বাঁশখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কীর্তি জারিগানে ঢাকা জয়ের অপেক্ষায় মীম-বীথিরা

রাহুল দাশ নয়ন

39

সবার মাথায় মোড়ানো জাতীয় পতাকা, সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে দরাজ গলায় গাইছেন,‘ প্রথমে বন্দনা করি সৃষ্টিকর্তার নামে/তারপরে বন্দনা করি সকল গুরুজনে/ আছেন যত জ্ঞানীগুণী-শিক্ষানবিস সবাই/ খুদে শিশু সবাই মোরা প্রণাম জানাই/ দেশকে যারা করলো স্বাধীন দিয়ে তাজা প্রাণ/ বীরশ্রেষ্ঠ বীরবিক্রম বীরাঙ্গনার দান’।  ধ্বনি, সুর ও তালের অসাধারণ মিশ্রণ। গানটিতে মীম ভট্টাচার্য্য, অর্না দে, রেশমী সুশীল, বীথি সুশীলদের গলায় দেশের প্রতি নিখুঁত টানটাই যেন ফুটে উঠে। তাইতো বিচারকরা চার শিশু শিল্পীর গলার খেলা বুঝতে মোটেই সময় নেয়নি। চট্টলার তিন প্রাঙ্গণে কাঙ্খিত ঘোষণা দিলেন-‘তোমরাই বিজয়ী’। একটি গানেই উপজেলা, জেলার পর বিভাগ পর্যায়ে বাজিমাত করে এখন ঢাকা জয়ের অপেক্ষায় চার খুদে শিল্পী। অনুভূতি জানাতে গিয়ে মুচকি হাসিতে খুদে শিল্পী অর্না দে ও রেশমী সুশীল পূর্বদেশকে জানান, ‘আমরা বাড়িতে রবীন্দ্র সংগীত ও নজরুল সংগীতের মতো গানগুলোই বেশি চর্চা করি। স্কুলের স্যার ও মা-বাবার অনুপ্রেরণায় দেশাত্ববোধক গানটি নিয়মিত চর্চা করেছি। দেশাত্ববোধক অন্যান্য গানগুলোর চাইতে এটি একটু ব্যতিক্রম। কথা ও সুর মিলিয়ে গানটি গাইতে আমাদের খুব ভালো লাগে। আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল বলেই সবখানে জয়ী হয়েছি। ঢাকাতেও জিতবো’।

আগামীকাল আবারো রাজধানীর শাহবাগ শিশু একাডেমী প্রাঙ্গনে সেরা গানটি গাইবেন বাঁশখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়–য়া এ চার শিক্ষার্থী। সেখানে বিজয়ী হয়ে মৌসুমী পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় দেশাত্ববোধক জারিগানে এবার দেশ সেরা হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন তারা। সহযোগীতা ও সাহস যোগাতে পাশে পেয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠিদের। বাঁশখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ পূর্বদেশকে বলেন, ‘শিশুদের নিয়ে আজ (গতকাল) রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওণা দিচ্ছি। মঙ্গলবার (আজ) রিপোর্টিং শেষে বুধবারে দেশের সবক’টি বিভাগের সেরা বিদ্যাপীঠের সেরা দলগুলোর সাথে দেশাত্ববোধক জারিগান ক্যাটগরীতে লড়বে এরা। শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও অতীতের সাফল্যের প্রেক্ষিতে ধারণা করছি, ঢাকাতেও তারা শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখবে’। বাঁশখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা উষা রানী সাহা পূর্বদেশকে বলেন, ‘চার মেয়েই যথেষ্ট প্রতিভাবান। এরা জয়ী হতেই মঞ্চে উঠে। শিক্ষার পাশাপাশি গান, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের পথ দেখাতে সহায়তা করে। এ শিক্ষার্থীরাও পথের দিশা খুঁজে নিয়েছে। তাদের এগিয়ে যাওয়া শুধু একটি স্কুলের সফলতা নয়, এরা বাঁশখালীকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে’।  চার শিক্ষার্থীর প্রশিক্ষক শিল্পী সুকুমার মল্লিক পূর্বদেশকে বলেন, ‘আমি ও মডেল স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষিকা মিলি আট বছর আগে যৌথভাবে গানটি রচনা করেছিলাম। তখন থেকে অনেকেই গানটি গাইলেও এবার বিদ্যালয়ের চার শিশু শিল্পী তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তাদের গলা থেকে গান ছাড়ার যে ভঙ্গি তা অসাধারণ। গানটি গাইবার সময় চার শিশু শিল্পীই দেশের প্রতি নিজেদের যে প্রেম-ভালোবাসা রয়েছে তা ফুটিয়ে তুলে। তারই ফলশ্রুতিতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগ জয় করে তারা ঢাকার পথে’।