বান্দরবানে লিচুর বাম্পার ফলন, দাম নিয়ে সংশয়

মো. শাফায়েত হোসেন, বান্দরবান

40

বান্দরবানের পাহাড়ে চলতি মৌসুমে বিভিন্নজাতের লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার ৭টি উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে এখন গাছ ভর্তি লিচু। থোকায় থোকায় বাহারি লিচু সবার মন কাড়ছে। সেই সাথে লিচুর মৌ মৌ গন্ধ। ছোট ছোট পাখিদের কিচির-মিচির শব্দে লিচুর বাগান মূখরিত। পাহাড়ে মাটি ও জলবায়ু লিচু উৎপাদনের জন্য উপযোগী। ফলে সুস্বাদু ফল লিচুর ফলনও গত বছরের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতিদিন প্রচুর লিচু বিক্রি হচ্ছে। বান্দরবানের উৎপাদিত লিচু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। স্থানীয় বাজারে একশত লিচু বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। এছাড়াও চায়না থ্রি জাতের একশত লিচু বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা করে। তবে এবছর অনাবৃষ্টি, খরা এবং তীব্র তাপদাহের কারণে পাহাড়ে শত শত বাগানের লিচু ঝড়ে যাচ্ছে এবং কালচে হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে পুড়তে যাচ্ছে লিচু চাষিদের স্বপ্নও! মধু মাসের এ সময়টিতে পাহাড়ের লিচু চাষী, বাগানী ও ব্যবসায়ীরা খুশি হওয়ার কথা থাকলেও উল্টো মাথায় হাত পড়েছে তাদের। যার কারনে সংশয় দেখা দিয়েছে স্থানীয় চাষী ও ব্যবসায়ীদের মাঝে।
স্থানীয় লিচু চাষী চাইউগ্য মার্মা ও উপশৈ থুই মার্মা জানান, চলতি মৌসুমে লিচু উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হবে। লিচু বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা পুঁজি উঠবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। গত বছর ১০০ লিচু বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ২০০ টাকা হারে। কিন্তু এবছর লিচুর দাম তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। ১০০ লিচু বিক্রি করতে হচ্ছে ১০০-১২০ টাকার মধ্যে। কিন্তু খরচ পড়েছে দিগুন। সেই হিসেবে লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না।
চাষীদের মতে, বাগানের বোম্বাই ও চায়না থ্রি জাতের লিচু এখনো কাঁচা। কিন্তু এ সময়ে লিচু ফেটে চির ধরেছে, খোসায় কালো দাগ পড়ে ফেটে যাচ্ছে, লিচুর আকারও ছোট, গাছ থেকে প্রতিদিনই ঝরে পড়ছে লিচু। প্রত্যেকটি বাগানে যে হারে লিচু ফেটে যাচ্ছে আর ঝরে পড়ছে এতে লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনা নেই।
জেলা কৃষি বিভাগের মতে, জেলায় প্রতি বছর লিচুসহ ফলদ বাগান বাড়ছে। চাষীরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ জেলায় লিচুসহ বিভিণœ প্রজাতির ফলদ বাগান রয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে বান্দরবান জেলায় ১ হাজার ২০৩ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে বোম্বাই ও চায়না থ্রি এবং দেশিজাতের লিচুর চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন। তবে মাটি ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় বান্দরবানে প্রতিবছরই লিচুর আবাদ বাড়ছে। তাদের মতে, বাগানে বাগানে গিয়ে চাষীদের পরামর্শ দেওয়ার কারণে প্রতি বছর লিচুসহ ফলদ বাগানের প্রতি চাষীদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার খোরশিদা বেগম জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হতে কৃষি প্রযুক্তি, লিচুর বাগানে সময় মতো মরা ডালপালা অপসারণ, সময় মতো সার প্রদান, সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রায় বালাইনাশক স্প্রে ও উন্নত জাতের চারা রোপণ, পরিচর্যা করার পরামর্শ প্রদান করার কারণে লিচুর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীদের আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বাগানে লিচু ফলন বেশি পাচ্ছে চাষীরা এবং লাভবান হচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কৃষিবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, স্বল্প খরচে পরিচর্যার মাধ্যমে অধিক লাভজনক হওয়ায় পাহাড়ে লিচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় চাষীরা। তবে এবছর লিচুর ফলন ভালো হলেও অনাবৃষ্টি ও খরা এবং অতি উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বাগানের লিচু ঝড়ে যাচ্ছে। এসময় লিচু গাছের পাতায় স্প্রে এবং গাছের গোড়ায় পানি দেয়ার জন্য পরামর্শ দেন এই কৃষিবিদ।