জেলা প্রশাসনের মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বক্তারা

বাল্যবিবাহ ও মাদক নির্মূলে সবার সহযোগিতা দরকার

রাঙামাটি প্রতিনিধি

5

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বাল্য বিবাহ ও মাদক নির্মূলে সকলের সহযোগিতা দরকার। রবিবার সকালে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে জেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জনস্বাস্থ্য বিভাগ, বিদ্যুৎ, সড়ক ও জনপথ,স্বাস্থ্য শিক্ষাসহ টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের সম্ভাবনাময় পরিস্থিতি মোকাবেল নিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর আলোচনা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, আগামীতে জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় জেলা ও উপজেলার সকল দপ্তর প্রধানগণ বাধ্যতামূলক এ সভায় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় স্ব-স্ব মন্ত্রনালয়ের বিভাগে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে। জেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের তিনি বলেন,নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরো অগ্রহণী ভূমিকা পালন করতে হবে। জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃংঙ্খলা সভায় এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। জনস্বাস্থ্য বিভাগের অবহেলার কথা তুলে ধরেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো.সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের (সাবেক)সভাপতি সুনীল কান্তি দে।
সড়ক ও জনপথ এবং এলজিইডির কাজের মান নিয়ে কথা বলেন,নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি বলেন,কাজের মান এতই খারাপ যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। বিগত অর্থ বছরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ১৪ কোটি টাকার গাছের পাইলিং দেওয়া হয়েছে যা কোনো উপকারে আসেনি। এবার সড়ক ও জনপথ বিভাগে ২৩০ কোটি টাকার বরাদ্দ এসেছে। সভায় সড়কের কাজ সঠিকভাবে করতে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ে কথা বলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা.নিহার রঞ্জন নন্দী। তিনি বলেন, সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবায় পরিবর্তন এসেছে। আগামীতে আরো পরিবর্তন আসবে। হাসপাতালে যে সব ছোট খাটো সমস্যা রয়েছে তা অচিরেই ঠিক হয়ে যাবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো.ছুফি উল্লাহ বলেন,জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভাল। মাদক নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে রাঙামাটিতে মাদকের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এছাড়াও সম্প্রতি ছেলেধরা নামে ফেসবুকে যে আতংক ছড়িয়েছে তা স্রেফ একটি গুজব ছাড়া আর কিছুই না। তাই আপনারা গুজবে কান দেবেন না। কারো কাছে মাদকের তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর জন্য বলেন তিনি।
মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন,রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট সিঁড়িটি পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে কাজ করতে পারছিনা। পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে সিঁড়ির কাজ শুরু হবে। পৌরসভার কর্মচারিদের বেতন ভাতার দাবিতে আন্দোলন চলছে যার কারণে সাময়িকের জন্য ময়লা আবর্জনা বেড়েছে। তবে আজ সোমবার থেকে মেয়রের নিজ উদ্যোগে এসব ময়লা আবর্জনা সরিয়ে নেওয়া হবে।