শাহাদাত-এ-কারবালা মাহফিলের ৩য় দিনে দেশি-বিদেশি বক্তাগণ

বিপদেও সত্যে অবিচল থাকা আহলে বায়েতের শিক্ষা

14

জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের ৩য় দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার বক্তারা বলেন, কঠিন বিপদেও সত্যে অবিচল থাকা আহলে বায়েতের শিক্ষা। ইসলামের ঢাল ব্যবহার করে যারা নিরপরাধ মানুষকে খুন করে ও নিরীহ মানুষের ওপর বর্বরতা চালায় তারাই মূলত ইয়াজিদি। যারা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে জড়িত তারা ইয়াজিদি বিকৃত ইসলামের ধারক-বাহক তারা বলেন, ইয়াজিদি নৃশংসতাধর্মী বিভীষিকার ইসলাম নয়, আমরা ইমাম হোসাইনের (রা.) হাতে পুষ্ট মানবিক গণবাদী ইসলামের প্রচার, প্রসার দেখতে চাই।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন চান্দগাঁও আল আমিন বারীয়া দরবার শরিফের সাজ্জাদানশিন পীরে তরিকত আল্লামা শাহসূফি সৈয়দ মুহাম্মদ বদরুদ্দোজা বারী (মা.জি.আ)। তিনি বলেন, কারবালা ময়দান থেকে ইসলাম দুটি ধারায় ভাগ হয়ে গেছে। একদিকে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পতাকাবাহী হোসাইনি ইসলাম। অন্যদিকে অমানবতা, নৃশংসতা ও বর্বরতার কথিত ইয়াজিদি ইসলাম। আমরা হোসাইনি মানবিক ধারার ইসলামের বিশ্বজনীন প্রসার দেখতে চাই। সৈয়দ বদরুদ্দোজা বারী বলেন, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ থেকে ৩৩ বছর আগে সূচিত শাহাদাতে কারবালা মাহফিল আজ সারা দেশে এমনকি সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে উল্লেখ করে এর পেছনে আল্লামা জালাল উদ্দীন আল কাদেরীর (রহ.) অবদানের কথা স্মরণ করেন। মাহফিলে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান ইসলামী চিন্তাবিদ আলহাজ সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আহলে বায়তে রাসূল (দ.) কে আমাদেরকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতে হবে। কেননা তাঁরাই আমাদের দুনিয়া-আখিরাতে নাজাতের একমাত্র উসিলা। জমিয়তুল ফালাহর কারবালা মাহফিল শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা বিশ্বে ঈমানদার জনতাকে নাড়া দিচ্ছে উল্লেখ করে সূফী মিজানুর রহামান বলেন, এই মসজিদ যতোদিন থাকবে, ততোদিন পর্যন্ত মহররম মাসে এই মাহফিল শানদারভাবে আয়োজিত হবে ইনশাআল্লাহ। মাহফিলে বিদেশি আলোচক
ছিলেন মিশর আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসর ড. সৈয়্যদ জামাল ফারুক, লেবানন বৈরুত গেøাবাল ইউনির্ভাসিটির প্রফেসর শাঈখ সৈয়্যদ জামাল মুহাম্মদ শাক্কার আল-হোসাইনী আল-হাশেমী, প্রফেসর ড. সৈয়দ জামাল ফারুক বলেন, ৬১ হিজিরিতে কারবালা ময়দানে ইয়াজিদ যে নৃশংসতা, বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতা চালিয়েছে তা মধ্যযুগের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। ইসলামের জন্য নবী পরিবারের ত্যাগের সিঁড়ি বেয়ে ইসলাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিদেশি আলোচক আল্লামা সৈয়দ জামাল ফারুখ বলেন, হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) দুনিয়ার তাবৎ সত্যানুসন্ধিৎসু মানুষের ঈমানি চেতনার প্রতীক। সেদিন হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) শাহাদাত বরণ করেছেন বলেই ইসলাম আজ বিশ্বজমিনে বিকশিত হয়েছে। ওয়াহীবাদ ও সালাফীদের স্মরূপ উন্মোচন বিষয়ে আলোচনা করেন ঢাকা দারুন্নাজাত ছিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা মুহাম্মদ কফিল উদ্দীন সরকার সালেহী, নবী প্রেমই ঈমান বিষয়ে আলোচনা করেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা আবুল আসাদ মুহাম্মদ জোবাইর রজভী প্রভাষক এবং আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ কাদেরী প্রভাষক, আশেকানে আউলিয়া ফাযিল মাদ্রাসা। আলোচক ড. মাওলানা কফিল উদ্দিন সরকার সালেহি বলেন, খোলাফায়ে রাশেদার শাসনামল ইসলামের সোনালি যুগ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। বিশ্বের সকল যুগের শাসকদের জন্য খোলাফায়ে রাশেদার শাসন ব্যবস্থা মডেল হয়ে আছে।
মাহফিলে অতিথি ছিলেন, আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব মোহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব পেয়ার মোহাম্মদ, আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আবুল হাশেম শাহ, খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র আলহাজ্ব রফিকুল আলম, আলহাজ্ব মাওলানা গোলাম মোস্তফা মুহাম্মদ নুরুন্নবী সিনিয়র আরবী প্রভাষক, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা। কুরআন মজিদ থেকে তেলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক ক্বারী শাইখ আহমদ বিন ইউসুফ আল আযহারী। নাতে রাসূল (দ) পাঠ করেন শায়ের মাওলানা মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন। শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তা ও সদস্যগণসহ বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম ও পদস্থ ব্যক্তিবর্গ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।
আজ ১৪ সেপ্টম্বর শুক্রবার মাহফিলের চতুর্থ দিনে দেশি-বিদেশি আলোচক ও প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম অতিথি ও আলোচক থাকবেন।
উল্লেখ্য, ৬ষ্ঠ দিবস থেকে পর্দা সহকারে মহিলাদের বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা থাকবে।