বিএসটিআই’র বৈধ প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা

বাজারে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রিত হোক

25

দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানতে পারি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনষ্টিটিউশন (বিএসটিআই) অবৈধ পণ্যের বাজার বন্ধ করতে বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করতে যাচ্ছে। পত্রিকার প্রতিবেদনে যা বিস্তারিত এসেছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর ৫টি থানার এলাকায় অবস্থিত খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মান সনদপত্র প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করবে। এ উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক। ১৮২টি পণ্যের মান দেখা বিএসটিআই’র দায়িত্ব। খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ মানসম্পন্ন খাবার প্রস্তুত করছে কিনা, কিংবা তাদের বিএসটিআইর অনুমোদন আছে কিনা তা জানতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বিএসটিআই’র এ উদ্যোগ। কিন্তু বিএসটিআই’র অনুমোদন নিয়ে নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য তৈরি করে বাজার জাত করছে কিনা তা বিচারে শুধুমাত্র বিএসটিআই’র সার্টিফিকেট যথেষ্ট বলে আমরা মনে করি না। বিভিন্ন কারণে বিএসটিআই’র অনুমোদন নেয়নি এমন প্রতিষ্ঠানও মান সম্পন্ন খাদ্য বাজারজাত করে না এমনও নয়। সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করে দেশের খাদ্য তৈরির কারখানাগুলোকে নিয়মের আওতায় আনতে পারলে ভোক্তারা মানসম্পন্ন খাদ্যদ্রব্য বাজার থেকে কিনতে পারবে। দেশের কোন প্রতিষ্ঠান নিয়ম মাফিক চলছে এ কথা বলতে আমাদের বড় সমস্যা মনে হয়। কেন না সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সততা ও দায়বদ্ধতায় কেউ শতভাগ বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়।
বিএসটিআই বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে সত্য, তাতে পাউরুটি, বিস্কুট, সেমাই লাচ্ছা সেমাই ইত্যাদি তন্দুরী খাবার প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। উদ্যোগটা ভালো হলেও এতে বাজারে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রিত হতে দেখা যাচ্ছে না। যাদের বিএসটিআই’র অনুমোদন রয়েছে তাদের লিস্ট প্রকাশ করে বাজারে খাদ্যপণ্যের মান নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে হয় না। এতে অনুমোদনহীন খাদ্যদ্রব্য বাজারে ভোক্তা কর্তৃক বর্জনও হবে বলে মনে হয় না। আমরা মনে করি বিএসটিআই’র প্রাথমিক কাজ হবে লোকবল বৃদ্ধি করা। দ্বিতীয়ত তাদের চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের সকল খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত হতে বাধ্য করা। তৃতীয়ত: বিএসটিআই’র কর্মকর্তা কর্মচারীদের সৎ থাকতে বাধ্য করা ছাড়া কোন উদ্যোগই কার্যকর হবে না। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য শিল্প কারখানাসহ সর্বক্ষেত্রে ভেজাল এবং লোক ঠকানোর প্রবণতা অস্বীকার করার জো নেই। দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেভাবেই হোক অর্থ উপার্জনই মুখ্য হয়ে আছে। জনস্বাস্থ্যের কল্যাণে মানবসেবা ও মানবকল্যাণে ব্যবসার প্রবণতা হারিয়ে গেছে দেশ থেকে। এ সংকট মোকাবেলায় আইন প্রণয়নের চেয়ে আইন মানতে বাধ্য করে সবাইকে আইনের আওতায় আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ খুবই জরুরি। আমাদের মূল সমস্যা হলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অসততা ও স্বেচ্ছাচারিতা। এ ব্যাপারে যথাযথ তদারকি না থাকার কারণে কোন অবৈধ-কর্মকান্ড এদেশে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। মাদক চোরাচালান, মরণঘাতি মাদক ইয়াবা থেকে শুরু করে ভেজাল খাদ্য, ভেজাল ঔষধসহ কোন কিছুই বাজার থেকে উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। সরকারি উচ্চ পর্যায় থেকে আন্তরিক প্রচেষ্টা ছাড়া দেশের কোন উদ্যোগই কার্যকর সম্ভব নয় বলে সাধারণ মানুষ মনে করে।