বিচারক নিয়োগে আইনের খসড়া ‘প্রস্তুত’

25

উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইনের খসড়া প্রায় প্রস্তুত বলে জানিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কিছুদিনের মধ্যেই খসড়াটি পাসের জন্য মন্ত্রিপরিষদে তোলা হবে। ২০১৩ সালে অধস্তন আদালতে তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের মধ্যে শনিবার সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। বিচারক নিয়োগে যোগ্যতা নির্ধারণ করে আইন প্রণয়নে বিলম্বে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি অসন্তোষ প্রকাশের চারদিন পর আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য এলো। খবর বিডিনিউজের
রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, “আমি আপনাদের বলতে পারি, অনেকেই এখানে দাঁড়িয়ে বলেছেন, অনেকেই দাবি করেছেন যে, বিজ্ঞ বিচারপতি বানানোর জন্য একটা আইন প্রয়োজন। আমি সম্পূর্ণ একমত এই ব্যাপারে এবং এ কথাও বলতে চাই যে, এই আইন করার শুধু প্রস্তুতি নয়, এই আইনটার ড্রাফট তৈরি প্রায় হয়ে গেছে। আমি মনে করি যে, কিছু দিনের মধ্যেই এটি কেবিনেটে অ্যাপ্রুভালের জন্য নিয়ে যেতে পারব।”
তবে আইনের মাধ্যমেই ভালো বিচারপতি নিয়োগ হবে, তা নিয়ে সন্দিহান আইনমন্ত্রী। “আমি বলব, আইন দিয়েই না, পেশায় কাজ করে যারা অত্যন্ত উজ্জ্বল নক্ষত্র তারা কিন্তু বিচারপতি হতে পারেন না। আমি বলতে পারি প্র্যাকটিসিং আইনজীবী যারা বিচারপতি হয়েছেন তাদের সংখ্যা অত্যন্ত কম পাকিস্তান আমল থেকেই। এর কারণ হচ্ছে আইনাঙ্গনে আইন পেশাটা করার মধ্যে একটা মজা আছে। আর বিচারপতি হওয়ার মাঝে আরেকটা মজা আছে। যারা আইন পেশার মজা পেয়ে গেছেন তারা আর বেঞ্চে যেতে চান না। তবে ইনশাল্লাহ এই দাবি (আইন প্রণয়ন) আমরা পূরণ করব। নতুন একটা আইনের মাধ্যমে সবচেয়ে ভাল আইনজীবী যেন বিচারপতি হতে পারেন।”
আইনমন্ত্রী বার কাউন্সিলের আইনজীবী কল্যাণ তহবিলে বড় অনুদানের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বর্তমান বার কাউন্সিল ভবন ভেঙে পঞ্চাশ তলা ভবন করার পরিকল্পনার কথা জানান। অনুষ্ঠানে সনদপ্রাপ্ত আইনজীবীদের শপথ পাঠ করান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। পরে কয়েকজনের হাতে সনদও তুলে দেন তিনি। অনুষ্ঠানে ২০১৩ সালের ৬ এপ্রিল অধস্তন আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজারকে অনুষ্ঠানে সনদ দেওয়া হয়।