লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বাঙ্গালহালিয়াতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও সেচ পাম্প ব্যবহার

রাজস্থলী প্রতিনিধি

18

রাজস্থলী উপজেলাধীন বাঙ্গালহালিয়াতে দীর্ঘদিন ধরে মিটার বিহীন অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ও শক্তিশালী সেচ পাম্প ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলাদি জমিতে পানি সরবরাহ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত দুই সহদর বাঙ্গালহালিয়া শফিপুর এলাকার হানিফ পাটোয়ারী ও ইসমাইল পাটোয়ারী নামক দুই ভাইকে ধরে ফেলে। তাদের কাজ থেকে একটি অবৈধ মিটার জব্দ করতে সক্ষম হয়। ঘটনা ঘটেছে রাজস্থলী উপজেলাধীন বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের শফিপুর এলাকায়। স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে শফিপুরে বসবাসরত হানিফ পাটোয়ারী ও ইসমাইল পাটোয়ারী দুই সহোদর নিজেদের চন্দ্রঘোনা আবাসিক বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিসের মিটার চেকার পরিচয় দিয়ে এলাকায় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নানা ভাবে হয়রানি করে আসছে। তাছাড়া তারা উভয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে এবং মিটার বিহীন সেচ পাম্প ব্যবহারের মাধ্যমে ধানী জমিতে পানি সরবরাহ করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এলাকাবাসী বিষয়টি বিলম্বে টের পাওয়ার পর ঘটনারদিন বিকালে ২০-২৫জন এলাকাবাসী অবৈধ সেচ পাম্প চালু অবস্থায় অভিযুক্ত হানিফ পাটোয়ারী ও ইসমাইল পাটোয়ারীকে একটি মিটারসহ হাতে নাতে ধরে ফেলে। পরে অবৈধ মিটারটি স্থানীয় বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ঞোমং মারমার নিকট জমা দেওয়া হয় এবং অভিুযক্ত বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান। এরা দুই ভাই মিটার চেকার ক্ষমতা দেখিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নানা ভাবে হয়রানি করে আসছে। তারা মিটার চেকারের অযুহাতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে এবং অবৈধভাবে সেচ পাম্প ব্যবহার করে প্রতি কানি ফসলী জমিতে পানি সরবরাহ বাবদ ৩-৪ হাজার টাকা করে নিচ্ছে। এভাবে তারা ইতিমধ্যে প্রচুর সম্পদের মালিক হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয় হানিফ পাটোয়ারীর সাথে আলাপকালে মুঠোফোনে বলেন, তার বড় ভাই ইসমাইলকে চন্দ্রঘোনা আবাসিক প্রকৌশল অফিস হতে অস্থায়ী ভাবে রাজস্থলী উপজেলাসহ শফিপুর এলাকায় মিটার চেক করার দায়িত্বে নিয়োজিত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে চন্দ্রঘোনা বিদ্যুৎ আবাসিক প্রকৌশলী আশফাকুর রহমান মজিদের সাঠে মুঠো ফোনে দুই ভাই সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে স্থায়ী কোন কর্মচারী নয় বলে জানান তিনি। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন আগে একটি সেচ পাম্প বসানো হয়েছে। পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমোদনের জন্য একটি আবেদন করার কথা রয়েছে। তবে দুই দিন আগে বসানো সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগটি অবৈধ বলে তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে বাঙ্গালহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি শুনেছি তাদেরকে মানুষের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সহ মিটার চেকিং এর দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু তারা এলাকার মানুষের অবৈধ সংযোগ দিয়ে দিনরাত অবৈধ লাইনের পানি সেচ সরবরাহ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়টি আবাসিক প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানান। ইতিপূর্বে অভিযুক্তদের পিতা বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি অবসরে যাওয়ার পর সেই সুযোগগুলো তার সন্তানেরা কাজে লাগিয়েছে।