বান্দরবানের পাহাড়ে ঝুঁিকতে প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ

বান্দরবান প্রতিনিধি

5

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বান্দরবান জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে বাস করছেন এখনো প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই পাহাড় কেটে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছে এসব পরিবার। বসবাসের প্রয়োজনে অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা এবং বৃক্ষনিধনের কারণে ঘটছে একের পর এক পাহাড় ধসের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা। এসব মানুষের প্রাণহানি ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্তে¡ও বান্দরবানে বন্ধ হচ্ছে না পাহাড় কাটাসহ অবৈধ বসতি স্থাপন। জেলা সদরসহ ৭টি উপজেলায় বিভিন্ন সময় প্রবল বর্ষণ ও ভূমি ধসে গত ৮ বছরে ৯৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ের গাছ-বাঁশ তথা বনজ সম্পদ উজাড় করার কারণেও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে আরো অনেক পরিবার। এসব কারণে যে কোনো সময় হয়ে যেতে পারে আরোও বড় ধরনের দুর্ঘটনা। পড়তে পারে প্রকৃতিক দুর্যোগের কবলেও। প্রতি বছরই পাহাড় ধসে বান্দরবানে প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। তার পরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বাস করছেন প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ। জেলার সদর, লামা, রোয়াংছড়ি, থানছি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি এবং রুমা উপজেলায় দুর্গম অঞ্চলগুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের ঢালুতে এসব মানুষগুলো দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। মাথাগোঁজার ঠাঁই হিসেবে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিতভাবে বসতি গড়ে তুলেছে এসব হাজার হাজার পরিবার। বসবাসের প্রয়োজনে অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা এবং বৃক্ষনিধনের কারণে ঘটছে একের পর এক পাহাড় ধসের ঘটনা। এসব মানুষের প্রাণহানি ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্তে¡ও বান্দরবানে বন্ধ হচ্ছে না পাথর উত্তোলন এবং নির্বিচারে পাহাড় কাটা।
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী বাসিন্দাদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য অন্যত্র আবাসনের ব্যবস্থা করে না দেয়ায় নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে চান না তারা। জীবিকার তাগিদে পাহাড়ের ঢালুতে পাহাড় কেটে তৈরি করা আবাসস্থলগুলোতে কম ভাড়ায় বসবাস করা যায়। কিন্ত বর্ষায় বৃষ্টিপাতের সময় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষে মাইকিং করা হয়। খোলা হয় সাময়িক আশ্রয় কেন্দ্র। তবে সরকারিভাবে স্থায়ী পুনর্বাসনের এখনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যে কারণে প্রাণহানির ঘটনাও বন্ধ করা যাচ্ছে না। বান্দরবান মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্রর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, পাহাড় ধস তাৎক্ষণিক ঘটনা মনে হলেও এটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়ার ফসল। পাহাড় ধসের অন্যতম কারণ হচ্ছে-নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা এবং উপযুক্ত পদ্ধতি অবলম্বন না করে পাহাড়ে চাষাবাদ করা। তবে পাহাড় ধস বন্ধে বৃক্ষ নিধন এবং পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঘটনা আরোও বাড়বে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিবন্দোবস্তি বন্ধ রয়েছে। তারপরেও ভূমিহীন-হতদরিদ্রদের বেলায় বন্দোবস্তির বিষয়টা যদি কিছুটা শিথিল করা হয়, তাহলে গৃহনির্মাণ কর্মসূচীর আওতায় এনে তাদেরকে পুনর্বাসন করা সক্ষম হবো।