দাবদাহে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস

বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি চাপ নেই গ্যাসের

নিজস্ব প্রতিবেদক

46

এলএনজি পাইপলাইনে গ্যাস না আসা পর্যন্ত কাটছে না চট্টগ্রামের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট। দেশে চলমান দাবদাহে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। গ্যাস সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট সেই দুর্ভোগ আরো বাড়িয়েছে। গ্যাস সংকটে তিন বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না চট্টগ্রামের ১৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রতিদিন সাড়ে ৬শ থেকে সাড়ে ৮শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হচ্ছে।
জানা গেছে, গত কয়েকদিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে বাসা বাড়িতে চুলায় গ্যাসের চাপ কম ছিল। এতে দৈনন্দিন রান্নায় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। নগরীতে চাকুরিজীবী পরিবারগুলোকে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অনেককে হোটেল-রেস্টুরেন্ট থেকে সকালের নাস্তা কিনে খেতে হয়েছে। এছাড়া গত কয়েকদিনে তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে চট্টগ্রাম। চাহিদা মোতাবেক গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ না পাওয়ায় লোডশেডিং করে চট্টগ্রাম সাউদার্ন জোন নিজেদের আওতাধীন বিতরণ ব্যবস্থা সচল রেখেছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে লোডশেডিংয়ের বিষয়ে কোন তথ্য মিলেনি।
পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে বর্তমানে প্রায় ১২ মেগাওয়াটের কমবেশি বিদ্যুতের চাহিদা থাকে। আবহাওয়া উষ্ণ হওয়ার কারণে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে সাড়ে ১২শ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। গত বুধবার (২৪ এপ্রিল) সর্বোচ্চ ১২শ ৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় চট্টগ্রামে।
কিন্তু বর্তমানে ১৫ বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক ৭২৪-৯৩৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৩০০-৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে। পিডিবির দক্ষিণাঞ্চল বিতরণ বিভাগ জাতীয় গ্রিড থেকে এবং লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সেই ঘাটতি সামাল দিচ্ছেন।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে গত ২৫ এপ্রিল ১১শ ৭৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৫ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন হয়েছে ৭৬৫ মেগাওয়াট। একইভাবে ২৪ এপ্রিল ১২শ ৬২ মেগাওয়াট চাহিদার মধ্যে ৯৩৪ মেগাওয়াট, ২৩ এপ্রিল ১২শ ২৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৮৭৪ মেগাওয়াট, ২২ এপ্রিল ১২শ ১১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৮৫২ মেগাওয়াট এবং ২১ এপ্রিল ১১শ ৫৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে চট্টগ্রামে উৎপাদন হয়েছে ৭২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২১ এপ্রিল ২০৮ মিলিয়ন ঘনফুট, ২২ এপ্রিল ২০৫ দশমিক সাত মিলিয়ন ঘনফুট, ২৩ এপ্রিল ২০৬ দশমিক চার মিলিয়ন ঘনফুট, ২৪ এপ্রিল ১৯৯ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সর্বশেষ ২৫ এপ্রিল ২০০ দশমিক ছয় মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেয়েছে কেজিডিসিএল। যে কারণে গ্যাস সরবরাহ করা হয়নি রাউজান ২১০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুই কেন্দ্রে, শিকলবাহা ১৫০ মেগাওয়াট এবং শিকলবাহা ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে। তন্মধ্যে গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে সরকারি তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। ডুয়েল ফুয়েল সুবিধার শিকলবাহা ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্টে ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি।