বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব লিবারেশন ওয়ার

শাহাব উদ্দিন মাহমুদ

45

আমাদের জাতীয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় হলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। অসীম সাহসিকতা, বীরত্ব, আত্মত্যাগ, আর অবর্ণনীয় দুঃখকষ্ট উৎরে যাওয়ার বড় এক পাঠশালা এই মুক্তিযুদ্ধ। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান যত খারাপই হোক না কেন, বাংলার ধনসম্পদ ও প্রাচুর্যের কারণে এই অঞ্চল বিদেশিদের নিকট আকর্ষণীয় ছিল। ব্রিটিশরা ভারতবর্ষ আর বাংলা দখল করার সঙ্গে সঙ্গে বাঙালিদের জীবনে নেমে আসে দুঃখ-দুর্দশা। শুরু হয় সাধারণ বাঙালিদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন। ব্রিটিশদের শোষণ-নির্যাতন যতই তীব্র হচ্ছিল বাঙালি তাদের সত্তাকে জাগিয়ে তুলবার জন্য তেমনি কঠিন ও কঠোর হয়ে উঠে। বাঙালির মাঝে নতুন মূল্যবোধের উন্মেষ ঘটে। চুড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জনের আগে ব্রিটিশরা এই অঞ্চলটিকে প্রায় দুইশ’ বছর শাসন-শোষণ করেছে। তাদের হাত থেকে স্বাধীনতার জন্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দেয়, জেলে পচেঁ , দ্বীপান্তরিত হয়। হিন্দু-মুসলমানের রক্তে লাল হয়ে উঠে বাংলার মাটি। বঙ্গবন্ধু তখন তরুণ নেতা। অনাদিকালের ভ্রাতৃত্ব ও একতার মাধুর্যে গড়া বাংলার হিন্দু-মুসলমানদের দাঙ্গা রোধে বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন। জওহরলাল নেহরু, মহাত্মা গান্ধী সহ অনেকেই বাংলার বিভক্তি সমর্থন করেছিলেন। বাংলার অনেক মুসলমান নেতা ও সংস্কৃতিসেবীদের বাধার মুখেও ১৯৪৭ সালে বাংলা ভিন্ন জাতি সত্তার অংশ হয়ে যায়। এ বিভক্তি ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলার সংযোজন, হাজার বছরের গড়ে ওঠা বাঙালি সংস্কৃতিকে ধ্বংস করবার একটি নীলনকশা তা বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন। তাঁর বুঝতে বাকি ছিল না দ্বিজাতিতত্তে¡র ভিত্তিতে সৃষ্টি হওয়া পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামোতে বাঙালি নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত হবে। পাকিস্তান নামে পৃথিবীতে তখন অত্যন্ত বিচিত্র একটি দেশের জন্ম হয়, যে দেশের দুটি অংশ দুই জায়গায়। মাঝখানে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্ব, এবং সেখানে রয়েছে ভিন্ন একটি দেশ- ভারত! পাকিস্তানের জন্মের পর পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা এসে ঘোষণা করলেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। সাথে সাথে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা তার প্রতিবাদ করে বিক্ষোভ শুরু করে। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলেন রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার এবং আরো অনেকে। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৬ সালে বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে হয়। বাঙালিদের সবচেয়ে প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের তেজস্বী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেছিলেন। ছয় দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের সবরকম অর্থনৈতিক শোষণ, বঞ্চনা আর নিপীড়ন থেকে মুক্তির এক অসাধারণ দলিল। ছয় দফা দাবি পেশ করার সাথে সাথেই আওয়ামী লীগের ছোট বড়ো সব নেতাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পুরে দেয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কঠিন শাস্তি দেয়ার জন্যে তাঁকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে দেশদ্রোহিতার একটি মামলার প্রধান আসামি করা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা কিছুতেই এটা মেনে নিল না এবং ছাত্রদের এগারো দফা দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন এগিয়ে এলেন। এক পর্যায়ে আন্দোলন গণবিস্ফোরণে রূপ নেয়-কার সাধ্য আন্দোলন থামায়? ’৬৯-এর গণআন্দোলনে প্রাণ দিয়েছিল ফুটফুটে কিশোর মতিউর, আসাদ, যার নামে আইয়ূব গেটের নাম হয়েছিল আসাদ গেট।
পাকিস্তান সরকার শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সব নেতাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ২৫ মার্চ ১৯৬৯ সাল প্রবল পরাক্রমশালী প্রেসিডেন্ট আইয়ূব খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় নেন। জেনারেল ইয়াহিয়া খান ক্ষমতাগ্রহণ করেই পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর ইতিহাসের প্রথম সাধারণ নির্বাচন দেবার কথা ঘোষণা করেন। নির্বাচনের কিছুদিন আগে ১২ নভেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের উপক‚লীয় এলাকায পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড়ো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় দশ লক্ষ লোক মারা যায়। ঘূর্ণিঝড়ে কষ্টপাওয়া মানুষগুলোর প্রতি অবহেলা আর নিষ্ঠুরতা দেখে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সরকারের প্রতি বিতৃষ্ণা আর ঘৃণায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।
১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সারা পাকিস্তানে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ফলাফল দেখে জেনারেল ইয়াাহিয়া খানের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে, ফলাফল ছিল অবিশ্বাস্য! এই প্রথম পাকিস্তান শাসন করবে পূর্ব পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দ। বঙ্গবন্ধু পরিষ্কার বলে দিলেন, তিনি ছয় দফার কথা বলে জনগণের ভোট পেয়েছেন এবং তিনি শাসনতন্ত্র রচনা করবেন ছয় দফার ভিত্তিতে, দেশ শাসিত হবে ছয় দফার ভিত্তিতে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিল, কোনোভাবেই বাঙালিদের হাতে পাকিস্তানের শাসনভার তুলে দেয়া যাবে না। ১৯৭১ সালের মহাকাব্যিক মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের পরেই এসেছে আমাদের কাক্সিক্ষত বিজয়। ৩০ লাখ শহীদের বুকের তাজা রক্ত, লাখ লাখ মা-বোনের ওপর নির্মম নির্যাতন ও তাঁদের সীমাহীন আত্মত্যাগের বিনিময়ে ৯ মাস যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা। স্বাধীনতা যুদ্ধে ডাক দিয়ে বাংলার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করেছেন বাঙালীর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু এই সাফল্যমন্ডিত ইতিহাস আমরা কতটুকু জানি? বা পরবর্তী প্রজন্ম এই ইতিহাস কিভাবে জানবে? নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, শুনেছে গল্পাকারে অথবা বই পড়ে। সেই শোনা বা পড়া কতটুকু সঠিক বা তার বিস্তৃতি কতটুকু, তা আমরা জানি না। তাই বেড়ে ওঠা এই তরুণ প্রজন্ম যদি ভুল ইতিহাস শিক্ষা নেয় সেই দায় একা তার নয়! বরং সবার। ভুল শিক্ষা নিলে ধরে নিতে হবে নতুন প্রজন্মের সামনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারনেনি। তাই সময় এসেছে নতুন করে ভাববার লাখো শহিদের রক্তেভেজা বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তরের প্রধানতম কৌশল হতে হবে নিজেদের ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল ধারায় দেশপ্রেমিক নাগরিকে রূপান্তর করা। বাংলাদেশের মানবসম্পদের মাঝে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের চেয়েও বেশী পঁিচশের কমবয়সী। এই জনসংখ্যার বিশাল অংশ মানবিক মূল্যবোধে উজ্জিবিত দেশপ্রেমিক নাগরিক হওয়ার পরিবর্তে কেরানী হওয়ার দক্ষতা অর্জনের প্রতিযোহিতায় মত্ত। প্রজন্মকে দক্ষ জ্ঞানকর্মী বানাতে হলে প্রথমে মানবিক মূল্যবোধে উজ্জিবিত দেশপ্রেমিক নাগরিক বানাতে হবে। প্রচলিত শিক্ষায় বাংলাদেশের ইতিহাস মুক্তিসংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় তরুণ প্রজন্মের মন-মগজে প্রতিস্থাপন করতে হবে। এজন্য আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজাতে হবে, জাতিয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটানোর লক্ষ্যকে জ্ঞানকর্মী সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিবর্তন করতে হবে। বর্তমান বাংলাদেশে যে তিরিশোর্ধ জনগোষ্ঠী রয়েছে বা যারা ইতোমধ্যেই প্রচলিত ধারার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পেয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা সৃষ্টির মূল আদর্শ ও চেতনা থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করছে। বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বিবিত দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির কারখানা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এটিই আগামীর নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার মূল হাতিয়ার। নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার কৌশল বাস্তবায়নের আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার অর্ন্তনিহিত পরিবর্তন সাধন করা। শিক্ষা প্রতিষ্টান সমূহের পাঠ্যক্রমে বাধ্যতামূলক পাঠ্য হিসেবে বাংলাদেশের জন্মকথা ও পূর্বাপর ঘটনাপ্রবাহ অর্ন্তভ‚ক্ত করা, পাঠদান পদ্ধতি, মূল্যায়ন সকল পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল অডিও/ভিডিও ভার্সন প্রনয়ন করেই এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। বাংলাদেশ একটু বিলম্বে হলেও শুরু করেছে। স্থাপন করা হয়েছে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দুটি অনুষদের অধীনে দুটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট ফর অনলাইন অ্যান্ড ডিসটেন্স লার্নিং নামে একটি ইনস্টিটিউট রয়েছে। বিভাগ দুটি হলো প্রকৌশল অনুষদের অধীনে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ইন্টারনেট অব থিংকস (আইওটি) এবং শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের অধীনে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন আইসিটি ইন এডুকেশন। যেখানে প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রম তৈরি, শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরির কার্যক্রম চলমান থাকলেও গতিপ্রকৃতি আশাব্যাঞ্চক নয়! দেশের লাখো শিক্ষার্থী সীমিত পরিসরে ইন্টারএ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যারের সাহায্যে শ্রেণী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করলেও এইসব কনটেন্ট বা সফটওয়ারে বাঙালির জন্মকথা তথা মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস ঐতিহ্যের ছিটে ফোটাও নেই। অথচ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের অস্তিত্ব। বাঙালী জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। স্বাধীনতা এই একটি শব্দ জাতির শেকড়ের সন্ধান দেয়, ঠিক করে দেয় চলার মসৃণ পথ। আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে বিজয় দিবস বা দেশপ্রেমের ব্যাপারটি আনুষ্ঠানিকতায় যেন সীমাবদ্ধ না থাকে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। বিজয়ের মাস এলেই টিভির কোনায় বাংলাদেশের পতাকা বা বিজয়ের চিহ্ন দেয়া এবং পত্রিকাগুলো বিশেষ লেখা প্রকাশ করার মাধ্যমে যদি আমরা স্বাধীনতার মহান সংগ্রামকে আবদ্ধ করে ফেলি তবে সেটা শেখা বা জানার জায়গাকে সঙ্কুচিত করে ফেলবে। নিশ্চয়ই বিশেষ দিনগুলোতে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে, স্মরণ করা হবে শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কিন্তু তার কার্যপরিধির বিস্তার ঘটাতে হবে সারা বছর ধরে। তবেই তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শেখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। স্বাধীনতা বা বিজয় দিবস এলেই স্কুলে নানা ধরনের কর্মকান্ড হয়। শোকের দিনে ওরা বুকে কালো ব্যাজ ও মাথায় পতাকা বেঁধে আসে। এই শ্রদ্ধা ও সম্মানের জায়গা তখনই স্বার্থক হবে যদি এই শিশু-কিশোররা প্রকৃত অর্থেই মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সম্পর্কে জানে। মুক্তিযুদ্ধ যেন বর্তমান প্রজন্মের প্রাত্যহিক জীবনের একটি অংশ হয় সে চিন্তার জায়গা থেকেই ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব লিবারেশন ওয়ার’ নামে একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিদ্যালয় স্থাপন করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উদাত্ত আহব্বান জানাচ্ছি। জীবনের বাঁকে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে মেশার পাশাপাশি কিশোর শিক্ষার্থীদের মাঝেই হারিয়ে গিয়েছি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম নিয়ে গবেষণার উন্মোচন করার তাড়না থেকে আমার এই প্রস্তাবনা। আমরা যাদের চোখ দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ দেখব, তাদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধুকে ছড়িয়ে দেবার প্রত্যয় নিয়েই এই বিশ্ববিদ্যালয় তরুণ প্রজন্মের কাছে সত্যিকারের ইতিহাস পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করবে। প্রজন্মকে দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জ্বিবিত করা, স্বাধীনতার ইতিহাস, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে জাতির জনকের হত্যা, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একের পর এক অপপ্রচারসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রকৃত সত্য তুলে আনতে বিশেষায়িত স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি ব্যাপক গবেষনা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আমরা চাই, বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়ে উঠবে একটি করে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার’ যেখানে বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস নিয়ে লেখা গুণীজনদের বই থাকবে, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোচনা করা হবে, টুঙ্গিপাড়ার এক খোকা কিভাবে হয়ে উঠেছিলেন স্বাধীন বাংলার পিতা, কিভাবে এক তর্জনীর ইশারায় পাল্টে গিয়েছিল একটি জাতির ইতিহাস-এ সবকিছু শিক্ষার্থীরা জানবে ও শিখবে আনন্দের মাধ্যমে।
তারুণ্যদীপ্ত শিক্ষার্থীরাই জাতির প্রাণশক্তি। তাদের ভাবনাগুলোই হবে বাংলাদেশের ভাবনা। ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব লিবারেশন ওয়ার’ স্থাপনের পুরো ব্যাপারটি আমার অবচেতন মনের ভাবনা ছাড়া আর বেশী কিছু নয়। মনে হয়েছিল যদি কোনভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টা জানানো যায় তাহলে তিনি হয়ত উদ্যোগী হবেন! কিন্তু আমার মতো অজঁপাড়া গাঁয়ের একজন সাধারন মানুষের নিতান্তই ব্যক্তিগত ভাবনা নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে কীভাবে যাওয়া যায়? কিংবা আদৌ যাওয়া সম্ভব কি-না সেটা আমার জানা নেই। তাই গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হলাম। আগামী বছর (২০২০ সাল) বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন হতে চলেছে এবং ২০২১ সালে বাংলাদেশের জন্মের ৫০বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী) উৎসব সমাগত। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন ও বাংলাদেশের জন্মের ৫০বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী) উৎসব উপলক্ষে কী করা যায় সেটি নিয়ে চলছে আলোচনা-পর্যালোচনা সর্বোপরি চারিদিকে সাজসাজরব। বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবন-কর্মের উপর ব্যাপক গবেষণা ও মুক্তিসংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়কে অধিকতর প্রাতিষ্ঠানিক রূপদিতে আমার ভাবনার কথা গণমাধ্যমের কল্যাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দেশবাসীর সমীপে পেশ করলাম। যদি সত্যি সত্যি অনলাইন অ্যান্ড ডিসটেন্স লার্নিং সুবিধা সম্বলিত ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব লিবারেশন ওয়ার’ নামে একটি বিশেষায়িত স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টিত হয় তাহলে অচিরেই ঘরে ঘরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পৌঁছে যাবে। বিশেষায়িত স্বতন্ত্র এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টিত হোক এবং এটি ঘিরে তরুণ প্রজন্মের অস্তিত্বে থাকুক বাংলাদেশ, তরুণদের কাজগুলো হোক বাংলাদেশের কাজ, তাদের সব স্বপ্ন হোক বাংলাদেশকে নিয়ে।