বান্দরবানে আগুনে পুড়ল শতাধিক দোকান-বাড়ি

বান্দরবান প্রতিনিধি

27

বান্দরবানে অগ্নিকান্ডে শতাধিক দোকান ও বসতবাড়ি পুড়ে গেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা শহরের মধ্যমপাড়ার মারমা বাজার সেড নদীর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে মারমা বাজার সেড এলাকায় রান্না ঘরের চুলা থেকে এ আগুনের সূত্রপাত। ঘনবসতি হওয়ায় মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় ২ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কয়েক কোটি টাকার ছাড়ি যাবে বলে ধারণা করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন জানান, ‘আগুনের খবর পেয়ে আমরা প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আগুনে বাজার শেডসহ ৮০টিও বেশি বসতঘর ও দোকান পুড়ে গেছে। আগুনের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও বলা যাচ্ছে না।’
বান্দরবান পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী জানান, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পৌরসভার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদেরকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে।
বান্দরবান ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের ভারপ্রাপ্ত ব্রিগেড কমান্ডার এস এম আব্দুল্লাহ আল আমিন জানান, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে তিনি দ্রæত পাঁচ প্লাটুন সেনাসদস্য ও দুই ইউনিট মেডিকেল টিমের সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এসময় তিনি দমকল বাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় জনতার সহযোগিতা নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তিনি আরো জানান, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের জন্য সেনাবাহিনী দুপুরে ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেছে। সেনাবাহিনী পার্বত্য জেলা পরিষদের সমন্বয়ে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্য প্রদানের কথা জানান তিনি।
অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার, বান্দরবান ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের ভারপ্রাপ্ত ব্রিগেড কমান্ডার এস এম আব্দুল্লাহ আল আমিন, ব্রিগেড মেজর মাহাবুব হাসান চৌধুরী, মেজর জাহিদুল ইসলাম, পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেনসহ ঊধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।