বাসচাপায় পা হারানো রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ

35

যাত্রাবাড়িতে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্রিনলাইন পরিবহনকে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষের খরচে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাসেলের কৃত্রিম পা লাগাতে বলেছে আদালত। এছাড়াও রাসেলের অন্য পায়ে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে, সে খরচও গ্রিনলাইন দিতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।
আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে আগামি ৩১ মার্চ আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার শামসুল হক রেজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম।
গ্রিনলাইন পরিবহনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. ওজি উল্লাহ ও আফরোজা খানম।
আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই সপ্তাহের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা রাসেলকে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
একই সঙ্গে রাসেলের চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে এবং তাদের খরচেই রাসেলের কৃত্রিম পা লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে’। খবর বিডিনিউজের
গ্রিনলাইন পরিবহনের আইনজীবী মো. ওজি উল্লাহ বলেন, ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই সপ্তাহের মধ্যে রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে কিনা তা ৩১ মার্চ গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষকে হলফনামা আকারে জানাতে বলেছে আদালত।
যাত্রাবাড়ীতে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে গত বছর ১৪ মে রুল জারি করে আদালত।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতির করা রিটের শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট এ রুল জারি করেছিল।
চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক পরিবহন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিএমপি কমিশনার ও গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ আট বিবাদিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
গত বছর ২৮ এপ্রিল ঢাকার যাত্রাবাড়িতে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসের চাপায় রাসেলের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে গ্রিনলাইনের বাস এবং তার চালককে পুলিশ আটক করে।
পুলিশ সে সময় জানিয়েছিল, রাসেল একটি প্রাইভেটকার চালাচ্ছিলেন। তার গাড়িতে বাসটি ধাক্কা দিলে প্রতিবাদ জানাতে বাসটি থামাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাসটি তার উপর দিয়েই চালিয়ে দেন চালক। এতে রাসেলের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পা হারানো রাসেল সরকারের বাবার নাম শফিকুল ইসলাম। গাইবান্ধার পলাশবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রাসেল রাজধানীর আদাবর এলাকার সুনিবিড় হাউজিংয়ে থেকে স্থানীয় একটি ‘রেন্ট-এ-কার’ প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার চালাতেন।