সংসদ নির্বাচন

বিচারকদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিলেন সিইসি

8

নির্বাচনী কাজে বিচারকদের দৃশ্যমান হয়ে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সদস্যদের ব্রিফিংয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা প্রত্যেকদিন শত শত অভিযোগ পাই। কিন্তু অভিযোগগুলো আমাদের কাছে আসার কথা না, কারণ আপনারা সেখানে রয়েছেন। আমরা অভিযোগগুলো আপনাদের কাছে পাঠিয়ে দেব। কিন্তু প্রয়োজন ছিল, অভিযোগগুলো সরাসরি আপনাদের কাছে যাবে, কিন্তু যায় না।” খবর বিডিনিউজের
ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে রয়েছেন সহকারী ও যুগ্ম জেলা বিচারকরা। তাদের উদ্দেশ্য করে সিইসি বলেন, “আপনাদের ভিজিবল হতে হবে। তার মানে এখন পর্যন্ত কিন্তু ভিজিবল হননি, বাস্তবতা হল এটা। তার কারণ আপনাদের যে এতো বড় দায়িত্ব আছে, সে সম্পর্কে মানুষ ওয়াকিবহাল না। ওকাকিবহাল হবেন তখনই যখন আপনারা ভাইব্রেন্ট হবেন, ভিজিবল হবেন। আপনাদের কাজের মাধ্যমে পরিচিতি যখন বাড়বে, আপনাদের ওপর মানুষ আস্থা রাখবে, আপনাদের যখন চিনবে, আপনাদের কমিটিকে যখন চিনবে- তখন থেকে আপনাদের ওপর দায়িত্ব আসবে। ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে আর শত শত অভিযোগ আসবে না।”
দেশের ৩০০টি আসনের ১২২টি স্থানে এই কমিটির সদস্যদের এলাকা ভাগ করা হয়েছে। ২৫ নভেম্বর ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি গঠনের পর থেকে আশানুরূপ তদন্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
সিইসি বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম একটা করে হলেও ১২২টি তদন্ত সম্পন্ন হবে। সে প্রত্যাশা ছিল আমাদের। কিন্তু ১০০টিও না, ২২টিও হয়নি। কেননা এখন পর্যন্ত আপনারা প্রস্তুতি নিয়ে গুছিয়ে উঠতে পারেননি। আপনারা আপনাদের করণীয় যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে মানুষের অভিযোগ শুনবেন, আমলে নেবেন। যেন অভিযোগ ঢাকা পর্যন্ত না এসে এলাকায় বসে সমাধান পায়।”
নূরুল হুদা বলেন, “সরকারের উদ্দেশ্য ছিল আরপিও পরিবর্তন করে আপনাদের মানুষের কাছে একেবারে প্রতিটা মানুষের, প্রতিটা সমস্যার কাছাকাছি থেকে যেন তারা সমাধান পায়- সেই ব্যবস্থা করা। তারা যেন তাদের সমস্যা নিয়ে এখানে ওখানে ছোটাছুটি না করে আপনাদের সামনে পেয়ে আপনাদের কাছ থেকে অভিযোগগুলো পেশ করতে পারে। আপনাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, সে দায়িত্ব পালনে আপনাদের প্রোঅ্যাক্টিভ হতে হবে। মানুষকে জানাতে হবে আপনারা আছেন।”
অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, “আইনের শাসন না থাকলে গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে পড়ে। আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। নির্বাচন আইনানুগ না হলে সে নির্বাচন কালো নির্বাচন। আমরা কালো নয়, স্বচ্ছ সাদা নির্বাচন করতে চাই।”
ব্রিফিংয় আরও বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।