বিশ্ব ভালোবাসা দিবস চকরিয়ায় অর্ধকোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা

ইকবাল ফারুক, চকরিয়া

45

আজ বিশ্ব ভালবাসা দিবস। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাাতিক মাতৃভাষা দিবস। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি উদযাপিত হয়েছে বসন্ত উৎসব। এ তিন দিবসকে ঘিরে গত এক সপ্তাহ ধরে চকরিয়ায় বেড়েছে ফুলের কদর। ব্যাপক চাহিদা থাকায় চকরিয়ার গোলাপ ও গ্লাডিওলাস ফুল চলে যাচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায়। আর ফুল চাষীরাও পার করছেন ব্যস্ত সময়।
এ বছর চকরিয়ার ‘গোলাপ নগর’ হিসাবে পরিচিত বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নের শতাধিক একর ফুল বাগান থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চাষীরা। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে এ বছর অন্তত চারশ’ একর জমিতে গোলাপ ও গøাডিওলাস ফুলের চাষ হয়েছে। কাঙ্খিত উৎপাদন এবং ন্যায্যমূল্য পেয়ে চাষীরাও বেশ খুশি।
বুধবার বিকালে বরইতলী ও হারবাং এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়ক লাগোয়া এ দুই ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ফুলের বাগান। পর্যটন জেলা কক্সবাজার অভিমুখি পর্যটকদেরও নজর কাড়ছে এসব ফুল বাগান। বরইতলী, হারবাং ছাড়াও উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের বাটাখালীতে, কৈয়ারবিল ও কাকারা ইউনিয়নে অন্তত চারশ’ একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করেছেন চাষীরা। চাষীরা ফুল বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত। শ্রমিকরা কেউ বাগান থেকে ফুল কাটছেন আবার অন্যরা কাটা ফুলগুলো প্যাকেট করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন এলাকায়। চাষিরা জানিয়েছেন, এবার ফুলের চাহিদা বেশি ও দাম ভাল থাকায় বেশি লাভের আশা করছেন তারা।
উত্তর বরইতলী এলাকার ফুলচাষি মাহামদুর রহমান মানিক, কামাল হোসাইন, মো. ইসমাইল ও আনসারুল ইসলাম বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে তারা ফুল চাষের সাথে জড়িত। ফেব্রুয়ারি মাসে পৃথক তিনটি দিবস থাকায় মূলতঃ এ মাসটিকে টার্গেট করেই ফুল চাষে নামেন তারা। সাধারণত শীতকালে গোলাপের আশাতীত ফলন না হলেও ব্যাপক চাহিদা থাকায় দামও বেশ ভাল পাওয়া যায়। তবে শীত কেটে গেলে ফুলের ফলন ভাল আসে। বসন্ত উৎসব, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এ বছর ফুলের চাহিদা বেশী থাকায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাইকাররা গত একসপ্তাহ ধরে অগ্রিম বুকিং দিয়ে ফুল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতি পিস গোলাপ ৫-৬ টাকা ও প্রতি পিস গ্লাডিওলাস ৭-৮ টাকা দরে পাইকারী বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তারা।
চকরিয়া ফুল ব্যবসায়ী সমিতির কর্মকর্তা মো. মইনুল ইসলাম বলেন, যে কোন দিবস এলেই ফুলের চাহিদা বেড়ে যায়। এতে ফুলের মূল্যও অন্যান্য যে কোন সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। এসময় প্রতিজন চাষি ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে লাভ পায়। তবে অনেক সময় পাইকাররা সিন্ডিকেট করে ফুলের দাম দিতে চায়না। ফলে চাষিরাও কাক্সিক্ষত মূল্য পায় না থেকে বঞ্চিত হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক উল্লাহ বলেন, চকরিয়ার গোলাপনগর সহ উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে এবছর অন্তত চারশ’ একর জমিতে গোলাপ ও গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ হয়েছে। ফুল চাষীদের যে কোন সমস্যার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহায়তার জন্য এসব ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বছর আশানুরূপ ফুলের চাষ হওয়ায় চাষীরা ফুল বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পাবেন বলেও আশাবাদী তিনি।