জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা

বিজ্ঞান বিষয়ে সাজেশানভিত্তিক পরামর্শ

লিটন দাশ গুপ্ত

10

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা জেএসসি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১ নভেম্বর ’১৮ তারিখ থেকে। রুটিন অনুযায়ী বিজ্ঞান (১২৭) বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১০ নভেম্বর শনিবার। এবারের পরীক্ষায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত প্রশ্নের ধারা ও মান বন্টনে দেখা যায়, ৮ম শ্রেণির চূড়ান্ত বা জেএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ে পূর্ণমান ১০০ নম্বরের মধ্যে, নৈর্ব্যক্তিক অর্থাৎ বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) প্রশ্ন থাকবে ৩০ টি, যার প্রতিটিতে ১ নম্বর করে মোট ৩০Χ১ = ৩০ নম্বর। এরপর অবশিষ্ট ৭০ নম্বর থাকবে সৃজনশীল। যা গত বছরেও মান বন্টনের এই ধারা ছিল। সৃজনশীলে মোট ১১ টি উদ্দীপক দেয়া থাকবে, সেখান থেকে যে কোন ৭ টি উদ্দীপক বাছাই করে সৃজনশীল প্রশ্নের আলোকে শিক্ষার্থীকে উত্তর দিতে হবে। এখানে উদ্দীপক হচ্ছে, শিক্ষার্থীর মনে উদ্দীপনা সৃষ্টির জন্যে ছোট একটা মৌলিক অনুচ্ছেদ। এই অনুচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ৪ টি প্রশ্ন থাকবে। যেমনÑ ‘ক’ অংশে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন, যা বই থেকে অর্জিত জ্ঞানের আলোকে, শিক্ষার্থীকে মনে করে উত্তর দিতে হবে; যার মান-১। ‘খ’ অংশে থাকবে অনুধাবনমূলক, যা শিক্ষার্থীকে অনুধাবন করে বা বুঝে, বর্ণনা বা বিবরণ আকারে হবে, যার মান-২। ‘গ’ অংশে থাকবে প্রয়োগমূলক, এখানে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুর সাথে প্রশ্নে প্রদত্ত উদ্দীপকের সম্পর্ক রেখে প্রশ্ন তৈরী করা হবে, যার মান-৩। ‘ঘ’ অংশে থাকবে উচ্চতর দক্ষতা, এক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রী নিজ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার আলোকে সুচিন্তিত নিজস্ব মতামত দিয়ে বিশ্লেষণ কিংবা মূল্যায়ন করতে হবে, যার মান-৪। সেই হিসাবে একটি সৃজনশীল (বড়) প্রশ্নে (১+২+৩+৪)= ১০ নম্বর হচ্ছে।
এখন সাজেশন্স প্রদানের ক্ষেত্রে দেখা যায়, (ক) জ্ঞান মূলক এবং (খ) অনুধাবন মূলক এই দুই ধরনের প্রশ্নে কিছুটা প্রয়োজনীয় প্রশ্ন চিহ্নিত করা গেলেও (গ) প্রয়োগ এবং (ঘ) উচ্চতর দক্ষতায় হুবহু প্রশ্ন চিহ্নিত করে সাজেশন্স আকারে উপস্থাপন কোন প্রকারে সম্ভব নয়, এবং পরীক্ষায়ও কখনো কমন আসবেনা। আর কোন কারনে যদি প্রশ্নকর্তা বা প্রশ্ন প্রণেতা একই রকম পূর্ববর্তী প্রশ্ন বা বই থেকে সরাসরি প্রশ্নপত্রে সংযোজন করে থাকে, তাহলে সৃজনশীল প্রশ্ন হিসাবে প্রশ্নের যোগ্যতা হারাবে। কারণ প্রশ্ন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বলায় আছে উদ্দীপক অবশ্যই মৌলিক হতে হবে। যাহোক, এত কথা বলার মূল কথা হচ্ছে, (ক) জ্ঞানমূলক (খ) অনুধাবনমূলক প্রশ্ন মোটামুটি সাজেশন্স আকারে প্রশ্ন দেয়া যায়, এবং অবশিষ্ট (গ) প্রয়োগ (ঘ) উচ্চতর দক্ষতার সাজেশন্স যথাযথ প্রদান সম্ভব নয়। তবে এক্ষেত্রে জ্ঞান ও অনুধাবনের সাথে সম্পর্ক রেখে সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু বার বার অনুশীলন করতে হবে। উল্লেখ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে জ্ঞান ও অনুধাবন প্রশ্নের সাথে সমন্বয় রেখে, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্ন প্রণয়ন করা হয়ে থাকে। যেমন- ৮ম অধ্যায় (রাসায়নিক বিক্রিয়া), এখানকার বিষয়বস্তু থেকে উদাহরণ স্বরূপ সৃজনশীল একটি প্রশ্ন তৈরী করা যাক।
উদ্দীপক- “পশ্চিম গোমদন্ডী বশরত নগর নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা মিসেস নুরুন্নাহার বেগম ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান ক্লাসে রাসায়নিক বিক্রিয়া অধ্যায়টি পড়াচ্ছিলেন। এই সময় ক্যালসিয়াম অক্সাইড ও অ্যাসিটিক এসিড বিক্রিয়ার কথা বর্ণনা করেন। এই বিষয়বস্তুর সংশ্লিষ্ট পাঠ সম্পর্কে আলোচনা শেষে উক্ত শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদেরকে উল্লেখ করেন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির রূপান্তর ঘটে’’।
(ক)ভিনেগার কী? (জ্ঞান) (খ)রাসায়নিক বিক্রিয়া বলতে কী বুঝ? (অনুধাবন) (গ)অ্যাসিটিক এসিডের পরিবর্তে লেবুর রস দিলে কি ধরণের পরিবর্তন ঘটবে বর্ণনা কর (প্রয়োগ) (ঘ)নুরুন্নাহার ম্যাডাম আলোচনা শেষে যা উল্লেখ করলেন, তার যথার্থতা বিশ্লেষণ কর (উচ্চতর দক্ষতা)।
এখন উদ্দীপকের প্রথম প্রশ্নে দেখা যায় ভিনেগারের রাসায়নিক নাম অ্যাসিটিক এসিড, যা ইথানয়িক এসিডের (৬-১০)% জলীয় দ্রবন, বিষয়বস্তুটি বইয়ের জ্ঞানমূলক অংশ। উদ্দীপকের দ্বিতীয় প্রশ্নে দেখা যায়, রাসায়নিক বিক্রিয়া পড়ে সে কি বুঝল তা অনুধাবন করে লিখবে। উদ্দীপকের তৃতীয় প্রশ্নে দেখা যায়, লেবুর রসে সাইট্রিক এসিড থাকে, আর ক্যালসিয়াম অক্্রাইড মানে চুন যা ক্ষার। অ্যাসিটিক এসিডের পরিবর্তে লেবুর রস বা সাইট্রিক এসিড দিলে, লবণ ও পানি উৎপন্নের বিক্রিয়াটি সমীকরণের মাধ্যমে দেখাতে পারলে উত্তম, যা একটি প্রয়োগ মূলক। উদ্দীপকের চতুর্থ প্রশ্নে (উচ্চতর দক্ষতা) দেখা যায়, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির রূপান্তর ঘটে, এ বিষয়ে মোমবাতি জ্বালালে রাসায়নিক বস্তু মোম থেকে রাসায়নিক শক্তি পরিবর্তিত হয়ে তাপশক্তি ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এখানে দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে ‘জ্ঞানমূলক’ ও ‘অনুধাবনমূলক’ প্রশ্নের সাথে ‘প্রয়োগ’ ও ‘উচ্চতর দক্ষতা’র একটি সম্পর্ক রয়েছে। তাই জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রয়োজনীয় প্রশ্নগুলো সাজেশন্স প্রদান করলে প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্নগুলোর ধারণা পাবে শিক্ষার্থীগণ। এই কথাগুলো আমি আমার বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রী তথা জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সরাসরি বলে থাকি, যা এবার পত্রিকার মাধ্যমে অন্যান্য বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করলাম। এই তো গেল সৃজনশীল ৭০ নম্বরের কথা।
এবার এই পরীক্ষার ৩০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক বিষয়ে কিছু কথা বলি। এখানে আমি মনেকরি ৩০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের বিশেষ কোন সাজেশন্স এর প্রয়োজন পড়েনা। পুরো পাঠ্যপুস্তক বিজ্ঞান বিষয়ের সকল বিষয়বস্তুর আলোকে হাজার হাজার প্রশ্ন প্রণয়ন করা যায়। এখানে হয়ত কয়েক হাজার প্রশ্ন থেকে কয়েক’শ অতি প্রয়োজনীয় প্রশ্ন সাজেশন্সরূপে বাছাই করা যেতে পারে। যা এখানে অর্থাৎ পত্রিকায় এত বিশাল জায়গা দখল করা সম্ভব নয়, একই সাথে বিশেষ কোন প্রয়োজনও পড়েনা, তাছাড়া শতভাগ কমন অনিশ্চিত। তাই এই সকল নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের জন্যে আমার পরামর্শ বা সাজেশন্স হচ্ছে, পুরো পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু পড়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো অধ্যায় ভিত্তিক সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে বারে বারে অনুশীলন করা এবং একই বিষয়বস্তুর আলোকে বিভিন্ন প্রশ্ন চর্চা করা। যাই হোক, এবার আসি অধ্যায়ভিত্তিক কিছু প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের সাজেশন্স যা প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্নেও সহায়ক হবে-
* অধ্যায়-১ (প্রাণি জগতের শ্রেণিবিন্যাস)
জ্ঞানমূলক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঃ মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম, দি¦পদ নামকরণ, শ্রেণি বিন্যাস, শ্রেণি বিন্যাসের জনক, হিমোসিল, সিলোম, আইসিজেটএন, প্রার্ণিজগতের বৃহত্তম পর্ব, পেস্ট, সিলেন্টরণ, নিডারিয়া পর্বের পূর্বনাম, এই সকল বিষয়ের উপর কী, কাকে বলে, সংজ্ঞা লিখ ইত্যাদি আকারে প্রশ্ন আসতে পারে।
অনুধাবনমূলক কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ঃ দ্বিপদ নামকরণ বলতে কী বুঝ, শ্রেণি বিন্যাস কি এর ধাপগুলো ও প্রয়োজনীয়তা লিখ, কুনোব্যাঙকে কেন উভচর প্রাণি বলা হয়, পতঙ্গ প্রাণিদের কিভাবে চেনা যায়, নেমাটোডা ক্ষতিকর কেন ব্যাখ্য, নিডোব্লাস্টের অবস্থান ও কাজ কি, নিডারিয়া পর্বকে সমুদ্রের অলংকার বলা হয় কেন, পাখি কিভাবে উড়তে পারে ব্যাখ্যা, হাইড্রা দ্বিস্তরের প্রাণি ব্যাখ্যা, মলাস্কা পর্বের প্রাণির বাসস্থান বর্ণনা কর ইত্যাদি।
* অধ্যায়-২(জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি)
জ্ঞানমূলক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঃ জিন, ডিএনএ, আরএনএ, মাইটোসিস, মিয়োসিস, ক্যারিওকাইনেসিস, অ্যামাইটোসিস, বংশগতি, ক্রোমোজম, ইন্টারফেজ, সাইটোকাইনেসিস, জাইগোট, এই সকল বিষয়ের উপর কী, কাকে বলে, সংজ্ঞা লিখ ইত্যাদি আকারে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন আসতে পারে।
অনুধাবনমূলক কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ঃ ক্রোমোজমকে বংশগতির বাহক বলা হয় কেন, ক্যারিওকাইনেসিস ও সাইটোকাইনেসিস এর দুটি পার্থক্য, অ্যামাইটোসিস বলতে কি বুঝ ব্যাখ্যা, ইন্টারফেজ বলতে কি বুঝ, ক্যারিওকাইনেসিস সম্পর্কে বুঝিয়ে লিখ, ডিএনএ ও আরএনএ এর পাথর্ক্য লিখ, বংশগতির ব্যাখ্যা দাও ইত্যাদি।
* অধ্যায়-৩ (ব্যাপন, অভি¯্রবন ও প্রস্বেদন)
জ্ঞানমূলক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঃ ব্যাপন, অভি¯্রবন, প্রস্বেদন, অন্তঃঅভি¯্রবণ, দ্রব, দ্রাবক, দ্রবণ, ইমবাবিশন, ভেদ্য পর্দা, পত্ররন্ধ্র, অর্ধভেদ্য পর্দা, অভেদ্য পর্দা, বৈষম্যভেদ্য পর্দা, কোষরস, লেন্টিসেল, স্লালোকসংশ্লেষণ, কৈশিক পানি, এই সকল বিষয়ের উপর কী, কাকে বলে, সংজ্ঞা লিখ ইত্যাদি আকারে প্রশ্ন আসতে পারে।
অনুধাবনমূলক কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ঃ প্রস্বেদনকে প্রয়োজনীয় উপদ্রব্য বলা হয় কেন, কেন প্রস্বেদন দিনের বেলায় হয়, ইমবাইবিশন বলতে কী বুঝ, অভি¯্রবণের জন্যে অর্ধভেদ্য পর্দার প্রয়োজন কেন, ব্যাপন ও অভি¯্রবন এর দুটি করে পার্থক্য লিখ, উদ্ভিদের মূল কাটলে গাছ মরে যায় কেন, পলিথিন কোন ধরণের পর্দা ব্যাখ্যা দাও, বাষ্পমোচন বলতে কি বুঝ ইত্যাদি।
* অধ্যায়-৪ (উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি)
জ্ঞানমূলক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঃ প্রজনন, পরাগায়ন, স্বপরাগায়ন, পরপরাগায়ন, নিষিক্তকরণ, অংকুরোদগম, সম্পূর্ণ ফুল, অসম্পূর্ণ ফুল, ফুলের বৃতি, বৃত্যাংশ, প্রকৃত ফল, অপ্রকৃত ফল, যৌগিক ফল, পরাগ রেণু, টিউবার, টেস্টা-টেগমেন, অফসেট, নিয়ত পুষ্পমঞ্জুরী, মাইক্রোপাইল, ফটোপিরিওডিজম, এই সকল বিষয়ের উপর কী, কাকে বলে, সংজ্ঞা লিখ ইত্যাদি আকারে প্রশ্ন আসতে পারে।
(চলবে…)

অনুধাবনমূলক কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ঃ পুষ্প মঞ্জুরী বলতে কী বুঝ, ঢেঁড়সকে নিরস ফল বলা হয় কেন, কীট পতঙ্গকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয় কেন, পতঙ্গপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য লিখ, স্ব-পরাগায়ন ও পর-পরাগায়ন এর দুটি পার্থক্য লিখ, পতঙ্গ পরাগী ও বায়ু পরাগী ফুলের দুটি পার্থক্য উল্লেখ কর। বুলবিল বলতে কি বুঝ, যৌগিক ফল বলতে কি বুঝ, আনারসকে যৌগিক ফল বলা হয় কেন, অযৌন প্রজনন উদ্ভিদের জন্যে কেন গুরুত্ব, কন্দের কোন অঙ্গ থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্ম নেয় ইত্যাদি।
* অধ্যায়-৫ (সমন্বয় ও নিঃসরণ)
জ্ঞানমূলক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঃ মস্তিষ্ক, গুরুমস্তষ্ক, মস্তিষ্ক প্রধান অংশ, রেচন, রেচনতন্ত্র, স্নায়ূ, স্নায়ুতাড়না, হরমোন, ফাইটোহরমোন, নিউরন, ফ্লোরিজেন, অক্সিন, সিন্যাপস, লোমকূপ, প্রতিবর্ত ক্রিয়া ইত্যাদি জাতীয় ছোট ছোট প্রশ্ন দেখতে হবে।
অনুধাবনমূলক কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ঃ প্রতিবর্তচক্র বলতে কী বুঝ, বৃক্কই প্রধানত রেচন অঙ্গ ব্যাখ্যা দাও, মেরুরজ্জু বলতে কী বুঝ ব্যাখ্যা দাও, রেচন পদার্থ কী ব্যাখ্যা দাও, মস্তিষ্কের মেডুলার কাজ ব্যাখ্যা, রক্তের রং লাল কেন, ফাইটোহরমোন সম্পর্কে বিশদভাবে লিখ, উদ্ভিদের অক্সিনের ভূমিকা লিখ, পাতা সবুজ হয় কেন, মেরুরজ্জুর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা কর, ডেনড্রন সম্পর্কে আলোচনা কর, খাটো উদ্ভিদে জিব্বেরেলিন প্রয়োগ সম্পর্কে লিখ ইত্যাদি।
* অধ্যায়-৬ (পরমানুর গঠন)
জ্ঞানমূলক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঃ পরমানু, পরমানু মডেল, পরমানুর কেন্দ্র, পারমানবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা, আয়ন, অ্যানায়ন, ক্যাটায়ন, আইসোটোপ, অ্যাটোমোস, ইলেকট্রন বিন্যাস, নিউক্লিয়ন, নিউক্লিয়াস, শক্তিস্তর, ইত্যাদি সহ অনু-পরমানু’র বিভিন্ন ধারণা রাখতে হবে।
অনুধাবনমূলক কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ঃ ক্যাটায়ন বলতে কী বুঝ, তেজস্ক্রীয় আইসোটোপ বলতে কী বুঝ, অক্সিজেনের ভরসংখ্যা ১৬ বলতে কী বুঝ, অক্সিজেনের পারমানবিক সংখ্যা ৮ বলতে কী বুঝ, কার্বনের আইসোটোপ ৩ বলতে কী বুঝ, আয়ন কীভাবে সৃষ্টি হয় ব্যাখ্যা কর, নিয়ন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যাখ্যা কর, পরমানু কখন চার্জ নিরপেক্ষ হয় বর্ণনা দাও, পরমানুর স্থায়ী কণিকাসমূহের চার্জ ও প্রকৃতি উল্লেখ, পরমানুর অধিকাংশ জায়গা ফাঁকা ব্যাখ্যা, ইত্যাদি জাতীয় প্রশ্ন দেখতে হবে।
* অধ্যায়-৭ (পৃথিবী ও মহাকর্ষ)
জ্ঞানমূলক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঃ মহাকর্ষ, মহাকর্ষ ধ্রæবক, অভিকর্ষ, মাধ্যাকর্ষণ, অভিকর্ষজ ত্বরণ, ভর, ওজন, ওজনহীনতা, ওজনের এসআই একক, মহাকাশ, জি-এর একক, মহাকাশ, এই সকল বিষয়ের উপর কী, কাকে বলে, সংজ্ঞা লিখ ইত্যাদি আকারে প্রশ্ন আসতে পারে।
অনুধাবনমূলক কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ঃ ভর ও ওজন বলতে কী বুঝ, অভিকর্ষজ ত্বরণ বলতে কী বুঝ, অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ ব্যাখ্যা কর, মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলতে কী বুঝ, নিউটনের মহাকর্ষীয় সূত্রটি ব্যাখ্যা কর, অভিকর্ষজ ত্বরণ ‘জি’ এর মান ৯.৮মিঃ/সেঃ২ বলতে কী বুঝ, কোন বস্তুর ওজন ১৫ কেজি বলতে কী বুঝ, ভূপৃষ্ঠে জি এর মান পরিবর্তনশীল ব্যাখ্যা কর, ওজন বিভিন্ন স্থানে পরিবর্তিত হয় কেন, লিফটে উপরে উঠার সময় নিজেকে ভারী মনে হয় কেন, মহাকাশ ও মহাবিশ্ব কি, গ্যালাক্সী বলতে কী বুঝি, পৃথিবীর মেরু অঞ্চল ও বিষুব অঞ্চলের একই ওজন ভিন্ন হয় কেন?
* অধ্যায়-৮ (রাসায়নিক বিক্রিয়া)
জ্ঞানমূলক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঃ প্রতীক, সংকেত, যোজনী, রাসায়নিক সংকেত, ভিনেগার, তুঁতে, কুইক লাইম, সাইট্রিক এসিড, লাইম ওয়াটার, মিল্ক অফ ম্যাগনেশিয়াম, রাসায়নিক বিক্রিয়া, সংশ্লেষণ বিক্রিয়া, প্রশমন বিক্রিয়া, ড্রাইসেল, গলনাংক, স্ফুটনাংক, দর্শক আয়ন, তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ, খাবার সোডা, ইত্যাদি থেকে সংজ্ঞা, কী-কাকে বলে, এই ধরনের ছোট ছোট জ্ঞানমূলক প্রশ্ন থাকার সম্ভাবনা একই সাথে সংকেত উপযোগী রাসায়নিক পদার্থগুলোর সংকেত দেখতে হবে।
অনুধাবনমূলক কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ঃ সংযোজন / বিয়োজন বিক্রিয়া বলতে কী বুঝ, রাসায়নিক সমীকরণ কী, প্রতিস্থাপন/দহন বিক্রিয়া কী, যৌগ মূলক বলতে কী বুঝ, অ্যমোনিয়া একটি যৌগমুলক ব্যাখ্যা কর, রাসায়নিক বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য লিখ, সকল বিক্রিয়ায় রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে ব্যাখ্যা কর, তড়িৎ বিশ্লেষণ বলতে কী বুঝ, প্রত্যেক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির পরিবর্তন ঘটে বুঝিয়ে বল,
* অধ্যায়-৯ (বর্তনী ও চলবিদ্যুৎ)
জ্ঞানমূলক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঃ বিদ্যুৎ প্রবাহ, তড়িৎ প্রবাহের একক, তড়িৎ বর্তনী, রোধ, রোধের একক, তড়িৎ বর্তনী, পর্যাবৃত্ত প্রবাহ, ভোল্ট মিটার, অ্যামিটার, ওয়াট, ড্রাইসেল, অ্যাম্পিয়ার, এই সকল বিষয়ের উপর কী, কাকে বলে, সংজ্ঞা লিখ ইত্যাদির মত প্রশ্ন থাকতে পারে।
অনুধাবনমূলক কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ঃ ওহমের সূত্রের ব্যাখ্যা দাও, তড়িৎ বিভব পার্থক্য বলতে কী বুঝ, বর্তনীতে কেন ফিউজ ব্যবহার করা হয়, এসি প্রবাহ দিক পরিবর্তন করে ব্যাখ্যা কর, বর্তনীতে বৈদ্যুতিক সুইজ প্রয়োজন কেন, ৫ অ্যাম্পিয়ার ফিউজ বলতে কী বুঝ, ১০ কিলোওহম বলতে কী বুঝ, সমান্তরাল বর্তনী কী বুঝ, পর্যাবৃত্ত প্রবাহ বলতে কী বুঝ,
* অধ্যায়-১০ (অম্ল, ক্ষারক ও লবণ)
জ্ঞানমূলক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঃ অম্ল বা এসিড, ক্ষার, ক্ষারক, লবণ, নির্দেশক, লিটমাস, প্রশমন, ফেনোফথ্যালিন, কী-কাকে বলে এই ধরনের প্রশ্ন এই ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে। এছাড়া এসিটিক এসিড, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, নাইট্রেট, পানি, ইত্যাদির সংকেত গুলো অধিকতর প্রয়োজনীয়।
অনুধাবনমূলক কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ঃ মিল্ক অফ লাইম বলতে কী বুঝ, নির্দেশক কী বুঝিয়ে বল, সকল ক্ষারই ক্ষারক কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয় বুঝিয়ে বল, ক্ষার ও ক্ষারকের প্রধান দুটি পার্থক্য, অ্যামোনিয়/মিথেন এসিড নয় কেন. অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড ক্ষার নয় কেন যুক্তি দাও, সোডিয়াম সালফেট লবণ কেন ব্যাখ্যা দাও, ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোঅক্্রাইড ক্ষার কেন ব্যাখ্যা দাও।
*অধ্যায়-১১ (আলো)
জ্ঞানমূলক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঃ সংকট কোণ, প্রতিসরণ কোণ, ক্রান্তি কোণ, অপটিক্যাল ফাইবার, কৃষ্ণ মন্ডল, শ্বেত মন্ডল, রেটিনা, মরীচিকা, বিবর্ধক কাচ, আইরিশ, ভিট্রিয়াস হিউমার, সরল অনুবীক্ষণ, অ্যাকুয়াস হিউমার, এই সকল বিষয়বস্তুর উপর কী, কাকে বলে, সংজ্ঞা লিখ ইত্যাদি আকারে প্রশ্ন দেখতে হবে।
অনুধাবনমূলক কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ঃ আলোর প্রতিসরণ বলতে কী বুঝ, প্রতিসরণের নীতি সমুহ ব্যাখ্যা দাও, আলোর প্রতিফলন বলতে কী বুঝ, পূর্ণ অভ্যন্তরীন প্রতিফলন বলতে কী বুঝ, সংকট কোণ বলতে কী বুঝ, আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের কারণ কী, ম্যাগনিফাইং গ্লাস কেন ব্যবহার করা হয়? ইত্যাদি প্রশ্নগুলো অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
* অধ্যায়-১২ (মহাকাশ ও উপগ্রহ)
জ্ঞানমূলক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঃ বিশ্ব, মহাবিশ্ব, উপগ্রহ, কৃত্রিম উপগ্রহ, ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, গ্যালাক্সি, সৌরজগত, মহাশূণ্য, সূর্য, সূর্যের নিকটবর্তী নক্ষত্র, বিগব্যাঙ তত্ত¡, মিল্কিওয়ে এই সকল বিষয়ের উপর কী, কাকে বলে, সংজ্ঞা লিখ ইত্যাদি আকারে প্রশ্ন আসতে পারে।
অনুধাবনমূলক কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ঃ মহাবিশ্বের উৎপত্তি ব্যাখ্যা দাও, মহাশূণ্যের বিস্তিৃত ব্যাখ্যা কর, গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য দাও, প্রাকৃতিক উপগ্রহ ও কৃত্রিম উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য কর এসব প্রশ্ন গুলো দেখতে হবে।
* অধ্যায়-১৩ (খাদ্য ও পুষ্টি)
জ্ঞানমূলক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঃ খাদ্য, সুষম খাদ্য, খাদ্য উপাদান, ভিটামিন, পুষ্টি, রাফেজ, মৌল বিপাক, কিলোক্যালরি, প্রোটিন, অস্টিওম্যালোশিয়া, অ্যামাইনো এসিড, এই সকল বিষয়ের উপর কী, কাকে বলে, সংজ্ঞা লিখ ইত্যাদি আকারে প্রশ্ন আসতে পারে।
অনুধাবনমূলক কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ঃ খাদ্যের পুষ্টিমান বুঝিয়ে বল, দেহে খাদ্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর, সুষম খাদ্য কী বুঝিয়ে দাও, বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে দাও, রাফেজ সম্পর্কে কিছু বল, ভিটামিন এ বা সি এর উৎসগুলো কি, আমাদের খনিজ লবণের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর, এ্যানেমিয়া বলতে কী বুঝ, চাল একটি শর্করা জাতীয় খাদ্য ব্যাখ্যা কর, জেরপথালমিয়া কী ধরনের রোগ ব্যাখ্যা কর ইত্যাদি।
* অধ্যায়-১৪ (পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র)
জ্ঞানমূলক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঃ খাদ্য, খাদ্যজাল, খাদ্যশৃঙ্খল, খাদক, উৎপাদক, বাস্তুসংস্থান, ফাইটোপ্লাঙ্কটন, বিয়োজক, জু প্লা্কংটন, ম্যানগ্রোভ বন, জৈব উপাদান, বাস্তুতন্ত্র, ইত্যাদি বিষয়বস্তু উপর ভিত্তি করে কী-কখন-কাকে বলে বা সংজ্ঞা আকারে জ্ঞান মূলক প্রশ্ন থাকবে।
অনুধাবনমূলক কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ঃ উৎপাদক বলতে কী বুঝ, বিয়োজক বলতে কী বুঝ, ছত্রাক এক ধরনের বিয়োজক ব্যাখ্যা সুন্দরবনকে স্থলজ বাস্তুসংস্থান বলা হয় কেন, খাদ্যশৃঙ্খল বলতে কী বুঝায়, খাদ্যজাল বলতে কী বুঝ ব্যাখ্যা কর, তৃনভোজী প্রাণী বলতে কী বুঝ,
উপর্যুক্ত বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নসমূহ জেএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ, যা সাজেশন্সরূপে গ্রহন করা যাবে। এছাড়া সকল ছাত্রছাত্রী অর্থাৎ জেএসসি পরীক্ষার্থী তাদের নিজ নিজ মেধা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী, উল্লেখিত জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের সাথে সমন্বয় রেখে প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা বিষয়ক প্রশ্ন অনুশীলন করতে করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভালো ফলাফলের জন্যে মনোযোগ সহকারে পড়ালেখার কোন বিকল্প নেই। অতীতে আমাদের ছাত্রছাত্রী যারা বৃত্তি পেয়েছে তারাই এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আজ আর নয়, ধন্যবাদ ২০১৮ সালের সকল জেএসসি পরীক্ষার্থীকে, একইসাথে রইল শুভকামনা। পরামর্শদাতাঃ প্রধান শিক্ষক, পশ্চিম গোমদন্ডী বশরত নগর সরকারি নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।