শান্তিনিকেতন

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ভবন

এ.এফ.এম.আখতারুজ্জামান কায়সার

152

শান্তিনিকেতন- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার বোলপুর এ অবস্থিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান। কোলকাতা জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের জ্যৈষ্ঠ পুত্র, ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলনের নেতা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬২ খ্রীষ্টাব্দে রায়পুরের জমিদার এর আমন্ত্রণে ব্রাহ্ম উপাসনার জন্য রায়পুরে এসেছিলেন। সেখানে তিনি জমিদার প্রতাপ নারায়নের কাছ থেকে ২০ বিঘা জমি গ্র্রহণ করেন এবং বাহ্ম উপাসনার জন্য একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘শান্তি নিকেতন’ বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। যে বাড়ীতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে। তাছাড়া এই ঐতিহাসিক শান্তি নিকেতন এলাকায় গত বছর উদ্বোধন করা হয়েছে বাংলাদেশ ভবন। সবকিছু মিলিয়ে গত বছর থেকে শান্তি নিকেতন ভ্রমনের আগ্রহ ধীরে ধীরে মনের মধ্যে প্রবল হচ্ছিল। এমতাবস্থায় নিখিলবঙ্গ বাচিক সংসদ কলকাতা’র সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিপ্লব মন্ডল এর আমন্ত্রন বাড়তি মাত্রা যোগ করল। তারা দুইদিন ব্যাপী ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসব এর আয়োজন করবেন বোলপুর, শান্তি নিকেতন এর উৎসর্গ মঞ্চে এবং শান্তিদেব ঘোষ সভাকক্ষে। উক্ত অনুষ্ঠানে আমাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহন ও সংস্থার পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহনের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমি সাদরে আমন্ত্রন গ্রহন করে অনুষ্ঠানের পূর্ব দিন চট্টগ্রাম-কলকাতা ইউএস বাংলা ফ্লাইটে রওনা হই। যথারীতি কলকাতা নেমে টেক্সীক্যাব যোগে পূর্ব নির্ধারিত গেস্ট হাউসে গিয়ে উঠি। রাতে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব মন্ডল এসে অতিথি আপ্যায়নের খোঁজ খবর নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি জানিয়ে দেন।
পরদিন সকালে যথারীতি উবার আ্যাপস ব্যবহার করে একটি গাড়ী নিয়ে সকাল ৯টার আগেই হাওড়া রেলওয়ে ষ্টেশনে পৌঁছে যাই। যেটি ভারতের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে কমপ্লেক্স এবং ১৬৫ বছর আগে ১৮৫৪ খ্রীষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। হাওড়া থেকে সকাল ১০টা ২০মিনিটে শান্তি নিকেতন এক্সপ্রেসে ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগিতে চেপে নির্ধারিত আসনে বসে রওনা হই। ট্রেন ছাড়ার পর পরই শ্রী বিপ্লব মন্ডল পরম আন্তরিকতায় বাংলাদেশ ও ভারতের সকল অতিথিবৃন্দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। ট্রেন থেকে দু’পাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে ২ঘন্টা ১৫মিনিটের মধ্যে আমরা বোলপুর ষ্টেশনে পৌঁছাই। সেখান থেকে ‘টোটো’ (ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা) নিয়ে ১৫মিনিটে গেষ্ট হাউসে পৌঁছি। এরপর বিকাল ৫টায় সকল অতিথিবৃন্দ সহ আনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দকে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয় এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এরপর প্রধান অতিথি সম্মিলিত সাংস্কৃৃতিক জোট, বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক জনাব হাসান আরিফ, উদ্বোধক ভারতের প্রখ্যাত বাচিক শিক্ষক, নাট্যকার শ্রী কাজল সুর, বিশেষ অতিথি কলকাতাস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন এর প্রধান জনাব জামাল হোসেন, ফাস্ট সেক্রেটারী মোফাক্কারুল ইকবাল, শান্তিনিকেতন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের অধ্যাপক কার্তিক ভৌমিক, ভারতের কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব ও বাচিক শিল্পী শ্রী জয়ন্ত ঘোষ, বীর কন্যা প্রীতিলতা ট্রাষ্ট বাংলাদেশ এর সভাপতি শ্রী পংকজ চক্রবর্তীসহ আমাদের বক্তব্যের পালা শেষে ছিল দুই বাংলার শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ভারতের মৌ গুহ ও বাংলাদেশের দিলরুবা খানম এর সঞ্চালনায় বাংলাদেশ ও ভারতের প্রখ্যাত শিল্পীবৃন্দ রাত ১১টা অব্দি অনুষ্ঠানস্থলকে মাতিয়ে রাখে। তন্মধ্যে বাংলাদেশের মনিরুল ইসলাম, দীপক ঘোষ, ভারতের চিন্ময়ী ভট্রাচার্য্য, আবেদিন হক আদি, দিধীতি চক্রবর্তী, দীব্যায়ন ব্যানার্জী, মৌসুমী মূখার্জী এর পরিবেশনা অন্যতম। তাছাড়া বাংলাদেশের সুমন ও আনুশা’র ‘একুশ আছে’ শীর্ষক আবৃত্তি চিরদিন স্মৃতিতে সমুজ্জ্বল থাকবে। এছাড়া নিখিলবঙ্গ বাচিক সংসদের বিশেষ উপস্থাপনা ‘দেবতার গ্রাস’ (সংকলন ও নাট্যরূপ সুলগ্না ব্যানার্জী ) অসাধারণ হয়েছে।
পরদিন শান্তিনিকেতন এর মূল আকর্ষণ ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’ ও ‘বাংলাদেশ ভবন’ পরিদর্শন করার পালা। গেষ্ট হাউস থেকে ‘টোটো’ নিয়ে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যাওয়ার পর সেখান থেকে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়সহ শান্তি নিকেতন এলাকা ঘুরে দেখার জন্য ‘টোটো’ রিজার্ভ করি। উল্লেখ্য, টোটো চালক একজন গাইডও বটে। প্রথমেই গেলাম বহু আকাক্সিক্ষত ‘বাংলাদেশ ভবন’। যেটি বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহায়তায় নির্মিত হয় এবং ২০১৮ সালের ২৫ মে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যৌথভাবে উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ ভবনে প্রবেশে পর উদ্বোধনী ফলকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম এবং ডান পার্শ্বের দেওয়ালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি লাগানো রয়েছে। পাশেই একটি মিউজিয়াম যাতে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির উপাদান সমূহের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। দোতলায় রয়েছে সেমিনার হল ও বাংলাদেশ ভবন গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগারে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত তিন হাজারের বেশী গ্রন্থ রয়েছে। গ্রন্থগুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ হাসিনা, রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কিত, নজরুল সম্পর্কিত ছাড়াও বাংলাভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক বই রয়েছে। গ্রন্থাগারটি বুধবার ও বৃহস্পতিবার (সাপ্তাহিক ছুটির দিন) ছাড়া সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এই ভবনে ছাত্র, শিক্ষক, গবেষকসহ যে কোন দেশী-বিদেশী পর্যটক বিনা টিকেটে প্রবেশ করতে পারে। সব মিলিয়ে এ ভবন যেন বিশ্বভারতীর বুকে একখÐ বাংলাদেশ।
শান্তিনিকেতন এলাকার একটি ঐতিহাসিক স্থান ‘ছাতিম তলা’। রবী ঠাকুরের পিতা যখন প্রথম এই এলাকায় আসেন তখন এই ছাতিম গাছের তলায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ ও আত্মার শান্তি পেয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ছাতিম তলা বর্তমানে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ এবং একটি গেটে লেখা আছে ‘তিনি আমার প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ, আত্মার শান্তি’। এরপর রয়েছে শান্তিনিকেতন বাড়ি, যেটি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর নির্মাণ করলেও কবি গুরু ১২ বছর বয়সে প্রথম শান্তিনিকেতন আসলে এ বাড়িতেই ছিলেন এবং ৪০ বছর বয়সে যখন পুরোপুরি শান্তিনিকেতনে বসবাস শুরু করেন। তখন এই বাড়িতেই থাকতেন। বর্তমানে এটি হেরিটেজ বিল্ডিং, বাড়ির সামনে অনির্বান শিখা নামে একটি চমৎকার শিল্পকীর্তি। এরপর দেখলাম বিশেষ উপাসনাগৃহ। ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রতি বুধবার সকালে এখানে উপাসনা হয়। এই উপসনালয়ের বিশেষত্ব হলো এটি কোন নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয় নয়। যেকোন ধর্মীয় বা সম্প্রদায়ের লোক এতে সাদা জামা কাপড় পড়ে যোগ দিতে পারেন।
উপাসনা গৃহের ঠিক উত্তর পূর্ব কোণে একটি তালগাছকে কেন্দ্র করে গোলাকৃতির খড়ের চালের বাড়ি আছে। এটিকে তালধ্বজ বাড়ী বলা হয়। তাছাড়্ াশান্তিনিকেতন বাড়ির দক্ষিণে গিয়ে অনেক আম গাছ নিয়ে যে এলাকাটি রয়েছে, তা আ¤্রকুঞ্জ নামে পরিচিত। সেখানে একটি স্থায়ী মঞ্চ রয়েছে। উক্ত মঞ্চে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এই আ¤্রকুঞ্জ আরো একটি বিশেষ কারণে ঐতিহাসিক। কারণ রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালের ১৩ নভেম্বর নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর কলকাতা থেকে স্পেশাল ট্রেন যোগে অনেক সুধীজন শাšি নিকেতন এসে রবীন্দ্রনাথকে এই আম্রকুঞ্জে সম্বর্ধনা ও সম্মাননা প্রদর্শন করেছেন। এরপর দেখা মিলল একটি দোতলা বাড়ি, সেটির নাম ‘দেহলি’। রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার পর এই বাড়ীটি প্রস্তুত করেছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর নামানুসারে এই বাড়ীতে মৃণালিনী আনন্দ পাঠশালা শুরু করেছিলেন। চার থেকে ছয় বছরের শিশুদের জন্য গান, ছবি আঁকা ও খেলাধূলার মাধ্যমে তাদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি তৈরী করে দেওয়া এই পাঠশালার উদ্দেশ্য। তাছাড়া শান্তিনিকেতনে বাইরে থেকে দেখতে পেলাম নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন এর বাড়ী ও বাড়ীর বিপরীত দিকে অমর্ত্য সেন এর গবেষণা কেন্দ্র ”এগ্রো-ইকোনোমিক রিসার্চ সেন্টার”।
তারপর গেলাম শান্তিনিকেতনের দর্শকদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় রবীন্দ্র মিউজিয়ামে। মিউজিয়ামের প্রবেশ মূল্য সাধারণের জন্য ৫০ টাকা। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ১০ টাকা ও বিদেশীদের জন্য ৩০০ টাকা। বুধবার ও বৃহস্পতিবার বাদে সপ্তাহে বাকী পাঁচদিন মিউজিয়াম দর্শকদের জন্য উম্মুক্ত থাকে। তবে প্রবেশের পূর্বে ব্যাগ, ক্যামেরা জমা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। মিউজিয়ামে কবিগুরুর বিভিন্ন সময়ের, বয়সের ছবি ছাড়াও মিউজিয়ামে রয়েছে অনেক দুর্লভ সংগ্রহ। যেমন রবীন্দ্রনাথের লেখা চিঠিপত্র, আকাঁ ছবি, বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রদ্ধা স্বরূপ প্রাপ্ত দ্রব্যাদি এই মিউজিয়ামের মূল আকর্ষণ। মিউজিয়ামের পর উত্তরায়ন কমপ্লেক্স এর মধ্যে কবিগুরুর বিভিন্ন সময় ব্যবহৃত পাঁচটি বাড়ী রয়েছে। উত্তরায়নের ‘উদয়ন’ বাড়িটি প্রাসাদ তুল্য। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বহু দেশ-বিদেশের বিখ্যাত মানুষের স্মৃতি বহন করে চলেছে এ বাড়ি। কবির শেষ জন্মদিন (১৯৪১) এই বাড়িতেই পালন করা হয়েছিল। কবি পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনা ও পরিকল্পনায় এ বাড়ি নির্মাণ করা হয়। এরপর রয়েছে ‘কোনার্ক বাড়ী’ এই বাড়িতেও কবি বসবাস করেছেন। পববর্তীতে কবির বিদেশী ভক্ত এনড্রুজ এই বাড়ীতে অনেকদিন বসবাস করেন। ‘শ্যামলী’ বাড়িটি মাটির দেওয়াল ও মাটির ছাদ। কবি এই বাড়িতে এক বছর বাস করলেও ১৯৪০ সালে মহাত্মা গান্ধী সস্ত্রীক এসে শ্যামলী বাড়ীতে বসবাস করেছেন। শ্যামলী বাড়ির দক্ষিণ পূর্ব কোনে বা কোনার্ক বাড়ীর পূর্বদিকে ছোট এক তলা বাড়িটির নাম ‘পূনশ্চ’। ‘পূনশ্চ’র দক্ষিন পূর্ব কোনে দোতলা একটি মাত্র ঘর, তার চারদিকে খোলা, যেন আলো বাতাস ঢোকায় কোন বাধা না ঘটে এই রূপ ভাবে তৈরী হয়েছিল ‘উদীচী’ বাড়ি। তাছাড়া উত্তরায়ন কমপ্লেক্সের অরেক আকর্ষন কবিগুরুর ব্যবহৃত গাড়ী, যা সযতেœ রক্ষিত আছে।
এছাড়া শান্তিনিকেতন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে ‘পিয়ারসন মেমোরিয়াল হসপিটাল’। কবির অত্যন্ত স্নেহের অকালপ্রয়াত বিলেতী পিয়ারসন সাহেবের নামানুসারে এটি নামকরণ করা হয়। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভবন, হিন্দী ভবন, বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ছাড়াও সুদৃশ্য সেন্ট্রাল অফিস, সেন্ট্রাল লাইব্রেরী অন্যতম। বিভিন্ন ভবনে এক ডজনের মত লাইব্রেরী থাকলেও সেন্ট্রাল লাইব্রেরীতে তিন লক্ষাধিক বই রয়েছে। শান্তিনিকেতনে একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে ’পাঠ ভবন’ এ দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যনÍ পাঠদান করা হয়। এছাড়া ভাষা ভবন, বিদ্যা ভবন, কলা ভবন, সঙ্গীত ভবন, শিক্ষা ভবন ও বিনয় ভবনে বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স, মাস্টার্স, এম. ফিল ও পিএইচ ডি’র কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সবশেষে, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথিশালা ’পূর্বপল্লী গেস্ট হাউস’ এর ডাইনিং এ মধ্যাহ্নভোজ শেষ করে পেশাগত ব্যস্ততার কারণে দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করে প্রধান অতিথি জনাব হাসান আরিফ ভাইসহ একটি দল বিকাল ৪.০০ টায় কোলকাতার উদ্দেশ্যে সড়কপথে রওনা হই। পথে বর্ধমান জেলার শক্তিগড় এলাকায় যাত্রাবিরতি করি। কোলকাতার বাচিক শিল্পী ও কবি আবেদীন হক আদী’র পক্ষ থেকে আতিথেয়তা হিসেবে সেখানকার বিখ্যাত ল্যাংচা ও মোচা’র স্বাদ গ্রহণ করি। এরপর বর্ধমান ও হুগলী জেলা অতিক্রম করে সন্ধ্যায় কোলকাতা পৌঁছে রাত্রিযাপন করি এবং পরদিন সকালের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম চলে আসি।
উল্লেখ্য যে, ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর প্রচেষ্টায় গান্ধীজী ও নেহেরুর সহযোগিতায় ১৯৫১ সালে এটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে। প্রথম আচার্য পন্ডিত জওহর লাল নেহেরু ও প্রথম উপাচার্য কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
লেখক : রেজিস্ট্রার, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ