মধুমাস শুরু আজ

বাতাসে রসালো ফলের ম-ম গন্ধ

আবেদ আমিরী, পটিয়া

39

চারদিকে মধুফলের ম ম গন্ধ। ফলের গন্ধে সহজে অনুমান করা যায় জ্যৈষ্ঠ মাস এসে গেছে। আজ জ্যৈষ্ঠ মাস শুরু। সুস্বাদু ফলের অধিক সরবরাহ থাকায় সবার কাছে মাসটি মধুমাস নামেই পরিচিত। এ মাসের অপর নাম মধুমাস। হাট বাজার, অলিগলিসহ চারদিকে মধুফলের ম ম গন্ধ। বছরজুড়ে কম বেশি ফল পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এ জ্যৈষ্ঠ মাসে। ষড়ঋতুর এদেশে রোদ তেতে ওঠা জ্যৈষ্ঠে তৃষ্ণার্থ মানুষ পিপাসা মেটায় বিভিন্ন প্রজাতির রসালো ফল দিয়ে। মধুফলে এবার ‘মধুবিষ’ না থাকায় মাছি ও মধুপোকার উপদ্রব বেড়েছে। মধুফলে বিষ দেয়া হলে সাধারণত মাছি ও পোকা মাকড় এতে বসে না। আর সাধারণ মানুষ এসব বিষ মাখানো ফল খেয়ে আক্রান্ত হন আমশায়, পেটের পীড়া, জন্ডিস, ডায়রিয়া, লিভার রোগসহ নানা অসুখে। এ কারণে এবার সরকার মধুফল সংগ্রহে বাগান পর্যন্ত নজরদারি করেছে। এ কারণে ভোক্তা পর্যায়ে এবার ‘মধুবিষ’ ছাড়াই ফল আসতে শুরু করেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মিজানুর রহমান জানান, ‘মধুবিষকে’ শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। বিষ মিশ্রিত ফল খেলে সহজে হজম হয় না। সরকারের একাধিক সংস্থার সূত্রে জানা যায়, মধুফলে ‘মধুবিষ’ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনওদের প্রয়োজনীয় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জ্যৈষ্ঠ বাংলা বছরের দ্বিতীয় মাস। এর দ্বারা গ্রীষ্মের সমাপ্তি ঘটে। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় পরিবেশ ব্যবস্থা ও গাছপালার কারণে মধুমাসে বিভিন্ন রকমের ফল পাওয়া যায়। গাছে গাছে সবুজ পাতার ফাঁকে দোল খায় সিঁদুর রাঙা আম। দাবদাহের তৃষ্ণার্থ প্রাণকে শীতলতার পরশ বুলিয়ে দেয় গ্রীষ্মের ফুটি, বাঙ্গি, তরমুজ। পাওয়া যায় জাতীয় ফল কাঁঠাল। এছাড়া লিচু, কালো জাম, ক্ষুদিজামে বাজার এখন সরগরম। বাজারে আরও পাওয়া যাচ্ছে রসে ভরা আনারস, আমলকি, আতা, করমচা, জামরুল, বেল, গাব ইত্যাদি ফল। পাকা তাল না পাওয়া গেলেও বাজার এখন ভরে গেছে কাঁচা তালে। অনেকেরই প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে কাঁচা তালের শাঁস। বিভিন্ন প্রজাতির এসব ফলের স্বাদে রয়েছে ভিন্নতা। কোনটা টক, কোনোটা মিষ্টি, কোনোটা নোনতা আবার কোনোটা পানসে।
ক্রেতারা জানান, সেই রসে টইটম্বুর মধুফলে সয়লাব হয়ে গেছে বাজার থেকে অলিগলি পর্যন্ত। গতকাল একাধিক ক্রেতা জানান, মধুফলে বাজার সংলাব হতে শুরু করেছে। বছরের ফল হিসেবে সকলের আগ্রহ বেড়েছে। শিশুর জন্য ফল কিনতে আসা মোহাম্মদ কলিম উদ্দিন জানান, তার পুত্র বায়না ধরেছে আম এবং লিচু দিতে হবে। নয়ত রাতে সে পড়তে বসবে না। শিশুর বায়নার কারণে বাজারে এসেছি ফল কিনতে। বাজারে ফল এলেও অন্য বছরের মত এখনো সয়লাব হয় নি।
তিনি জানান, হয়ত সরকারের পদক্ষেপের কারণে অপরিপক্ক ফল সংগ্রহ করতে না পারায় বাজারে বিষ দিয়ে পাকানো ফল বাজারে আসেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, ব্যবাসায়ীরা রাতারাতি মুনাফা অর্জনের জন্য গত কয়েক বছর ধরে মধুমাসের আগেই বিভিন্ন প্রকার বিষ দিয়ে ফল পাকানোর কাজ করা হতো। তখন মধুফল পেতে মধুমাসের জন্য অপেক্ষা করতে হতো না। মধুমাস শুরুর অনেক আগে থেকে বাজারে পাওয়া তে সব ধরণের মধুফল। শুধু মধুমাস বলে নয়, পুরো বছরে প্রতিটি ফলের সময়ে বিষ দিয়ে পাকানো ফল আগাম বাজারে আসতো। আর তা চড়া দামে বিক্রি করতো ব্যবসায়ীরা। এবার এখনো কিছুটা ভিন্ন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তবে তা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে। অন্যথায় আবারও ‘মধুবিষ’ মাখানো ও পাকানো ফল খেতে হবে ক্রেতাদের।