বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিলেন

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির আহব্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

37


মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিনে এসে বিএনপির প্রার্থীরা এখনো নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোট প্রদানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহবানও জানান তারা। একই সাথে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলেও মনে করছেন প্রার্থীরা।
গতকাল বুধবার শেষ দিনে চট্টগ্রামে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীরা। নগরীর তিন আসন ছাড়াও জেলার কয়েকটি আসনের বেশ কয়েকজন প্রার্থী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এসে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ৬টি আসনের (চট্টগ্রাম-৪, ৫, ৮, ৯, ১০ ও ১১) প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা নেয়া হয় বিভাগীয় কমিশনারের কনফারেন্স রুমে। বাকি ১০টি আসনের মনোনয়ন ফরম জমা নেয়া হয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে।
মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রথমেই ফরম জমা দেন সন্দ্বীপ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা। দুপুর ১২টার একটু আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আসেন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনের মনোনয়ন ফরম জমা দেন তিনি। ফরম জমা দেওয়ার পর তিনি বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এখনও সরকারের পদলেহী আচরণ করছে। নির্বাচন কমিশনকে আহব্বান জানাব, তারা যেন দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করে।
তিনি বলেন, বিএনপির তৃণমূল সংগঠিত। বর্তমানে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে সেটা জাতীয় আন্দোলন, কোনো দলীয় আন্দোলন নয়। জাতীয় সমস্যা নিরসনের জন্য এ আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন জাতীয় স্বার্থকে যেন প্রাধান্য দেয়।
আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো সে পরিবেশ চাই। নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, লেভেল প্লিয়িং ফিল্ড চাই। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়ী হবে।
আবদুল্লাহ আল নোমান মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসে উপস্থিত হন চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম মোরশেদ খান। মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার পর তিনি বলেন, আন্দোলন এবং নির্বাচন একসাথে হবে। শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির সব প্রার্থী নির্বাচিত হবেন।
একই আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে এম মোরশেদ খান বলেন, কৌশলগত কারণে দল একাধিক প্রার্থী দিয়েছে। এটা নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। পার্টির সুবিধার জন্য এমন কৌশল নেওয়া হয়েছে। এটা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কৌশল। কোনো প্রার্থীকে বাদ দিলেও নির্বাচনে কোনো কোন্দল হবে না। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর জন্য কাজ করবো।
মনোনয়ন ফরম জমা দেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী গাজী শাহজাহান জুয়েল। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিতের নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। সকল প্রার্থীর প্রতি যেন সমান আচরণ করে। ৩০ ডিসেম্বর যেন মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট প্রয়োগ করতে পারেন।
তিনি বলেন, হয়রানি থেমে নেই। অনেক নেতাকর্মী কারাগারে, হয়রানি হচ্ছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। আমাদের কর্মীরা খুবই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারা সমস্ত হয়রানি উপেক্ষা করে জনগণের ভোটাধিকার পাহারা দিবে। আমাদের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দেন। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত। জোট আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে বাঁশখালী আসনে। হামলা-মামলা যতোই হোক আমরা নির্বাচন করবো। জয় নিয়েই ফিরবো।
তিনি বলেন, কোন্দল কোন্দল করে আমাদের মধ্যে অনেকে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চেয়েছে। আমাদের মধ্যে কোনো কোন্দল হবে না। দল যাকে মনোনয়ন দিবে তিনি নির্বাচন করবেন। বাকিরা তাকে সহযোগিতা করবে। এখানে কোনো বিভক্তি নেই।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিএনপির অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন ও মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসনে কারান্তরীণ আসলাম চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই ইছহাক কাদের, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর (অব.) ইব্রাহিম ও ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে সামির কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, লায়ন মুহাম্মদ শওকত আলী নূর ও কারান্তরীণ প্রফেসর কুতুব উদ্দিনের পক্ষে তার সহযোগীরা মনোনয়ন ফরম জমা দেন।
এছাড়া চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনে নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে শামসুল আলম, কারান্তরীণ নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষে নেতৃবৃন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম, কারান্তরীণ সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের পক্ষে নগর বিএনপি নেতা ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) আসনে মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর) আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে সরওয়ার জামান নিজাম ও মোস্তাফিজুর রহমান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।