বাবার হত্যাকারীদের ‘ক্ষমা করে দিলেন’ খাশুগজির ছেলেরা

19

তুরস্কে সৌদি আরবের কনসুলেটের ভেতর খুন হওয়া সাংবাদিক জামাল খাশুগজির ছেলেরা বলেছেন, তারা তাদের বাবার হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। “আমরা শহীদ জামাল খাশুগজির ছেলেরা ঘোষণা করছি, যারা আমাদের বাবার হত্যাকারী, আমরা তাদের ক্ষমা ও মার্জনা করছি,” শুক্রবার টুইটারে এমনটাই বলেছেন নিহত সৌদি সাংবাদিকের ছেলে সালাহ খাশুগজি।
সৌদি আরবে থাকা সালাহ’র এ ঘোষণা খাশুগজি হত্যাকাÐে শাস্তিপ্রাপ্তদের সাজায় কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে এনডিটিভিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এক সময় সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জামাল খাশুগজি পরবর্তীতে দেশটির শাসনকাঠামো ও শাসকদের তীব্র সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হন। ২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটের ভেতর তাকে হত্যার ঘটনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
রিয়াদ থেকে আসা ১৫ গুপ্তচর ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখককে হত্যার পর তার লাশ গুমে জড়িত ছিল বলে সেসময় আঙ্কারা দাবি করেছিল।
সৌদি আরবের কৌঁসুলিরা পরে এ ঘটনায় ১১ জনকে অভিযুক্তও করেন। বিচারে ৫ জনের মৃত্যুদÐ, তিনজন বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড এবং বাকিরা ছাড়া পান বলে গত বছরের ডিসেম্বরে জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ। সালাহ এর আগে বাবার হত্যাকান্ডের বিচারে সৌদি বিচারব্যবস্থার উপর তার ‘সম্পূর্ণ আস্থা’ আছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। সমালোচকরা তার বাবার হত্যাকান্ডকে নিজেদের উদ্দেশ্যসাধনে ‘ব্যবহার করতে চাইছে’ বলেও অভিযোগ ছিল তার। চলতি বছরের এপ্রিলে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে সালাহ ও খাশুগজির অন্য সন্তানরা সৌদি সরকারের কাছ থেকে কয়েক কোটি ডলার মূল্যের বাড়ি পেয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ খাশুগজির সন্তানদের প্রতিমাসে কয়েক হাজার ডলার করে ভাতা দিচ্ছে বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। সালাহ সেসময় প্রতিবেদনে থাকা তথ্যগুলোকে ‘অসত্য’ অ্যাখ্যা দিয়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনার কথা অস্বীকার করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) ও জাতিসংঘের এক বিশেষ দূতের মূল্যায়নে সৌদি আরবের ‘ডি ফ্যাক্টো’ শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশেই ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটের ভেতর খাশুগজিকে খুন করা হয় বলে ধারণা দেয়া হয়েছিল।
সৌদি আরব শুরু থেকেই এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ক্রাউন প্রিন্সের কোনো ধরণের যোগসাজশ ছিল না বলে দাবি করে আসছে।