বাজারে মাছের দাম চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

24

বাজারে সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে মাছ ও মুরগীর দাম। তবে নতুন আসা সবজি ফুলকপি ও শিমের দাম অস্বাভাবিক। অন্যদিকে সমুদ্রে মাছ শিকার বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে মাছের দাম বেড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। সবজি বিক্রেতারা বলছেন, কাজির দেউড়ি বাজারের সবজি বিক্রেতাদের কারণেও রিয়াজ উদ্দিন বাজারের আড়তে সবজির দাম বাড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর বক্সিরহাট বাজার ঘুরে এসব বক্তব্য পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাজারে নতুন ফুলকপি ১২০-১৩০ টাকা, শিম ১২০ টাকা, টমেটো ৯০-১০০ টাকা. কাঁচা মরিচ ১১০-১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া প্রতি কেজি বেগুন ৫০-৬০ টাকা, কাকরল ৫০, ঝিঙে ৪০, চিচিঙা ৩০, ধুন্দল ৩৫-৫০, তিতকরলা ৪০ টাকা, মূলা ৫০ টাকা, কচুর লতি ৩০-৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ো ৩০-৩৫ টাকা, কাঁচা মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, লাউ ৩০-৩৫ টাকা, পেঁপে ৩৫-৪০ টাকা, শসা ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বক্সিরহাটের সবজি বিক্রেতা দিদারুল আলম বলেন, ‘নগরীর অন্য বাজারগুলোর চেয়ে বক্সিরহাটে সবজির দাম কম।‘ এ বিক্রেতা আরো বলেন, ‘কাজির দেউড়ি বাজার নিয়ে লেখেন। ওখানকার ব্যবসায়ীদের কারণে রিয়াজ উদ্দিন বাজারের আড়ত থেকে বেশি দামে সবজি কিনতে হয়। কাজির দেউড়ি বাজার নিয়ন্ত্রণ করলে সবজির দাম আরো কম হতো। বক্সিরহাট কিংবা অন্য বাজারের চেয়ে কাজির দেউড়ি বাজারে একই সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেশি।’
বৃহস্পতিবার বাজারে মাছের দর ছিল চড়া। বাজারে সামুদ্রিক মাছ তেমন একটা নেই। এতে মিঠা পানির মাছের দামও বাড়তি। গত সপ্তাহের চেয়ে প্রায় সব মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেশি। বাজারে রুই (আমদানিকৃত) ২০০-২১০ টাকা, তেলাপিয়া সাইজভেদে ১৪০-১৭০ টাকা, কাতলা ছোট সাইজের ২৫০ টাকা, কার্প ১৬০-১৭০ টাকা, বাটা ৩৮০-৪০০ টাকা, দেশি বাইলা ৫০০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৪৮০-৪৬০ টাকা, কৈ (ফার্ম) ১৮০-২০০ টাকা, জ্যান্ত শিং মাছ সাইজভেদে ৫০০-৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০ টাকা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাইজভেদে ৬০০ টাকা থেকে ১১৫০ টাকা কেজিতে। কোরাল মাছ ৬০০ টাকা, সুরমা ৪৫০ টাকা রুপচান্দা (ছোট সাইজের) ৬০০-৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা মো. নুর নবী বলেন, ‘সমুদ্রে মাছ শিকার বন্ধ। বাজারে মাছের সরবরাহ কম। তাই মাছের দাম একটু বেশি।‘
অন্যদিকে বাজারে গরুর মাংস (হাঁড়ছাড়া) ৬০০-৬৫০ টাকা, হাড়সহ ৪৮০-৫০০ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ টাকা, পাঠার মাংস ৭৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগীর দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিকেজি ১৪০-১৪৫ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকায়। এছাড়া কক (সোনালী) জাতের মুরগী ২৫০ টাকা, দেশি মুরগী ৩৮০-৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিডজন ফার্মের মুরগীর ডিম ১০৩ টাকা, হাঁসের ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।