বাঁশখালীতে হাতির তান্ডবে অর্ধশত কাঁচাঘর ক্ষতিগ্রস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

13

আনোয়ারা উপজেলার পর এবার বাঁশখালীতে প্রতিরাতে তান্ডব চালাচ্ছে বন্যহাতি। রাতের আঁধারে হাতির আক্রমনে গত একসপ্তাহে কমপক্ষে ৫০টি কাঁচাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরমধ্যে গত রবিবার দিবাগত রাতেই পুকুরিয়া ইউনিয়নের দুই গ্রাম ও সাধনপুর ইউনিয়নের দুই গ্রামে বন্যহাতি তান্ডব চালায়। প্রতিদিন বন্যহাতি লোকালয়ে নেমে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিজস্ব কৌশলে হাতি তাড়াতে সাধারণ মানুষ সোচ্চার থাকলেও নিস্ক্রিয় রয়েছেন বন বিভাগ সাধনপুরের কচুজোন পাহাড়ি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মোহাম্মদ বাদশাহ বলেন,‘গত এক বছর ধরে হাতির আক্রমন বাড়ছে। গত বছর আমার দুটি গরু মারা যায় হাতির আক্রমনে। গতকাল রাতে আমার ঘরের মাটির দেয়াল ও বাণীগ্রাম স্কুলের কাছেও কয়েকটি ঘর ভেঙে দিয়েছে। প্রতিদিন রাতেই হাতি নেমে প্রধান সড়ক পার হয়ে পশ্চিম পাশের ঘর ভাঙছে। গত একসপ্তাহে কোন ঘরের দরজা, ঘরের দেয়াল ভেঙে কমপক্ষে ৪০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও কোনধরনের সহযোগিতা পাইনি।’
বাঁশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার পূর্বদেশকে বলেন, ‘প্রথমদিকে হাতির তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি। আবারো হাতির আক্রমনের বিষয়ে আমি অবগত নই। বন বিভাগের সাথে আলোচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
বাঁশখালীর কালীপুর বন বিভাগের রেঞ্জার রঈছ উদ্দিন পূর্বদেশকে বলেন, ‘গত রাতে সাত থেকে আটটি ঘর হাতির আক্রমনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাঝেমাঝে হাতি লোকালয়ে এসে হানা দিচ্ছে। এখানে আমাদের উদ্যোগের কিছু নাই। জনগণকে হাতি তাড়ানোর কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেয়া আছে।’
বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি কে.এম সালাহউদ্দিন কামাল পূর্বদেশকে বলেন, ‘ বাণীগ্রাম ও বৈলগাঁওয়ে প্রতিরাতে হাতি আসছে। হাতির আক্রমনে গত রবিবার রাতে তিনটি বাড়ির মাটির দেয়াল ভেঙে গেছে। প্রতিরাতে হাতি আসার ভয়ে বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রাবাসে থাকা ৩৬জন ছাত্র আতঙ্ক নয়ে রাত যাপন করছে।’পুকুরিয়ার ইউপি সদস্য ফরিদ আহমদ পূর্বদেশকে বলেন, ‘বন্যহাতির আক্রমনে পুকুরিয়ার ৬নং ওয়ার্ডের নতুন পাড়া ও নাটমুড়া গ্রামে বেশ কয়েকটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গভীর রাতে হাতির দল লোকালয়ে আসায় কোনধরনের প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় না। যে কারণে ইচ্ছেমাফিক ক্ষতি করে পুনরায় পাহাড়ে চলে যায় হাতি।’