বিআরটিএ’র অভিযান

বাড়তি ভাড়ার দায়ে ৬৯ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

13

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দোহাজারী যাচ্ছিলেন মো. আজাদ হোসেন। বাসে তিনি নিয়মিত ভাড়া দেন ৬০ টাকা। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে লোকাল বাসগুলো। বিষয়টি ম্যাজিস্ট্রেটের নজরে আনলে অভিযান চালিয়ে ওই পরিবহনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ম্যাজিস্ট্রেট।
আবার গাড়ির ভাড়া এবং সিট নিয়ে কয়েক জায়গায় হেলপার যাত্রীদের মধ্যে তর্কাতর্কি এমনকি হাতাহাতিও হয়েছে। যাত্রী মো. এজাজ অভিযোগ করেন, ভাড়া কম নিতে বলায় আমাকে ধমক দেয় হেলপার। এর প্রতিবাদ করতেই মুখে ঘুষি মারে আর অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে।
গতকাল শনিবার দুপুর ২টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে আট
ঘণ্টা নগরীর দামপাড়া, এ কে খান, বায়েজিদ ক্যান্টনমেন্ট-অক্সিজেন মোড় এবং শাহ আমানত সেতুর দুই পাশে অভিযান চালান বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক। এ সময় কয়েকটি কাউন্টার এবং গাড়ি মিলিয়ে ১০ মামলায় মোট ৬৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন তিনি।
ঈদ উপলক্ষে বাড়তি ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির বিষয়টি নিয়মিত মনিটরিং এর অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে জানিয়েছেন বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক ওমর ফারুক। ঈদুল আযহা উপলক্ষে অগ্রিম টিকেট কাউন্টারে বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে কিনা এবং কাউন্টারগুলোতে ভাড়ার চার্ট আছে কিনা তা তদারকি করার পাশাপাশি জরিমানা এবং মামলা দিচ্ছেন ম্যাজিস্ট্রেট।
শাহ আমানত সেতু এলাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাচ্ছেন এক চালক। ম্যাজিস্ট্রেট দেখলেন গাড়ির ফিটনেস এবং চালকের লাইসেন্স নেই। পরে মামলা দিয়ে সাবধানে গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এসময় তিন ঘণ্টা বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন তিনি।
্কলেজছাত্র মো. জায়েদ বলেন, বাঁশখালীর গুণাগরি থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত ভাড়া ৫০ টাকা আর আজ (শনিবার) নিলো ১০০ টাকা, তাও নতুন ব্রিজ পর্যন্ত। এখানে তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাড়া নৈরাজ্য চালাচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. তারেকুল ইসলাম বলেন, সাতকানিয়ার ভাড়া ৭০ টাকার স্থলে নিচ্ছে ১৫০ টাকা।
আরকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা বলেন, আমাদের লাইনের অন্তর্ভুক্ত গাড়িগুলো কখনো টিকেটের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নিবে না। আমরা সেগুলো পর্যবেক্ষণ করার জন্যে নতুন ব্রিজে ২৪ ঘণ্টা একটি টিমকে বসিয়ে রেখেছি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মনজুরুল হক পূর্বদেশকে বলেন, অক্সিজেন, শাহ আমানত ব্রিজসহ কয়েকটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছি। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন যাবত চালক-হেলপারদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার ও যেকোনও বন্ধের আগের দিন এসব রুটে ভাড়ায় নৈরাজ্য চলে। যাত্রীদের জিম্মি করে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করা হয়। তিনি বলেন, কোরবানির ঈদ পর্যন্ত চট্টগ্রামের কাউন্টারগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজনে ছদ্মবেশে থাকবো। অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।