বিশ্বমানের শিক্ষার আলোয় উজ্জ্বল সাদার্ন ইউনিভার্সিটি

মো. সাইদুল ইসলাম চৌধুরী

169

১৬ বছর আগের কথা :
চট্টগ্রামে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ বলতে তেমন কিছুই ছিল না। তখনকার সময়ে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের এমবিএ ডিগ্রির জনপ্রিয়তা ও বেশ কদর ছিল। উচ্চ শিক্ষা বিশেষ করে এমবিএ করার জন্য শিক্ষার্থীদের ঢাকায় ছুটটে হতো। অনেকে কষ্ট ও সামর্থ্যরে মধ্যে ছিলনা বলে ঢাকায় গিয়ে উচ্চ শিক্ষাগ্রহণের সাহস পেত না। ফলে অনেকের জীবনে আর এমবিএ বা মাস্টার্স করার সৌভাগ্য হতো না। শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা চিন্তা করে তাদের প্রয়োজন পূরণে সর্ব প্রথম এববিএ কোর্স চালু করে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। নাম মাত্র টিউশন ফি-তে সবার সাধ্যর মধ্যে উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয়। মূলতঃ এর পর থেকে চট্টগ্রামে বেসরকারি ইউনিভার্সিটির প্রসার লাভ করে।
বিশ্বমানের শিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যে ইউনিভার্সিটি যাত্রা শুরু হয়েছিল তা আজ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আপন গৌরবে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে। অনেক ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে শিক্ষার গ্রহণের আদর্শ স্থান হিসেবে সবার আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। সত্যিকারের দেশ প্রেম থাকলে কোন মহৎ উদ্যোগ যে বিফল হয় না সাদার্ন ইউনিভার্সিটিই এর বাস্তব প্রমাণ। শিক্ষা বাণিজ্য নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে দুর্নাম তাকে পাশ কাটিয়ে সবার সাধ্যর মধ্যে শিক্ষার গ্রহণের দ্বার উন্মুক্ত করে তার অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে সাদার্ন কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক একটি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাদার্ন ইউনিভার্সিটিকে বিশের কাছে সুপরিচিত করায় এই প্রতিষ্ঠানের একমাত্র লক্ষ্য বলে জানান সাদার্ন ইউনিভার্সিটির উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর সরওয়ার জাহান।
বর্তমানে সাদার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিসিএসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন সাদার্ন শিক্ষার্থীরা। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমিক বিষয় যেমন, আন্তঃবিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগীতা, বিভাগীয় উদ্যেক্তা মেলা, ক্রিকেট, ফুটবলসহ সব ধরনের খেলাধুলা, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও সাহিত্য চর্চার সুযোগ থাকায় ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য সাদার্ন ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট টিম দখিনা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেটে পরপর তিন বার চ্যাম্পিয়ন, জাতীয়ভাবে আয়োজিত ক্লেমন ইউনি ক্রিকেট প্রতিযোগিগতায় রানার্স আপ, দখিনা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে রানার্স আপসহ দেশেও বিদেশে অনেক টুর্নামেন্টে ভালো ফলাফল করে দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে। বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলা, মুটকোর্ট প্রতিযোগিতায় অসংখ্যা বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অজর্ন করেছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রজেক্ট তৈরি করে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে যাচ্ছে।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নুরুল মোস্তফা বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে আমরা অত্যন্ত আন্তরিক। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও বিশ্ব ব্যাংক যৌথভাবে হেকেপ প্রজেক্টের মাধ্যমে সাদার্ন ইউনিভার্সিটির গুণগত শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে। এই প্রজেক্টের কাজে আমাদের সফলতায় বেশ সন্তুষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন। ইতোমধ্যে ৮টি বিভাগের পিয়ার রিভিউ কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং প্রতিটি বিভাগ অত্যন্ত ভালো করেছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞসহ পিয়ার রিভিউ কমিটির সদস্যরা সাদার্ন ইউনিভার্সিটির কাজে প্রসংশা করেছে। গবেষণাধর্মী শিক্ষাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। সাদার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে যা ইতোমধ্যে বেশ প্রশংসা পেয়েছে এবং বিভিন্ন সেক্টরে কাজে লাগানো হচ্ছে। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য কিছু বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ যেমন-ভালো শিক্ষক, অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা, গবেষণার সুযোগ, অরাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশ সর্বোপরি গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে যা করণীয় তা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। উপরোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছি।
সহঃশিক্ষা কার্যক্রমেও সাদার্ন এগিয়ে :
সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর সূচনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অনুমোদিত একটি “ইনস্টিটিউট ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সাফল্যজনকভাবে কয়েক বছর কর্মকান্ড পরিচালনার পর এর প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর সরওয়ার জাহান এবং প্রফেসর ড. ইসরাত জাহান এই ইনস্টিটিউটকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন্। গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে জাতিকে বিশ্বের কাছে সুশিক্ষিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রকল্প পরিকল্পনার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা হয়। উক্ত টিম দক্ষতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে প্রোজেক্ট প্রোফাইলটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের কাছে ২০০২ সালে পেশ করে। পরবর্তীতে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সুপারিশক্রমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এটিকে একটি নুতন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০০২ সালের ২৬ নভেম্বর অনুমোদন প্রদান করে এবং এটিকে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর নামকরণ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে ১৪ জানুয়ারি সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের একাডেমিক কর্মকান্ড শুরু হয়। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি “সাদার্ন ইউনিভার্সিটি ফাউন্ডেশনের” পুনর্গঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। যা বর্তমানে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের উচ্চ শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।
কার্যক্রম:
সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে মিশন ও ভিশন অনুযায়ী এর একাডেমিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। উন্নত মানের শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠু পরিবেশে পরিচালনা করে সুদক্ষ মানব সম্পদ তৈরির কাজে সাদার্ন ২০০২ সাল থেকে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। বর্তমানে তিনটি অনুষদে (ব্যবসায় প্রশাসন, কলা ও সমাজ বিজ্ঞান এবং সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) ৯টি বিভাগে ব্যাচেলর এবং ৭টিতে মাস্টার্স শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী সাদার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি নিয়েছে এবং বর্তমানেও প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগে অধ্যায়নরত। বর্তমানে ১৮৪ জন শিক্ষক শিক্ষতা করছেন এই প্রতিষ্ঠানে। প্রতিটি বিভাগে রয়েছে একাধিক ফুল টাইম প্রফেসর। সাদার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সময়োপযুগী বাস্তব ভিত্তিক আধুনিক শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা, উচ্চ শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকমন্ডলী নিয়োগ আধুনিক ল্যাব সুবিধা সৃষ্টি এবং শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব আরোপের মাধ্যমে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও ফলপ্রসূ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেয়ায় এ বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত বিকাশ লাভ করছে।
সাদার্ন ইউনিভার্সিটি ট্রাস্ট্র :
প্রফেসর সরওয়ার জাহান এবং প্রফেসর ড. ইসরাত জাহানের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় সার্বিক দিক নির্দেশনা প্রদান-এর জন্য বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের নিয়ে গঠিত ২০০৫ সালে পুনর্গঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে সাদার্ন ইউনির্ভার্সিটি ট্রাস্ট। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সার্বিক দিক নির্দেশনা প্রদান এবং এর পরিচালনায় অন্তরায়সমূহ দূর করার জন্য ঞৎঁংঃ কাজ করে থাকে। বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ খালিলুর রহমান সাদার্ন ইউনির্ভার্সিটি ট্রাস্ট-এর বর্তমান চেয়ারম্যান। এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক জনাব লিয়াকত আলী চৌধুরী ও মোস্তফা গ্রুপের জনাব শফিক উদ্দিন। সদস্য হিসেবে সাদার্ন ইউনির্ভার্সিটি ট্রাস্ট এর সাথে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, চট্রগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি, সেলিম বার্দাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন সালাম, এমইবি (মেব) গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল আবসার, ক্লিফটন গ্রুপের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন চৌধুরী, হাজী মীর আহমেদ সওদাগর এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম, , জিরি স্টিল এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক লোকমান হাকিম, বাগদাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান ফেরদৌস খান আলমগীর। তাদের নিরলস প্রচেষ্ঠায় সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দেশ সেরা বেসরকারি ইউনিভার্সিটি হওয়ার পথে।
অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা:
সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মেহেদীবাগে অবস্থিত। অত্যন্ত সুন্দর, মনোরম ও কোলাহল মুক্ত পরিবেশে এর শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। চারটি শ্রেণিকক্ষের প্রতিষ্ঠান আজ সাতটি বিল্ডিং নিয়ে প্রায় ১০০টি শ্রেণীকক্ষে প্রায় ১,৫০,০০০ বর্গফুট জুড়ে পাঠ প্রদান করছে। সম্পূর্ণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত সুপরিসর ক্লাসরুম গুলোতে রয়েছে ডিজিটাল প্রেজেন্টেশনের সব সুযোগ সুবিধা। প্রত্যেক বিভাগের রয়েছে সার্বক্ষণিক ইর্ন্টারনেট সুবিধাসহ কম্পিউটার ল্যাব। এছাড়াও প্রায় ৭৫টি কম্পিউটারের সমন্বয়ে অত্যাধুনিক কেন্দ্রয় কম্পিউটার ল্যাব। ইউনিভার্সিটির রয়েছে প্রায় ১৫০০০ দেশি, বিদেশি বই ও জার্নাল সমৃদ্ধ কেন্দ্রিয় লাইব্রেরি। তাছাড়া ইউনিভার্সিটির রয়েছে অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ২ টি কনফারেন্স রুম ও একটি অডিটেরিয়াম।
নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস:
ইতোমধ্যে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাস সার্ভিসের মাধ্যমে নগরীর বায়জিদ আরেফিন নগরে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৫ একর জায়গা নিয়ে সব ধরনের অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এই স্থায়ী ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং বৈশ্বিক মানের। এছাড়া আরও দুই একর জায়গায় আবাসিক সুবিধাসহ আরও বড় পরিসরে ক্যাম্পাসের উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সাদার্ন পরিবারের।