বান্দরবানে পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়া চাষে সফলতা

এস এম ইসমাইল হাসান, আলীকদম

10

বান্দরবানের পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়া চাষে সফলতা পেয়েছেন জুম চাষিরা। তবে ফলন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না তারা। পাহাড়ে উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় বলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই জুম চাষিরা অন্যান্য ফসলের সাথে মিষ্টি কুমড়ার চাষও করছেন। বছরে দু’টি মৌসুম খরিদ-১ ও খরিদ-রবিতে ধানের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও কুমড়া জাতীয় ফলের চাষ হয় বান্দরবানের পাহাড়ে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও খেতে সুস্বাদু বলে ক্রেতাদের সবজির তালিকায় পাহাড়ি মিষ্টি কুমড়ার বিশেষ কদর রয়েছে।
কৃষি বিভাগের সূত্র জানায়, বান্দরবানের রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, সদর’সহ জেলার সাত উপজেলায় চলতি বছর মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে ৫৫০ হেক্টর জমিতে। গতবারের তুলনায় এ বছর চাষ বেড়েছে ৫০ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার মেট্রিক টন। এ মৌসুমে ২শ ৪৮ হেক্টর জমিতে ৯ হাজার মেট্রিক টন মিষ্টি কুমড়ার ফলন হয়েছে। তবে ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এতে লাভের মুখ দেখছে না পাহাড়ি কৃষকরা।কৃষকদের অভিযোগ, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকা, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বড় বড় আড়তদারদের সাথে সরাসরি সম্পর্ক না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগিদের দৌরাত্ম্যে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না তারা।
টংকাবতীর চাষি মেনথং ম্রো ও থনলক ম্রো বলেন, টংকাবতী, মাঝের পাড়া, সুয়ালক, চিম্বুকসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে জুমের পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে এ বছরও। ভালো ফলন হওয়ার পরও তারা নায্য মূল্য পাচ্ছেন না। লোকসান কমাতে বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে কেজিপ্রতি
৭ থেকে ৮ টাকায় এবং প্রতি মণ ৩শ’ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষক রেংরুই ম্রো বলেন, পাহাড়ে জুম চাষে উৎপাদিত পুষ্টিকর মিষ্টি কুমড়া চট্টগ্রাম হয়ে বিদেশেও যাচ্ছে। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা দ্বিগুণ মুনাফা করার কারণে পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে লাভের মুখ দেখছে না কৃষকরা। শ্রমিকের মজুরীর টাকা না ওঠায় অনেক চাষী ক্ষেতের মিষ্টি কুমড়া বিক্রির জন্য বাজারেই তুলেনি। রাস্তার দুইপাশে জুম ক্ষেতগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মিষ্টি কুমড়া।
মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী মেনইয়া ম্রো বলেন, ‘উৎপাদন বেশি হওয়ায় লাভবান হতে পারছে না কৃষকরা। পাহাড়ের টংকাবতী থেকে প্রতি মণ ৩শ’ থেকে ৩২০ টাকায় মিষ্টি কুমড়া কিনে গাড়ীতে করে চট্টগ্রামে নিয়ে প্রতি মণ ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকায় বিক্রি করছি। গতবছর আমার ত্রিশ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ বছরও লাভবান হতে পারবো বলে মনে হচ্ছে না।’বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়ার চাষ বাড়ছে। দুটি মৌসুমেই এখানে মিষ্টি কুমড়া উৎপাদিত হচ্ছে। বলতে গেলে সারাবছরই এ অঞ্চলে বাজারে মিষ্টি কুমড়া পাওয়া যায়। উৎপাদন বেশি হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না চাষীরা। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেও চাষীরা উৎপাদিত সবজি সরাসরি বাজারে বিক্রি করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
‘চাষীরা কৃষক সংগঠন করে নিজেরাই নিজেদের পণ্য বাজারজাত করতে পারলে লাভবান হতে পারবে’ এমন অভিমত এই কর্মকর্তার।