বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে অভিযান

বাড়তি ভাড়া ফেরত নিয়ে দিলেন ম্যাজিস্ট্রেট

পূর্বদেশ ডেস্ক

41

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে সকাল থেকেই ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিলো নগরের অলংকার এলাকার বাস কাউন্টারে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট লোকজন এ সুযোগে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ বাস ভাড়া আদায় করছিলেন যাত্রীদের কাছ থেকে। তবে সকালের এ চিত্র দুপুর হতেই পাল্টে যায়!গতকাল সোমবার বেলা ১২ টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সামাদ শিকদারের নেতৃত্বে অলংকার মোড় ও একে খান গেট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হলে বাড়তি বাস ভাড়া নেওয়া বন্ধ করে দেন পরিবহন চালক-মালিকরা। এ সময় বাসে অপেক্ষা করা গিয়াস উদ্দিন নামের এক যাত্রী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ করেন মেঘনা পরিবহনের বাস কাউন্টারের লোকজন ২০০ টাকার বাস ভাড়া তার কাছ থেকে ৩০০ টাকা আদায় করেছে।
যাত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেঘনা পরিবহনে যান ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সামাদ শিকদার। গিয়াস উদ্দিনসহ ঐ বাসের ৪০ জন যাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি নেওয়া টাকা ফেরত দিতে মেঘনা পরিবহনকে নির্দেশ দেন তিনি। পরে অলংকার এলাকায় সড়কে দাঁড়ানো বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাসে ওঠে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সামাদ শিকদার। এ সময় যেসব বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে, সেসব বাসের লোকজনকে বাড়তি ভাড়া ফেরত দিতে নির্দেশ দেন তিনি। খবর বাংলানিউজের
বাসের ফিটনেস, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজও পরীক্ষা করে দেখেন তিনি। ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সামাদ শিকদার বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষকে জিম্মি করে বাড়তি বাস ভাড়া আদায় করেন পরিবহন সংশ্লিষ্ট লোকজন। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তিনি বলেন, নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবার থেকেই নগরের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ঈদ যাত্রার শেষ দিন পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।এক প্রশ্নের উত্তরে আবদুস সামাদ শিকদার বলেন, অভিযান শেষে পরিবহন সংশ্লিষ্ট লোকজন যাতে ফের বাড়তি ভাড়া আদায় করতে না পারেন সেজন্য আমাদের ৩৩৩ হট লাইন সব সময় চালু আছে। যাত্রীদের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা নেবো।এদিকে নগরের নতুন ব্রিজ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম। এ সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধে ৭ বাস কাউন্টারকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় কাগজ না থাকায় ৪ গাড়ির চালক-মালিককে ৫ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করেন তিনি।