বারবার প্রকল্পে একই রাস্তা তাইন্দং ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

37

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

অনিয়ম, দুর্নীতির আরেক নাম খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার ১নং তাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদ। প্রায় এক বিঘা জমির উপর রাজকীয় ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকা ইউপি ভবনটির বাইর থেকে দেখতে অনকটা আধুনিক ও নয়নাভিরাম হলেও এর ভিতরে দুর্নীতির আখড়া। মূলত অভিযোগগুলো উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন ২০১৯/২০২০ অর্থ বছরের উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (এডিপি)’র আওতায় মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের ভবন হতে নোয়াপাড়া কানুর বাড়ির রাস্তা পর্যন্ত ব্রিক সলিংয়ের জন্য দরপত্র (টেন্ডার) আহবান করা হয়েছে। অথচ এই রাস্তাটি গত অর্থ বছরে এল.জি.এস.পি’র অর্থায়নে ব্রিক সলিং করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যান প্রায় প্রতি অর্থ-বছরেই নামে বেনামে ভুয়া এমন অনেক প্রকল্প দিয়ে থাকেন। পরবর্তীতে প্রকল্পগুলোর কোন কাজ না করে এর বরাদ্দকৃত টাকা নিজেই একা হজম করে থাকেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরে জমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায়, তাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের ভবন হতে নোয়াপাড়া কানুর বাড়ির রাস্তা পর্যন্ত ব্রিক সলিংয়ের কাজ সদ্য সমাপ্ত হয়েছে। নব-নির্মিত সড়কটি কেন পুনরায় প্রকল্পে দেখানো হলো এমন প্রশ্নের জবাবে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির বলেন, গত অর্থ-বছরে এল.জি.এস.পি’র অর্থায়নে রাস্তাটির কাজ শেষ করেছি বিষয়টি সত্য। এবারের (এডিপি)’র বরাদ্দে রাস্তাটি পুনরায় টেন্ডার দেয়া হয়েছে এটিও সত্য। তবে এ প্রকল্প থেকে ঠিকাদারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আমরা ঠিক করেছি বাকী ২লক্ষ টাকাটা মসজিদ ফান্ডে দান করে দিবো। উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি টাকা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান করা যায় কিনা জানতে চাইলে চেয়ারম্যন বলেন, এই বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সব জানেন।
এদিকে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের বেশকিছু অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মো. শাহিন সরকার। তিনি বলেন, শুধু এই রাস্তাটি নয়, গত অর্থ-বছরগুলোতে চেয়ারম্যন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নলকূপ স্থাপনের জন্য বরাদ্দকৃত ১০লক্ষ টাকা কাজ না করে আত্মসাত করেছেন। এই অভিযোগটি এখনো দুর্নীতি দমন কমিশনে বিদ্যমান। যার স্মারক নং-দুদক/ সজেকা/ রাঙ্গামাটি/১২৪৪।
এছাড়াও সাবেক আলী চেয়ারম্যান বাড়ি হতে আচালং ক্যাম্পের রাস্তা সলিং করণের বরাদ্দকৃত ১লক্ষ টাকা, মানিক মেম্বারের বাড়ির পাশে ছড়ার উপর কাঠের সেতু নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত ১লক্ষ টাকা, হাকিম সওদাগর বাড়ি হতে তাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন হয়ে তাইন্দং উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত ব্রিক সলিং এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা, বগাপাড়া হইতে নতুন পাড়া যাওয়ার পথে অরুন বিকাশ চাকমার জমি সংলগ্ন চলাচলের রাস্তার উপর একলক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণের প্রকল্পের টাকা কোন প্রকার কাজ না করে চেয়ারম্যান আত্মসাত করেছে।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি এসব দুর্নীতিবাজদের জন্য নয়। এলাকার অনেক রাস্তা এখনো কাঁচা রয়েছে সেই দিকে যেন কারো নজর নাই, বিশেষ করে মাঝপাড়া স্কুল ও সাথে ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকের রাস্তাটির বেহাল দশা। বর্ষাকালে চলাচল দায় হয়ে পড়ে। অথচ এক রাস্তাকে বারবার দেখিয়ে চলছে হরিলুট। তিনি আরো বলেন, শুধু তাই নয়, অসহায়দের জন্য প্রধানমন্ত্রী দেয়া ঘর নির্মাণে আত্মীয়করণের পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে দুর্নীতি করেছে চেয়ারম্যান।
নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা প্রকৌশলীর প্রতিনিধি হিসেবে উপ-প্রকৌশলীগন প্রকল্প স্থান সরে জমিনে পরিদর্শন করে প্রকল্প গ্রহণ করার কথা থাকলেও কিভাবে একই সলিং রাস্তা বার বার বিভিন্ন প্রকল্পে আসে এমন প্রশ্নের জবাবে মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনির হোসেন জানান, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে আমার নজরে এসেছে। যার অবহেলার কারণে এ ঘটনাটি ঘটেছে তাকে শোকোজ করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সাথে প্রকল্পটি বাতিল করা হবে। কারণ এক প্রকল্পের টাকা কোন ভাবে অন্য খাতে খরচ করার কোন সুযোগ নেই।
স্থানীয় প্রতিনিধিদের এ সকল অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে একদিকে যেমনি বাঁধাগ্রস্ত করছে অন্যদিকে করছে প্রশ্নবিদ্ধ, সেইসাথে সাধারণ জনগণ পাচ্ছেনা নাগরিক সেবা। আর এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে যথাযথ কর্তপক্ষের হস্তক্ষেপ চায় এলাকাবাসী।