বাবা মানে

হামীম রায়হান

151

বাবা মানে কারো কাছে সুপার হিরো। কারো কাছে বাবা মানে একজন আর্দশ ব্যক্তি। বাবা মানে কারো কাছে শৈশবের ভালো বন্ধু। কেউ বা আবার বাবা বলতে বুঝে প্রচন্ড রাগি একজন। যার ভয়ে কাঁপে সারা বাড়ি। পান থেকে চুন খসে পড়ার সুযোগ নেই। কিন্তু রাসিবের ক্ষেত্রে এমন নয়। বাবা বললে সে কারো মুখচ্ছবি চিন্তা করতে পারে না। সে কখনো মুখভরে কাউকে বাবা বলে ডাকতে পারে না। কেউ বাবা বলে ডাকলে সে চিন্তা করতে পারে না বাবার সাথে সর্ম্পকটা কেমন। বাবা যখন আদর করে সন্তানকে বুকে টেনে নেই তখন সন্তানের কেমন লাগে! তার খুব ইচ্ছে করে বাবা তাকে বকা দিক। শাসন করুক।
বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় রাসিবের বাবা বিদেশ চলে যায়। ভালোই আয় করতেন। সংসারে অভাব ছিল না। এরি মধ্যে রাসিবের জন্ম হয়। সবাই মহা খুশি। বাবা সন্তানের দেখা হবে শীঘ্রই! সবাই খুশি কিন্তু দুঃসংবাদটা এল এক বর্ষায়। বিদেশে রোড এক্সিডেন্টে মারা যায় রাসিবের বাবা। বাবা ছেলের আর দেখা হল না।
যেদিন বাবার লাশ বাড়িতে আনা হল সেদিন নাকি অঝোর বৃষ্টি হচ্ছিল। রাসিবও কেঁদেছিল নাকি সেদিন। এসব কিছুই রাসিব মনে নেই। তখন তার বয়স দুই।
আস্তে আস্তে সময় কাটতে থাকে। রাসিবও বড় হতে থাকে। স্কুল শেষ করে এবার কলেজে গেছে, যখন কোথাও তার বাবার নাম লিখতে বলা হয় তখন তাঁর হাত কেঁপে উঠে।
রাসিবের কাছে বাবা মানে একটা শব্দ মাত্র। বাবা মানে ঐ পুকুরপাড়ে ঘেরাও করা ঝোপের আড়ালের একটা কবর মাত্র। বাবা মানে মায়ের কান্না ও কয়েকটি নষ্ট হয়ে যাওয়া ছবি মাত্র।