অ ন্য খ ব র

বাচ্চাকে জিনিয়াস হিসাবে গড়ে তুলতে ৮ কৌশল

বিবিসি বাংলা

27

জোসেফকে দেখে অধ্যাপক স্টেনলি দীর্ঘস্থায়ী একটি গবেষণা শুরু করলেন যেটা পরে ৪৫ বছর ধরে চলেছে। এই সময়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি অসামান্য প্রতিভাধর শিশুদের জীবন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফেসবুকের ¯্রষ্টা মার্ক জাকারবার্গ এবং পপ তারকা লেডি গাগার মত অত্যন্ত সফল সব ব্যক্তিত্ব।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৮ সালে মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক জুলিয়ান স্টেনলি ১২ বছরের এক বালকের সন্ধান পান। জোসেফ বেটস নামে ছেলেটি ঐ বয়সেই জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ছিল। অসামান্য প্রতিভাধর ছিল ঐ কিশোর। জোসেফ বেটসের জীবনে কী হয়েছিল? সে খুবই ভালো করেছিল পরবর্তী জীবনে।
ইউনিভার্সিটিতে গ্রাজুয়েশন শেষে ডক্টরেট ডিগ্রি পান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হন। তাকে এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে পথিকৃৎ বলে ধরা হয়। অধ্যাপক স্টেনলি জন হপকিন্স বিশ্ববদ্যালয়ে তার গবেষণা কর্মসূচি শুরু করেন। চমকে যাওয়ার মতো কিছু ফলাফল দেখতে পান তিনি।
প্র্যাকটিস মেকস পারফেক্ট’ অর্থাৎ চর্চার মাধ্যমে, পরিশ্রমের মাধ্যমেই শুধু চূড়ান্ত সাফল্য দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব বলে প্রচলিত যে বিশ্বাস রয়েছে, গবেষণায় দেখা যায় তা সর্বাংশে সত্য নয়।
পরিবর্তে, প্রফেসর স্টেনলির গবেষণা বলছে, অল্প বয়সে কোনো বিষয় পরিষ্কার করে বোঝার, আত্মস্থ করার এবং সমাধান দেওয়ার ক্ষমতা যে শিশুর যত বেশি থাকে, পরবর্তী জীবনে তার সাফল্যের সম্ভাবনাও তত বেশি থাকে। প্রাকটিস অর্থাৎ নিয়মিত চর্চা বা কঠোর পরিশ্রম একমাত্র চাবিকাঠি নয়। এমনকি শিশুর আর্থ-সামাজিক অবস্থার গুরুত্বও ততটা নয়। সুতরাং অল্প বয়সে আপনার শিশুর বুদ্ধিমত্তা শাণিত করার দিকে নজর দিতে হবে।
শিক্ষাবিদরা বহুবার সাবধান করেছেন, শিশুদের জবরদস্তি করে প্রতিভাবান করে গড়ে তোলার চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হয়। তাদের নানারকম সামাজিক এবং মানসিক সমস্যা তৈরি হয়। কিন্তু আপনি যদি আপনার বুদ্ধিমান বাচ্চাকে কোনো চাপের ভেতর না ফেলে তার বুদ্ধি বিকাশে সহায়তা করতে চান, নীচে বর্ণিত কিছু পন্থা চেষ্টা করতে পারেন:
শিশুকে বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করুন : বুদ্ধিমান শিশুদের উদ্বুদ্ধ রাখতে, আগ্রহী রাখতে তাদেরকে অভিনব সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করতে হয়। জীবনের বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। সাহস বাড়ায়।
তাদের প্রতিভা-আগ্রহকে উৎসাহিত করা : খেলাধুলো হোক বা সঙ্গীত হোক বা নাটকের ক্লাস, এসব নিয়ে আপনার শিশুর আগ্রহ থাকলে অল্প বয়স থেকে সুযোগ দিতে হবে। তাহলেই প্রতিভা বিকাশের সম্ভাবনা বাড়বে। তবে কিছু হওয়ার জন্য তাদের ওপর চাপ তৈরি করা হিতে বিপরীত হবে। সে যা নয়, তা বানানোর চেষ্টা করলে ক্ষতি ছাড়া লাভ হবে না।
বুদ্ধিবৃত্তিক ও আবেগের চাহিদাকে সাহায্য করতে হবে : সমস্ত শিক্ষার মূলে রয়েছে জানার আগ্রহ, জিজ্ঞাসা। স্কুল শুরুর আগেই শিশুরা অনেক প্রশ্ন করে। ধৈর্য না হারিয়ে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া জরুরি। তাদের বুদ্ধি বিকাশের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশু যত ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে’ প্রশ্ন তুলবে, স্কুলে তার সাফল্যের সম্ভাবনা ততই বাড়বে।
জানা বা শেখার চেষ্টার প্রশংসা করুন : শিশুর শিক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে বেশী প্রশংসা করুন, ফলাফলকে ততটা করবেন। নতুন কোনো ভাষা শেখার জন্য তার চেষ্টা, এমনকি সাইকেল চালানোর জন্য তার চেষ্টা- এসবকে উৎসাহিত করুন। জানার চেষ্টা, শেখার চেষ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শেখার উৎসাহই পরবর্তী জীবনে তাকে সাফল্যের দরজায় নিয়ে যাবে।
ব্যর্থতা ভীতিকর কিছু নয় : শিশুর ভুলগুলোকে তার শিক্ষার অংশ হিসাবে দেখতে হবে। ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণকে একটি সুযোগ হিসাবে দেখতে হবে। ভুল করলে বাচ্চাদের ভবিষ্যতে সঙ্কট মোকাবেলার ক্ষমতা বাড়ে।
কোনো লেবেল বা তকমা নয় : কোনো লেবেল বা তকমা সেটে দিলে আপনার বাচ্চা অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। ভবিষ্যতে কোনো ব্যর্থতার ভয়ে সারাজীবন সে কুঁকড়ে থাকতে পারে।
শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ : প্রতিভাবান শিশুরা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ চায়। তাদের নিজের গতিতে শিখতে চায়। চলতি শিক্ষা ব্যবস্থার মাঝে তাদের সেই বিশেষ চাহিদা পূরণে বাবা-মাকে শিক্ষকদের সাথে নিয়মিত পরামর্শ করতে হবে।
শিশুর সক্ষমতা যাচাই : বাড়তি চাপ দেওয়ার জন্য স্কুলের সাথে দেন-দরবার করার আগে আপনার শিশুর শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে হবে। আপনার শিশুর অনেক অজানা সমস্যা থাকতে পারে। যেমন ডিজলেক্সিয়া, তার মনোযোগের ঘাটতি থাকতে পারে, তার হাইপার-অ্যাকটিভিটি বা অতিমাত্রায় চঞ্চলতার সমস্যা থাকতে পারে।
কিন্তু কীভাবে আপনির বুঝবেন আপনার বাচ্চা প্রতিভাধর? কিছু ইঙ্গিত- মনে রাখার অস্বাভাবিক ক্ষমতা। খুব অল্প বয়সে পড়তে শেখা। অস্বাভাবিক কিছু আগ্রহ, শখ অথবা বিশেষ কিছু বিষয়ে গভীর জ্ঞান। বিশ্বের চলমান ঘটনাবলী সম্পর্কে ধারণা। সবসময় প্রশ্ন করা। উচ্চমানের রসিকতা বোধ। সঙ্গীত নিয়ে আগ্রহ। নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগ্রহ। খেলার সময় নতুন এবং অতিরিক্ত নিয়মকানুন তৈরির ক্ষমতা।

সংসদ নির্বাচনে কোন
আসনে কত ভোটার
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির পথে রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের করণীয়গুলোর মধ্যে সীমানা পুনর্র্নিধারণ, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণ, প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাসহ বেশ কিছু কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা সিডি আকারে প্রকাশ করে তা মাঠ প্রশাসনে পাঠানোও হয়েছে। ইসি-সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের জন্য যে ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তাতে মোট ভোটার দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০। এই সংখ্যা এ বছর ৩১ জানুয়ারি হালনাগাদকৃত ভোটারের থেকে ৪৮ হাজার ৯৯টি ভোট বেশি। এই অতিরিক্ত ভোটাররা গত আট মাসে নতুন ভোটার হিসেবে তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। ইসির তথ্য অনুযায়ী মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন এবং নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১জন। খবর বাংলাট্রিবিউনের
কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত আইন অনুযায়ী ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তি ষ পৃষ্ঠা ৯, কলাম ৬
ষ শেষ পৃষ্ঠার পর

ও স্থানান্তরের সুযোগ রয়েছে সেই হিসেবে এই সংখ্যায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।
আসন ভিত্তিক ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সব থেকে বেশি ভোটার রয়েছে ঢাকা-১৯ আসনে। এই আসনের ভোটার ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩০১ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ভোটারের আসন হচ্ছে যশোর-৬ (কেশবপুর)। এই আসনে ভোটার এক লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৫ জন। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন আসনের ভোটের ব্যবধানই হচ্ছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৫১৬ ভোট। যা আসনভিত্তিক গড় ভোটারের থেকে অনেক বেশি। আসন ভিত্তিক গড় ভোটার সাড়ে তিন লাখের থেকে কিছুটা কম।
৩০০ সংসদীয় আসনের আসন ভিত্তিক ভোটার হচ্ছে—পঞ্চগড়-১: ৩৭৯২০২, পঞ্চগড়-২: ৩৩৪৮৬৫; ঠাকুরগাঁও-১: ৪২২১২৪, ঠাকুরগাঁও-২: ২৭৩৪১৪, ঠাকুরগাঁও-৩: ৩০০১৭৪, দিনাজপুর-১: ৩৪৪০৪৩, দিনাজপুর-২: ৩০৬৫৬২, দিনাজপুর-৩: ৩৪৯৩৭৯, দিনাজপুর-৪: ৩৪২৮৮৪, দিনাজপুর-৫: ৩৯৯২৪১, দিনাজপুর-৬: ৪৬৬১৭২, নীলফামারী-১: ৩৭২৫৪০, নীলফামারী-২: ৩১১৬৯৯, নীলফামারী-৩: ২৩৬১৬৮, নীলফামারী-৪: ৩৭১৯৭৩, লালমনিরহাট-১: ৩১৮০২৩, লালমনিরহাট-২: ৩৪৬২৮৪, লালমনিরহাট-৩: ২৫১৭৪৩, রংপুর-১: ২৮৭৯৮৪, রংপুর-২: ৩১২৮১৫, রংপুর-৩: ৪৪১৬৭৩, রংপুর-৪: ৪১২৯৫৯, রংপুর-৫: ৩৮৬৪১৪, রংপুর-৬: ২৯২৯৯৭, কুড়িগ্রাম-১: ৪৬১৪১৬, কুড়িগ্রাম-২: ৪৯৩৩৩৬, কুড়িগ্রাম-৩: ৩০৩০১৩, কুড়িগ্রাম-৪: ২৮৯১১৭, গাইবান্ধা-১: ৩৩৯১৪৬, গাইবান্ধা-২: ৩৩৪৫৮৪, গাইবান্ধা-৩: ৪১১৯৪২, গাইবান্ধা-৪: ৩৮৬২৪৬, গাইবান্ধা-৫: ৩১৩৭৪৬ জন ভোটার।
জয়পুরহাট-১: ৩৯৯২৪৬, জয়পুরহাট-২: ৩০৭৩০৩, বগুড়া-১: ৩১৭৫৪৫, বগুড়া-২: ২৯৬৪১৩, বগুড়া-৩: ২৯৬৪৫৩, বগুড়া-৪: ৩১২০৮১, বগুড়া-৫: ৪৭৫৫৪৭, বগুড়া-৬: ৩৮৭২৫৪, বগুড়া-৭: ৪৬১৪৭১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১: ৪১৬০৫৪, চা