বিলাইছড়ির চাইন্দায় অসুস্থ ৩২ নারী

বিলাইছড়ি প্রতিনিধি

9

রাঙামাটি জেলাধীন বিলাইছড়ি উপজেলার চাইন্দা পাড়ায় প্রায় তিন মাস ধরে ৩২ নারীর অসুস্থতার খবর জানা গেছে। এ অসুস্থতার খবর পাওয়ায় ১১ সেপ্টেম্বর ১নং বিলাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুজন দাশকে সাথে নিয়ে বিলাইছড়ি ইউএনও আসিফ ইকবাল তাদের দেখতে যান।
এ সময় পাড়াবাসী এবং পাড়ার হেডম্যান কালন্দ তঞ্চঙ্গ্যা জানান, গত বাংলা আষাঢ় মাসের ৮ তারিখ অর্থাৎ ২২ জুন স্কুলে পড়–য়া ১৪ থেকে ১৭ বছরের ৭ জন মেয়ে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় রোগীরা বিভিন্ন ধরনের পাগলামি ও আবোল-তাবোল কথা বলে। শরীরে খিঁচুনি আসে। পরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এমন অসুস্থ হওয়ার পর রোগীদের মানসিক অবস্থা আর স্বাভাবিক থাকে না। অনেকটাই সেন্সলেস হয়ে যায়। অসুস্থ হওয়ার পর জ্ঞান ফিরে আসলেও কিছুই স্মরণ করতে পারে না রোগীরা। রোগীদের মাথা ভারি হয়ে যায়। সর্বদা ঝিমুনি অবস্থায় থাকে। পর্যায়ক্রমে এমন রোগে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা বর্তমানে ৩২ জন। এদের মধ্যে ১৪ থেকে ৫৫ বছর বয়সী নারীও আছে বলে জানান তারা। আর রোগীদের অসুখের প্রতিক্রিয়া অনেকের দৈনিক একাধিকবারও হয়ে থাকে। তারা আশংকা করছেন ভবিষ্যতে যদি অন্য নারীরা এমনকি পুরুষরাও এ রোগ আক্রান্ত হলে- পাড়ার অবস্থা কি হতে পারে।
এ রোগের প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে তাদের পাড়ার অনেকে জিনগত সমস্যা এবং অনেককে অসাধু তান্ত্রিক দ্বারা চালান দেওয়া হয়েছে বলেও মনে করছেন।
হেডম্যান কালন্দ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, পাড়ার সকলেই কৃষক এবং খেটে খাওয়া মানুষ। যারা জুমচাষের উপর নির্ভরশীল। যাদের বাড়িতে এমন অসুস্থতা দেখা দিয়েছে তারা একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তারা এ বছর চাষ করতে পারে নি। নিজেদের পেট বাঁচাতে এবং অসুস্থ পরিবারের চিকিৎসা ও দেখা-শুনা করতেই হয়রান হয়ে পড়েছেন। এ কারণে সামনে পাড়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে এমন আশংকা করছেন তিনি। বর্তমানে অসুস্থ পরিবারসমূহ চিকিৎসার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছে। এ কারণে তাদের চিকিৎসার জন্য সুহৃদ কারো আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন পড়েছে বলে দাবী জানান তিনি।
মেডিক্যাল অফিসার ডা. হাবিবুর রহমান হাবিব এর নেতৃত্বে রোগীদের দেখতে বৃহস্পতিবার সকালে বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে একটি মেডিক্যাল টিম সেখানে যায়। এ বিষয়ে ডা. হাবিবুর রহমান জানান, এটা একটা মানসিক সমস্যা। সর্ব প্রথম যারা এমন মানসিক রোগে আক্রান্ত হয় তারা এখন অনেকটা সুস্থ আছে। তবে একজন সিরিয়াস আছে। কেউ গুরুতর হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।