বর্ষা

চৌধুরী শাহজাহান

5

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর দেশে এলো প্লাবন খরা
বৃষ্টি পড়ে পাহাড়তলী বাদামতলী আর মোহরা
বৃষ্টি পড়ে বি-বাড়ীয়া ফেনী ঢাকা চট্টগ্রামে
ভরা বর্ষায় শুধু তোমার কথা পড়ে মনে ।

পতেঙ্গার সী- বিচ হলো বর্ষা মাতাল
নতুন সড়ক বৃষ্টিতে হলো উথাল পাতাল
তোমার মনের এলোকেশী উদাস বাতাস
এসো সাগর বিহার করে মাতি উল্লাস

বৃষ্টি পড়ে সিআরবিতে শিরিষ বনে
দু’জন বৃষ্টি ভিজে স্বপ্ন বুনি নির্জনে
আজ তৃষিত রক্তিম অধর যোগল
এসো বর্ষায় ভেসে বেড়াই অথই জলে।

আষাঢ়স্য প্রথম দিনে তোমার কথা মনে পড়ে
প্রিয়তমা তুমি যে নেই কাছে চলে গেছো দূরে
জানতে ইচ্ছে করে কিভাবে কাটাও অষ্টপ্রহর
ওগো বর্ষা, তোমায় আমার ভীষণ মনে পড়ে।

আমাকে যারা খুঁজেছিল
আহমেদ মাওলা

১.
ধর্মের দোই তুলে দ্বিখÐিত হয় ভূমি, হেসে ওঠে ঠা-ঠা ইতিহাস
দাঙ্গার আগুনে দগ্ধ তুমি-আমি, বসতবাটি, সেকি নির্মম ইতিহাস!
নিরব নিদ্রায় কেটে গেছে বহুকাল, উদিত সূর্যের দেখিনি সকাল
লবণাক্ত ঘুমের শেষে জেগে দেখি, আঁচড়ে পড়ছে বায়ান্ন সাল।
রফিক-সালাম-বরকত নেমেছে রাস্তায়, ভাষার দাবিতে মিছিল
গুলিতে খুলি উড়ে যায়,তবু তীরের ফলার মতো ডাকে গাঙচিল।
একুশে ফেব্রæয়ারি আমার নতুন জন্ম, আমি সলাজ বাঙালি
গর্বিত মায়ের সন্তান আমি, প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়েছি ঢালি।
ফিনিক্স পাখির মতো জন্ম নেবো, রক্তে আমার বিদ্রোহী কারুকাজ
আমাকে গ্রহণ করো, বুকে তুলে নাও, যা-ই বলুক পÐিত সমাজ।
২.
সখি বলতে গেলে সেই দুঃখের বিবরণ, চোখে নামে নরম অশ্রæধারা
ক্ষত-বিক্ষত হয় হৃদয়, সমুদ্র ঢেউয়ের মতো বিপদ আমাকে করে তাড়া।
ভাই হারানো শোক বুকেতে আমার, আমি বিদ্রোহী বাঙালি
আমাকে অবাক করে আকাশে ওঠে, পূর্ণিমা চাঁদ রূপালি।
আসাদ-মতিয়ূও দেখিয়ে গেছে, সংগ্রাম পথ, সংগ্রামই সমাধান
একাত্তরে বাঙালি হাতে তুলে নেয় অস্ত্র, খুঁজে ফিরে মুক্তির সন্ধান।
যুদ্ধে যুদ্ধে নয় মাস কাটে, বয়ে যায় সময় রক্তের ধাঁধায়
ত্রিশলক্ষ শহীদের ঋণ, আজো আমাকে কাঁদায়।
ভুসুকী বাঙালি ছিল চর্যাপদের কবি, রাধার বিরহগাঁথা লিখেছেন চÐীদাস
সূর্যসেন-ক্ষধিরামের নামে জেগে ওঠে আজো বাংলার বিদ্রোহী বাতাস।
৩.
কী করে বলি, বলতে গেলে চোখ ফেটে অশ্রæ নেমে আসে
করুণ কান্নার মতো রক্তের দাগ লেগে আছে ঘাসে।
উনিশ’ শ একাত্তর,বদলে যাওয়া ইতিহাসের এক অধ্যায়
ত্রিশলক্ষ শহীদের নামে সমস্ত বাঙালি বিগলিত হয় শ্রদ্ধায়।
আজো সম্ভ্রম হারানো বোনের স্মরণে পালন করি নিরবতা
গা-ছুঁয়ে দেখ, আমি সে দেশের যুবক, তুমি কলমিলতা।
পল্টন মাঠে নেমে আসে লক্ষজনতা, মার্চ মাসের সাত
ঐ দেখা যায়, বজ্রকণ্ঠ শেখ মুজিবের মুষ্ঠিবদ্ধ সংগ্রামী হাত।
কান পাতলে আজো শোনা যায়, বাঙালির শৌর্যবীর্যের কাহিনি
যারা এনেছিল স্বাধীনতা, নাম তাদের মুক্তি বাহিনি।

স্নান ঘরে একা
আরিফ চৌধুরী

ঝরে পড়া বৃষ্টিতে ¯œান ঘরে একা
ছাদ খোলা দুপুরে দেহ মেলে
জুড়াও জলে কোন আগুনের তাপ
শরীরী বোধে বুকে ফোটে জমজ ফুলের সৌরভ
পাহাড়ি ঢালুর লাজুক আগুন বেয়ে
বৃষ্টির জল নামে পুর্ণতার লাজে,
অনূভুতির ছোঁয়া লাগা জল ভেজা ঠোঁটে
ভেজা বকুলের শিশির ভেজা ঘ্রাণে
তোমার মনের গভীরে আর্বর্তিত স্বপ্নে জাগে
নতুন বিভার সুরে, কটিদেশ ছুঁয়ে বৃষ্টি জলের ধারায়
¯œান ঘরে ফোটে মাতাল যৌবনের ফুল.
খুলে যায় বাঁধনের টানে ভরা শরীরের সকর বাঁক।
লজ্জাবতী লাজ ঢেকে যায় বৃষ্টি জলের শব্দে
ছাপখোলা তলোয়ারের মতোন খুলে যায় যাপিত যৌবন
চাঁদের জোছনা বিভা ছড়ায় শরীরে
¯œান ঘরে জমে থাকা অলক্ত লাজ
ছায়ার প্রতিচ্ছবিতে স্বপ্ন আঁকে
পূর্ণতার মোহন ছোঁয়ায়।

শ্রাবণের ষোড়শ জলে
হাসান ইকবাল

শ্রাবণের সজল মেঘে ঢেকে গেছে মনের আকাশ
বৃষ্টি বিলাসে মেতেছে কদম কেয়ার আলাপন,
জলকন্যার দু’চোখে বিরহী বর্ষার ষোড়শ প্লাবন।

জাগতিক জলের কোরাসে সুর তোলে কথা বলে
পানকৌড়ি, শ্রাবণের শীতল জলে কথা বলে জলপরী;
তুমি-আমি কথা বলি ভালোবাসার ভেষজ জলে।

প্রথম দেখার দিন
শেখর দেব

সেদিনের রোদ কেমন উজ্জ্বল ছিল মনে নেইআজ
তবে মনে আছে শুধু বৈশাখী বিশেষ দিন
চারদিক অমোঘ খেয়ালে বাজে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মুগ্ধ হয়ে শুনিতার প্রেম, প্রকৃতি ও পূজা।

সারাদিন প্রতিক্ষার প্রহর গুনেছি
আসন্ন বিকেল বেলা কোন এক তিলোত্তমা
কণ্ঠে রবি গান নিয়ে সামনে দাঁড়াবে এসে
প্রকৃত আঁখির আগে মুখোমুখি বসে
চোখের ভাষায় গান গেয়ে শোনাবে আমায়।

কাটা পাহাড়ের পাশ ঘেঁষে
দুজন এলাম হেঁটে নন্দনকানন মোড়ে
ডিসিহিল ধরে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে
চারপাশ ধীরে ধীরে স্থির হয়ে উঠেছিল
শুধু সচল দুজন কথার সাগরে ডুবে
হাবুডুবু খেতে খেতে গেয়ে ওঠে
‘আমার পরাণ যাহা চায়…’।

ইসকনের মন্দিরে দারুণ কীর্তন বাজে গোধূলী সন্ধ্যায়
সেই সুর লাগলো না কানে এসে আজ
মালুম রহিত হলো দৃশ্যমান সব
শুধু কেমন উচ্ছল যুগল ¯্রােতের তোড়ে
ভেসে যাচ্ছে দুজনার মন আর বিন¤্র ঠাকুর।

শুরুটা এমন ছিল পঁচিশে বৈশাখে
এভাবে বন্ধন সুখে দুটি নদী মিশে গেল
এক ¯্রােতে বয়ে যাবে বলে
রবির কিরণ এসে মিশে যায় নান্দনিক সেই ¯্রােতে।

অপার আনন্দ
কুলসুম বারীদা

আজ কতদিন হলো-
আমাদের সেই মধুর আলাপন
সান্ধ্য-আড্ডা আর জমে ওঠে না
চায়ের কাপগুলো বেদনায় কাতর!
তোমার অধর-পরশে হয় না সজীব
বড্ড বিষণœ হয়ে পড়ে থাকে টেবিলের কোণে
পত্রিকাগুলো ধুলোয় মলিন, বইয়ের প্রচ্ছদ আছে তাকিয়ে…

কবে দেবে ছুঁঁয়ে!
প্রাণ ফিরে পাবে আবার কবিতাগুলো তোমার
দরাজ কণ্ঠের আবৃত্তি-মূর্ছনায়!

উতলা সমীরণের লুকোচুরি খেলায় দুলে ওঠে
বাতায়নের মায়াবী পর্দা; অথচ তুমি নেই!
ফিরে দেখো না তুমি বিমুগ্ধ নয়নে আর
দূর পাহাড়ের চ‚ড়ায় বিহঙ্গের ললিত নৃত্য

ছুটে যেতে পারো না অসীম দিগন্ত-বেলায়
রক্তিম সূর্য তোমারই অপেক্ষায় আভা ছড়িয়ে
তোমার যাতনায় ফুটিয়ে তুলেছে বুকের হাসি;
কবে আসবে ফিরে?কবে আঁকবে পদচিহ্ন বালুচরে?
কবে লিখবে আমার নাম আবার ফুলরেণু দিয়ে!
সুস্থ হয়ে এসো ফিরে, জাগুক ধরা অপার আনন্দ…

সই গো, সই …
মাহমুদ নোমান

প্রেম হারালে আর কিছু
হারানোর থাকে না মৎস্য –
পুচ্ছকেশ নাড়ালেও ঘোলাজলে
দুপুরবেলায় আর যাবো না
পুবের ধানের বিলে…
সমুদ্রের নাভি এই বুকে
ঘর ভেঙ্গেছে সে কবে,
হাঁটছি কারো বাড়ির পথে
ফিরেও আসছি পায়ের ছাপ
খোঁজে খোঁজে …