বাঁশখালীতে দুই বাসের সংঘর্ষ, আহত ২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

13

বাঁশখালীতে বেপরোয়া স্পেশাল সার্ভিস ও সানলাইন সার্ভিসের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে পিএবি সড়কের সাধনপুর দমদমা দিঘি এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় সাইলাইন বাসের চালক মোহাম্মদ ফারুক (৩০) আটকে গেলে গাড়ির বডির কেটে তাকে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধার করেন।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ৯ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও অন্যান্যদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে সড়কে দীর্ঘ যানজট লেগে যায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করলে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়।
বাস যাত্রী ও স্থানীয়রা জানান, বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া পেকুয়া-মগনামা অভিমুখী যাত্রীবাহী সানলাইন সার্ভিস ও পেকুয়া উপজেলার টইটং থেকে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল অভিমুখী স্পেশাল সার্ভিসের বাস দুটি দমদমা দিঘি এলাকায় পৌঁছলে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় দুটি গাড়িতে কমপক্ষে ৬০ জন যাত্রী ছিলেন। সংঘর্ষে সানলাইন সার্ভিসের গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এসময় গাড়িতেই আটকে যান সানসাইস সার্ভিসের চালক মো. ফারুক। তাকে ফায়ার সার্ভিস টিম উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন, স্পেশাল সার্ভিসের গাড়িচালক মোহাম্মদ দেলোয়ার (৩৫), সহকারী মামুন (৩২), জলদী গ্রামের রায় গোপাল শীল (৫৪), পশ্চিম গুনাগরী গ্রামের মোক্তার আহমদ (৫৫), বাঁশখালী ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক জহিরুল কাদের (৪৫), ব্যাংক কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল (৫২), কোকদন্ডী গ্রামের পপি চক্রবর্তী (৪৭) ও সাইদুর রহমান (৩২)। দুর্ঘটনার পরপরই দ্রæত ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় আহত অনেকের নাম জানা যায়নি। ঘটনার পরপরই গুরুতর আহতদের চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আকতার, বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার, চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকাসহ বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে দুর্ঘটনাকবলিত আহত যাত্রীদের উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করেন।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, বাস দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর সংবাদ পাইনি। তবে আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।