চবি শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানি

বাসচালক বিপ্লব তিন দিনের রিমান্ডে

চবি প্রতিনিধি

51

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় বাসটির চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে নগরীর অক্সিজেন মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় ওই বাসটিও জব্দ করা হয়। ওই চালকের নাম বিপ্লব দেবনাথ (২৫)।
গতকাল শনিবার বিকালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার জাহানের আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাব উদ্দিন আহমেদ।
তবে চালকের সহকারী এখনও পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় চলন্ত বাসে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছিলেন অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী। এসময় বাস চালকের সহকারী তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তার শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে ওই সহকারীর চোখে আঘাত করে নিজেকে ছাড়িয়ে নেন। এরপরই চলন্ত বাস থেকে ঝাঁপ দেন তিনি। পরে শুক্রবার বিকালে নগরীর কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী।
মজা করে তোলা ছবিতে শনাক্ত বাস:
গত বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নাম্বার গেট থেকে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীসহ চার সহপাঠী একই বাসে উঠেন। বাসে দুই সহপাঠী ঘুমালে একজন মজা করে ঘুমের ছবি তুলেন। এর মধ্যে দুজন নগরীর মুরাদপুর নেমে যান এবং একজন জিইসি মোড়ে নেমে যান। আর নগরীর রিয়াজ উদ্দিন বাজারে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার হন প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী। শুক্রবার বিকালে ভুক্তভোগী, তার সহপাঠীরা, পরিবার ও কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী কোতোয়ালী থানায় এসে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তরী বাস মালিক সমিতির নেতা ও লাইনম্যানকে ডেকে বিষয়টি অবহিত করেন। ভুক্তভোগী এবং ওই বাসে থাকা সহপাঠীরা বাসটির এবং চালক-সহকারীর বর্ণনা দেন। তবে তারা বাসটির নাম্বার জানাতে পারেননি। এর মধ্যে একজন আগের দিন মোবাইলে তোলা বাসের ভেতরে ঘুমের ছবির কথা জানান। পরে এই ছবি নিয়ে তিন নাম্বার রুটের লাইনম্যান বাস চিহ্নিত করতে নেমে পড়েন। আর পুলিশ বাসে থাকা দুজনকে নিয়ে কন্ট্রোল রুমে সিসিটিভি ফুটেজ দিয়ে শনাক্তের চেষ্টা করেন।
সন্ধ্যার দিকে নগরীর অক্সিজেন মোড়ে গিয়ে সবুজ রংয়ের বাসের ভেতরের ছবি মেলাতে শুরু করেন লাইনম্যান। এরপর বাসটি ভেতরের সিটের কাপড়ের সঙ্গে ছবির মিলে গেলে বাসটি আটকে রাখে তারা। পরে পুলিশ এসে বাসটি জব্দ করে এবং ওই বাস থাকা চালক-সহকারীকে আটক করে থানা নিয়ে আসেন। বাসটিতে থাকা অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রীরা এসে বাসটি শনাক্ত করেন। বাসে থাকা একটি বিজ্ঞাপনের স্টিকারও সহায়তা করে। পরে আটককৃত দুজনের মধ্যে বিপ্লব দেবনাথ নামে একজনকে শনাক্ত করে তারা। যিনি ওই বাসটির চালক। তবে সহকারী জাকির এখনও পলাতক রয়েছে।
ওই রুটের লাইনম্যান আলী আব্দুল্লাহ বাবু পূর্বদেশকে বলেন, বাসটির ভেতরের একটি ছবি পুলিশ আমাদের দিয়েছিল। আমরা ভেতরের সিট কাভারের কাপড় দেখে শনাক্ত করে পুলিশকে খবর দিয়েছি। পুলিশ চালককে গ্রেপ্তার করেছে। তবে চালকের সহকারী জাকিরের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা চাই, অপরাধীদের শাস্তি হোক। যেন দুয়েকজনের কারণে আমাদের সবাইকে দোষারোপ করা না হয়।
বাসে থাকা অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রীরা বলেন, আমাদের মধ্যে দুজন ঘুমিয়েছিল। মজা করে একজন ছবি তুলি। ওই ছবি দেখেই বাসটি শনাক্ত করা হয়। আর চালকের পেছনের সিটের নিচে একটি বিজ্ঞাপনের স্টিকার লাগানো ছিল। ওইটা দেখে আমরা আরো নিশ্চিত হই।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত চালককে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আর চালকের সহকারীকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।