বিক্ষোভের মুখে অস্ত্র বোঝাই না করেই ফ্রান্স ছাড়লো সৌদি জাহাজ

4

অস্ত্র নিতে ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় একটি বন্দরে যাওয়া সৌদি আরবের একটি জাহাজ অস্ত্র ছাড়াই ফিরতে বাধ্য হয়েছে। ফরাসি অস্ত্র ব্যবহার করে ইয়েমেন যুদ্ধে বেসামরিক মানুষ হত্যার নথি ফাঁসের পর একটি মানবাধিকার গ্রæপ জাহাজটিতে অস্ত্র বোঝাই ঠেকানোর আইনি চেষ্টা চালায়। এর একদিন পরই শুক্রবার সৌদি জাহাজটি স্পেন অভিমুখে রওনা দিয়েছে। জাহাজটিতে অস্ত্র বোঝাই করা ঠেকাতে বৃহস্পতিবার জাহাজটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অস্ত্র চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে ক্রিশ্চিয়ান অ্যাকশন ফর দ্য অ্যাবোলিশন অব টর্চার (এসিএটি)।
ফরাসি বিচারকরা তাদের অভিযোগ বাতিল করে দিলেও বাহরি ইয়ানবু নামের জাহাজটি কিছুক্ষণের মধ্যেই লা হার্বে বন্দর ছেড়ে যায়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, কী কারণে জাহাজটি তাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে এসিএটি-এর এক আইনজীবী দাবি করেছেন, আইনি পথে ব্যর্থতার পর ব্যক্তি ও এনজিও পর্যায়ের চাপের কারণে অস্ত্র ছাড়াই জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছেন তারা।কয়েকদিন আগে ফ্রান্সের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি নথি ফাঁস করে দেয় একটি অনুসন্ধানী ওয়েবসাইট। ওই নথিতে দেখা যায়, সৌদি আরবের কাছে ফ্রান্সের বিক্রি করা ট্যাঙ্ক এবং লেসার নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অস্ত্র ইয়েমেন যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর পরই সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি ঠেকাতে আইনি উদ্যোগ নেয় মানবাধিকার গ্রুপ এসিএটি।
এসিএটি-এর আইনজীবী লরেন্স গ্রেইগ ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শুক্রবার জানিয়েছেন, কোনও অস্ত্র না নিয়েই জাহাজটি বন্দর ছেড়ে গেছে। তিনি বলেন, এটা নির্বাহীদের জন্য চরম বিব্রতকর। কারণ আমরা চেয়েছিলাম আইনি পথে এটা থামাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন আমরা আমাদের বিরুদ্ধে খুবই চাঁছাছোলা সিদ্ধান্ত পেলাম তখন ব্যক্তি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার চাপের কারণে ইতিবাচক ফলাফল আসলো। চার বছর ধরে চলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে বহু বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে। সৌদি জোটের অভিযানের কারণে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ছাড়াও দেশটির অধিকাংশ মানুষ এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সৌদি আরবের অন্যতম অস্ত্র সরবরাহক ফ্রান্স। ২০১৭ সালে দেশটি রিয়াদের কাছে দেড়শো কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে।
বিক্ষোভের মুখেও বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রন অস্ত্র বিক্রির পক্ষাবলস্বন করেন। তিনি দাবি করেন সৌদি আরব আর সংযুক্ত আরব আমিরাত মিত্র হিসেবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। আর প্যারিস নিশ্চয়তা পেয়েছে যে এসব অস্ত্র বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার হবে না। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্টের নিশ্চয়তার দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন ফ্রান্সের অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা আইমেরিক এলুয়িন। তিনি বলেন, এটা বলা যথেষ্ট নয় যে আমরা নিশ্চয়তা পেয়েছি, আমাদের সেই নিশ্চয়তা দেখাতে হবে। একই সাথে আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই সৌদি আরব কিভাবে ইয়েমেনে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।