বাবা

নুরুল ইসলাম বাবুল

70

যখন তোমায় বাবা বলে ডাকি
তুমি আমায় মা বলে ডাক দাও
ছোট্ট দু’হাত তোমার মাথায় রাখি
আমার কাছে মায়ের আদর চাও।

খেলার ছলে আমি বানাই ঘর
তুমি এসে আমার সাথে জোট
হুলো বিড়াল দেখেই পাও ডর
তুমি যেনো এক্কেবারে ছোট।

তোমার কেনা মিঠাই খেতে খেতে
তাকিয়ে দেখি তুমি বসে টুলে-
খাওয়ার জন্য রয়েছো হাত পেতে
একটুখানি দেই তোমাকে তুলে।

তোমার কাছে বায়না ধরি কতোই
উল্টো তুমি আমার কাছে চাও
দেই তোমাকে দুষ্ট হাসি যতোই
তুমি আমায় মা বলে ডাক দাও।

আমি তোমার কোন জনমের মা
কোন জনমে ছিলে তুমি ছেলে
বাবা তুমি সত্যি বলো না
কেমন করে আবার আমায় পেলে?

কৃষ্ণ বর্ণের কন্যা
মনোজ বড়ুয়া

কৃষ্ণ বর্ণের কন্যা ওলো
মাথায় বাঁশের ঝুরি
দু’হাত জুড়ে হরেক রঙের
ঠুনকো কাঁচের চুড়ি।

ক্লান্তি ভুলে পলে পলে
তুলছে কুড়ি পাতা
হাত দু’খানি দেখতে যেন
সবুজ লাউয়ের লতা।

সাদা দাঁতের মিষ্টি হাসি
স্নিগ্ধ পটভূমি
বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে
কাজটাকে সে চুমি।

সবুজ রঙের পাতার মাঝে
কমলা রঙের শাড়ী
বেনি বাঁধা কালো কেশে
দেখতে মিষ্টি ভারি।

বুকের মাঝে স্বপ্ন অসীম
এ সংসারকে ঘিরে
কাজের মাঝে মগ্ন থাকে
সুখ’টা যদি ফিরে।

শ্রাবণ
রমজান আলী রনি

শ্রাবণ মাসের আকাশ যেন
ঝলসে যাওয়া নদী
চক্ষু মেলে শুধু একবার
দেখতে তুমি যদি?

শ্রাবণ মাসে অঝোর ধারায়
বৃষ্টি পরে যখন
তোমার কথা ক্ষণে-ক্ষণে
মনে পরে তখন।

গাছের ডালে পাখির কাঁপন
মনে তুলে ঢেউ
ত্রিনয়নে মুগ্ধ হয়ে
দেখে না তা কেউ?

তোমরা যারে শ্রাবণ বলো
আমি বলি বিষ
দিবারাত্রি মনের কপাট
ব্যথায় মারে শিষ।

দস্যিছেলের দল
মকবুল হামিদ

যাচ্ছো কোথায় এই অবেলায়
দুষ্ট ছেলের দল?
সবাই মিলে নদীর পাড়ে
খেলবে নাকি বল।

খেলা শেষে নদীর জলে
কাটবে সাঁতার আজ?
এত ঘেরারাফেরা করো
নাই কি কোনো কাজ?

বারে বারে স্কুল পালাও
চুরি করো ফল,
পরের ক্ষতি কেনো করো
দুষ্ট ছেলের দল?

আমরা হলাম দুষ্ট ছেলে
পল্লী গাঁয়ের মাথা,
দুষ্টামিটা মোদের সবার
প্রতিদিনে গাঁথা।