বিনোদনপ্রেমীদের ঢল কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে

পূর্বদেশ ডেস্ক

18

ঈদুল আজহার টানা ছুটি। সাথে শুক্র ও শনিবার। এত ছুটির ফুরসৎ তো আর সব সময় মেলে না। ঘুরে-বেড়ানোর অপার সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না। তো ঘুরে বেড়ানোর সব পথ যেন মিশে গেছে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে। ছুটি প্রায় শেষ হবার পথে। তবু পর্যটকদের বহর থামছে না। যে কারণে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এখনো লাখো পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। ঈদুল আজহার ছুটি কাটাতে সাগর সৈকতে ভিড় করছে লাখো পর্যটক। সাগরের নীল জলরাশিতে উচ্ছ¡াসে মেতেছে কক্সবাজারে আগত পর্যটকরা। আর পর্যটকের নিরাপত্তা বিধানে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীরা।
ঈদুল আজহার ছুটি কাটাতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে ভিড় করছেন লাখো পর্যটক। ঈদের দিন
থেকে সৈকতের সব পয়েন্টে যেন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও পর্যটন স্পট দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, রামুর বৌদ্ধ মন্দির পর্যটকে মুখরিত। নগর জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে নীল সাগরের সুনীল জলরাশিতে অবিরত ঢেউ এর মাঝে বাঁধভাঙ্গা আনন্দে মেতেছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। তাদের উল্লাসে মুখরিত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। সমুদ্রের ঢেউ আর বিশাল বালিয়াড়ির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগে মুগ্ধ পর্যটকরা।
হোটেল মালিকেরা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে সৈকত ভ্রমণে আসবেন পাঁচ লাখের বেশি পর্যটক। এ সময় হোটেল, মোটেল, কটেজ ও গেস্টহাউস, রেস্তোরাঁর ব্যবসা হবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। বর্ষা মৌসুমের ভ্রমণকে কাজে লাগানোর জন্য ইতিমধ্যে হোটেল-মোটেল মালিকেরা ৪০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়ায় বিশেষ কমিশন দিচ্ছেন।
সমুদ্রসৈকতের কলাতলী এলাকার এক বর্গ কিলোমিটার এলাকায় তারকা মানের আটটিসহ হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজ আছে প্রায় ৪৫০টি। এসব হোটেলে দৈনিক দেড় লাখ মানুষের রাত যাপনের ব্যবস্থা আছে।
ঈদের দিন থেকে লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে আগমন ঘটেছে। ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারে সেই লক্ষ্যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বী বলেন, ঈদের কয়েক দিনের ছুটিতে পাঁচ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটবে। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তার জন্য ১২২ জন ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আরও কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজ করছেন। সৈকতের সব পয়েন্টে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারি রয়েছে বলে জানালেন ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি ইনানীর পাথুরে সৈকত, হিমছড়ির ঝর্ণা, দরিয়ানগর ইকোপার্ক, ডুলাহাজারা সাফারী পার্কসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলোতেও ভিড় করছে পর্যটকরা।