেনি। তারপরও সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ২০২১ সালের মধ্যে এ টানেলের কাজ শেষ হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে ২য় যে, মেগা প্রকল্প হাতে নেন তা হলোÑ দোহাজারী টু কক্সবাজার ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ প্রকল্প। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী হতে কক্সবাজার পর্যন্ত ডুয়েল গেজ রেল লাইনের কাজ দ্রæত এগিয়ে চলেছে। ভ‚মি অধিগ্রহণের টাকা ভ‚মি মালিকদের হাতে পৌঁছিয়ে দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন। দোহাজারী রেলসেতুসহ বেশক’টি সেতুর কাজ মাটি ভরাটের কাজ এবং রেললাইন স্থাপনের কাজ চলছে দ্রæত গতিতে। করোনা মহামারীর কারণে কাজের গতি কিছুটা মন্থর হলেও তা এখন পুশিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে। রেলমন্ত্রী মনে করেনÑ আগামী ২০২৩ সালে দোহাজারী-ঘুমধুম রেলপথ স্থাপনের কাজ শেষ হয়ে ঢাকা টু কক্সবাজার রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল এবং দোহাজারী-ঘুমধুম রেলসড়ক স্থাপনের কাজ শেষ হলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম হবে দেশের সবচেয়ে আধুনিক নগরী। এর ফলে সারাদেশের সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা কক্সবাজার জেলার যোগাযোগের ব্যাপক উন্নতি ঘটবে। দক্ষিণ চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম শহর সম্প্রসারিত হবে। ওয়ান সিটি টু টাউন যথাযথ বাস্তবায়িত হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিপ্লব সাধিত হবে চট্টগ্রামকেন্দ্রীক। যা সারাদেশের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। ইতোমধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কুরিয়ান ইপিজেট, কাফকো, সিউএফএল, চায়না অর্থনৈতিক জোন স্থাপিত হয়েছে। বাঁশখালীতে চীন-এস আলম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের কৃষিজাত দ্রব্য, লবণ, চিংড়ি, শুঁটকি, মিষ্টিপান ইত্যাদি সমগ্র দেশসহ আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রæত রপ্তানি হতে পারবে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো দেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সাথে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হলে ঢাকাসহ সারাদেশ ও বিদেশি পর্যটকরা সহজেই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে যাতায়াত করতে পারবে। পর্যটন, কৃষি বাণিজ্য সর্বক্ষেত্রে বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমগ্রদেশে গৌরব ও উজ্জ্বল অতীতকে ধারণ করে দ্রুত এগিয়ে যাবে। চট্টগ্রামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সকল প্রকল্প হাতে নিয়েছেন সবক’টি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম হবে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্থনৈতিক অঞ্চল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে চট্টগ্রামের উন্নয়নে আন্তরিক ভ‚মিকা রাখার জন্য সাধুবাদ জানিয়ে আমরা চট্টগ্রামের সবক’টি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ভূমিকা আশাকরি।