বুদ্ধপূর্ণিমায় রাঙামাটির বৌদ্ধ বিহারের নিরাপত্তা জোরদার

রাঙামাটি প্রতিনিধি

7

অতর্কিতে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় জেলা সদরসহ রাঙামাটির প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। ১৮ মে অনুষ্ঠিত হবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বুদ্ধপূর্ণিমা উৎসব। এ উপলক্ষে প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে ব্যাপক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করবেন বৌদ্ধরা। অনুষ্ঠান চলাকালে বাংলাদেশে বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা চালিয়ে নাশকতার হুমকি দিয়েছে আইএস’সহ জঙ্গিগোষ্ঠী। তাই এদিন রাঙামাটিতে সম্ভাব্য যে কোনো জঙ্গি তৎপরতা ও নাশকতা মোকাবেলায় প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। এ নিয়ে কঠোর নজরদারিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে জেলা পুলিশ। বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্পর্শকাতর পয়েন্ট চিহ্নিত করে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনিতে ঘিরে ফেলা হচ্ছে রাঙামাটি রাজবন বিহারসহ শহর এলাকা ও অন্য উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বৌদ্ধ মঠগুলো। এ লক্ষে বুধবার জেলা পুলিশ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব পদক্ষেপের কথা জানান, পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির।
গতকাল সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুফি উল্ল্যাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. আউয়াল (বাঘাইছড়ি সার্কেল) এবং বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের পুরোহিত, পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা যোগ দেন।
সভায় ১৮ মে বুদ্ধপূর্ণিমা উৎসব সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষে রাঙামাটি রাজবন বিহারসহ জেলার প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ বৌদ্ধ বিহারে নিশ্চিদ্র ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং প্রত্যেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। পাশাপাশি জঙ্গি তৎপরতা রোধে প্রত্যেক বৌদ্ধ বিহারে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবককর্মী, সিসি ক্যামেরা ও ভিডিও ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিহার কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, আমরা গোয়েন্দা সূত্রে বার্তা পেয়েছি যে, ১৮ মে বুদ্ধপূর্ণিমা উৎসবে বাংলাদেশে বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা নিয়েছে আইএস’সহ কতিপয় জঙ্গিগোষ্ঠী। তারা তা চ্যালেঞ্জ করে হুমকি দিয়েছে। তাই রাঙামাটিতে কোথাও যাতে এ ধরনের নাশকতা ঘটাতে না পারে, সেজন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যে কোনো মূল্যে সম্ভাব্য জঙ্গি তৎপরতা মোকাবেলা করতে হবে। এ জন্য সম্মিলিত সতর্কতা দরকার হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে বড় ধরনের কোনো পরিকল্পনা সফল করতে পারেনি জঙ্গিরা। তাদের ১৮ মে’র হুমকির চ্যালেঞ্জ যে কোনো মূল্যে মোকাবেলা করা হবে।
তিনি বলেন, ওইদিন প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক দল একযোগে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া সাদা পোশাকধারী ডিবি পুলিশ থাকবে। অপরিচিত কাউকে সন্দেহভাজন হলে দেহ তল্লাশি চালানো হবে। অনুষ্ঠানের আগের পর পর দুই দিন শহরের প্রতিটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। এতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন পুলিশ সুপার।