বিপিএল চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

পূর্বদেশ ক্রীড়া ডেস্ক

10

ফাইনাল শব্দটার মধ্যে যুদ্ধের যে ঝাঁঝালো একটা গন্ধ থাকে, সেটা মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ষষ্ঠ আসরের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের ২২ গজেও গতকাল ছবি হয়ে ফুটে উঠল। যেখানে রাজত্ব কায়েম করেন রূপকথার রাজকুমার হয়ে হাজির হওয়া তামিম ইকবাল। পরে রনি তালুকদার, উপুল থারাঙ্গারা শাসন করলেও তামিমের রাজত্বে হানা দিতে পারেননি। ১৭ রানে হারিয়ে দ্বিতীয়বাবের মত বিপিএলের শিরোপা নিজেদের করে নিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পুরো ইনিংসজুড়ে একটি নাম, তামিম ইকবাল। খুনে ব্যাটিংয়ে বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের মহাকাব্যিক ১৪১ রানের সুবাদে জবাবে ৩ উইকেটে ১৯৯ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় কুমিল্লা। জবাবে উপুল থারাঙ্গা ও রনি তালুকদারের দারুণ ব্যাটিংয়ের পরও ১৮২ রানে শেষ হয় ঢাকা ডায়নামাইটসের ইনিংস।
বিপিএলের আগের পাঁচ আসরে জয়ী অধিনায়ক কেবল দুজন। তিনটি দলের হয়ে চারটি আসরে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। একটি আসরে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে সেরার মুকুট জিতেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। ষষ্ঠ আসরে এসে নতুন অধিনায়ক মিলল। বিপিএল ইতিহাসে মাশরাফি ও সাকিবের পর তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে ইমরুল কায়েসের হাতে শোভা পেল শিরোপা।
সামনে বিশাল লক্ষ্য। কিন্তু শিরোপা জয় করতে নেমে বিশাল লক্ষ্যও ভয় ধরাতে পারেনি ঢাকাকে। যদিও তাদের শুরুটা ছিল ভয় পাওয়ার মতোই। স্কোরকার্ডে কোনো রান যোগ না হতেই রান আউট হয়ে ফিরে যান ওপেনার সুনীল নারিন। কিন্তু নারিনকে হারানোর চাপ দলকে বুঝতেই দেননি উপুল থারাঙ্গা ও রনি তালুকদার। শুরুর অংশটুকু ভুলে গিয়ে দাপুটে ব্যাটিং শুরু করেন এই ব্যাটসম্যান।
থারাঙ্গা ও রনির খুনে ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই ৭১ রানে পৌঁছে যায় সাকিব আল হাসানের দল। ৮.৪ ওভারে ১০০ ছাড়ায় দলটি। এমন সময় থামতে হয় থারাঙ্গাকে। ফেরার আগে ২৭ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৮ রান করেন লঙ্কান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। থারাঙ্গার বিদায়ে ওলটপালট হয়ে যায় ঢাকার ইনিংস। দলীয় ১২০ রানে ফিরে যান অধিনায়ক সাকিব।
পরের ওভারে সবচেয়ে বড় আঘাতটি সহ্য করতে হয় ঢাকাকে। রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় রনিকে। ৩৮ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে রনি ফেরার পর টানাপোড়েন লেগে যায় ঢাকার ইনিংসে। দুই ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল ও কাইরন পোলার্ড কিছুক্ষণের ব্যবধানে হার মেনে উইকেট ছাড়েন। ফিরে যান শুভাগত হোমও। শেষের দিকে আশা জাগিয়েও দলকে শিরোপার স্বাদ এনে দিতে পারেননি নুরুল হাসান ও মাহমুদুল হাসান।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের শুরুটা ছিলো ধীর গতির। ওপেনার এভিন লুইস দ্বিতীয় ওভারে ফিরলে তামিম ইকবাল ধীর গতিতে ব্যাট চালিয়ে খেলেন প্রথম দশ ওভার। সঙ্গে এনামুল বিজয়ও খেলতে থাকেন রয়ে সয়ে।
খোলসবন্দী তামিম ইকবাল খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন দশ ওভার পর। প্রথম পাওয়ার প্লেতে রানের চাকা সমৃদ্ধ না হওয়ায় কুমিল্লার সংগ্রহটা যে বেশি হবে না-এক সময় তা মনে হয়েছিলো। সেই ধারণা অবশ্য বারুদ ঠাসা এক ইনিংসে উড়িয়ে দেন তামিম ইকবাল। যার সবটুকু লুকিয়ে রেখেছিলেন প্রথম দিকে। যার বিপিএলে এর আগে ছিলো না কোনও সেঞ্চুরি! একই সঙ্গে এবারই প্রথম বিপিএল ফাইনালে খেললেন কুমিল্লার হয়ে। বিদেশি তারকারা যেখানে আলোকিত করছেন বিপিএল, সেখানে ফাইনালে এক বিধ্বংসী ইনিংসেই সব অতৃপ্তি মেটালেন বাঁহাতি ওপেনার। ৬১ বলে অপরাজিত ছিলেন ১৪১ রানে। ঢাকার বোলারদের ১০টি চার ও ১১টি ছক্কায় শাসন করেছেন শেষ বল পর্যন্ত। মাঝখান দিয়ে ভুল বোঝাবুঝিতে শামসুর রান আউট হলে অধিনায়ক ইমরুল অপর প্রান্তে থেকে সঙ্গ দিয়েছেন শুধু ১৭ রান করে।
অবশ্য এনামুল বিজয় ৩০ বলে ২৪ রানে এলবিডাবিøউ হলেও ভুল সিদ্ধান্তের বলি হয়েছেন দ্রæত। রিভিউ না থাকায় ব্যাটে বল লাগলেও সাজঘরের পথ ধরতে হয়েছে তাকে। ঢাকার অধিনায়ক সাকিব ১ উইকেট নিতে খরচ করেন ৪৫ রান আর রুবেল খরচ করেন ৪৮ রান, বিনিময়ে তিনিও নেন একটি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ইনিংস: ১৯৯/৩ (২০ ওভার)
(তামিম ইকবাল ১৪১*, এভিন লুইস ৬, এনামুল হক ২৪, শামসুর রহমান ০, ইমরুল কায়েস ১৭*: রাসেল ০/৩৭, রুবেল ১/৪৮, সাকিব ১/৪৫, নারিন ০/১৮, অনিক ০/১৯, শুভাগত ০/১৪, মাহমুদুল ০/১২)।
ঢাকা ডায়নামাইটস ইনিংস: ১৮২/৯ (২০ ওভার)
(থারাঙ্গা ৪৮, নারিন ০, রনি তালুকদার ৬৬, সাকিব ৩, পোলার্ড ১৩, রাসেল ৪, নুরুল হাসান সোহান ১৮, শুভাগত হোম ০, মাহমুদুল হাসান ১৫, রুবেল হোসেন ৫*, কাজী অনিক ১*; সাইফউদ্দিন ২/৩৮, মেহেদী হাসান ০/৩০, ওয়াহাব রিয়াজ ৩/২৮, সঞ্জিত সাহা ০/১০, শহীদ আফ্রিদি ০/৩৭, থিসারা পেরেরা ২/৩৫)।