বিক্ষোভকারীদের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ক্ষমা চাইলো দক্ষিণ কোরিয়া

8

৩৮ বছর আগের এক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষোভকারীদের ওপর সংঘটিত যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ক্ষমা চাইলো দক্ষিণ কোরিয়া। ক’দিন আগে নাগরিকদের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ক্ষমা চেয়ে অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করে অস্ট্রেলিয়া। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৮০ সালে গুয়াংজু শহরে বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর যৌন নিপীড়নের ঘটনায় মঙ্গলবার ক্ষমা প্রার্থনা করেন দক্ষিণ কোরীয় প্রধানমন্ত্রী। এবার যৌন নিপীড়নের ওইসব ঘটনাকে ‘অবর্ণনীয় কষ্টের’ অভিজ্ঞতা আখ্যা দিয়ে ক্ষমা চাইলের সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তবে একে যথেষ্ট বলে মানতে নারাজ ধর্ষণের শিকার নারীরা। দায়ী সেনা সদস্যদের যথাযথ শাস্তির দাবি তুলেছেন তারা।১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় জেনারেল চুন ডু হুয়ানের সামরিক অভ্যুত্থানের পরের বছর সামরিক শাসন বিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর গুয়াংজু। ওই বিক্ষোভ দমনে পাঠানো হয় সেনাবাহিনী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেনা অভিযানের পর কমপক্ষে দুইশো মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। সে দেশের উদারপন্থী সরকারের সাম্প্রতিক এক তদন্তে গুয়াংজুর বিক্ষোভ দমনের সময় ১৭টি যৌন নির্যাতনের ঘটনা চিহ্নিত হয়। বুধবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিয়ং কিয়ং ডুয়ো জানান, তদন্তে দেখা গেছে সেনা সদস্যরা ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আমি আন্তরিকভাবে নত হয়ে অবর্ণনীয়, গভীর ক্ষতচিহ্ন ও কষ্ট বয়ে বেড়ানো নিরীহদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
ওই সময়ে যৌন নির্যাতনের সন্দেহ করা হলেও ইস্যুটি এতদিন আড়ালে ছিল। ২০১৭ সালে উদারপন্থী প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন ক্ষমতাসীন হয়েই গুয়াংজুর নৃশংসতা তদন্ত পুনরায় শুরুর কথা বলেন। নিপীড়নের শিকারদের মধ্যে গর্ভবর্তী নারী ও মেয়ে শিশুরাও ছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী লি নাক ইয়নও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ‘অযথা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে নারীদের জীবন পদদলিত করা হয়েছে… আমি অসম্ভব কষ্ট পাচ্ছি’।