বাঁশখালীতে ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন সার্ভেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক

16

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তারের হস্তক্ষেপে ঘুষ নেয়া টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন ভূমি অফিসের আলোচিত সার্ভেয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ। গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে শুনানিতে ঘুষ নেয়ার কথা স্বীকার করলে তাকে টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। একইসাথে তার বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ প্রতিবেদন আকারে বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার পূর্বদেশকে বলেন, ‘বিভাগীয় কমিশনার অফিসের নির্দেশমতে একটি অভিযোগের তদন্তের জন্য দুই পক্ষকে শুনানিতে ডাকা হয়। শুনানিতে জলদী ভূমি অফিসের সাবেক সার্ভেয়ার মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মহিউদ্দিন একশ, দুইশ টাকা করে ২০ হাজার টাকার মতো ঘুষ নিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। যে কারণে আমি টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ঘুষ নেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।’
অভিযোগকারী লেদু মিয়ার স্ত্রীর মজুমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী শারীরিকভাবে অক্ষম। কষ্ট করে চলাফেরা করেন। সার্ভেয়ার মহিউদ্দিন বাঁশখালীতে থাকাকালীন সময়ে একটি জায়গা আমাদের নামে করে দিবেন বলে টাকা নিয়েছিল। তিনি টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করলে ম্যাডাম টাকা ফেরত দিতে বলেছেন। উনি তাৎক্ষণিক সাত হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। বাকি ১৩ হাজার টাকা বৃহস্পতিবার (আজ) বিকাল ৪টায় ফেরত দিবেন বলেছেন। ম্যাজিস্ট্রেট ম্যাডামের জন্য দোয়া করি। উনার কারণেই টাকাগুলো ফেরত পেয়েছি।’
এ বিষয়ে জানতে সার্ভেয়ার মহিউদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। প্রসঙ্গত, গত বছর দুদকের গণশুনানিতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ ওঠে সার্ভেয়ার মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন চাকরি থেকে দূরে থাকার পর সম্প্রতি আবারো সাতকানিয়া ভূমি অফিসে চাকরিতে যোগদান করেন তিনি।