বর্ষায় সম্ভাব্য দুর্যোগের জন্য সতর্কতা জরুরি

10

বর্ষা বর্ষণের মাস । এবছর আষাঢ়ের শুরুতে বর্ষা তার সমহিমায় আবির্ভূত হয়নি। যদি ও বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন- ‘নীল নভগনে/আষাঢ় গগনে/তিন ঠাঁই আর নাহিরে/ওগো আজ তোরা/যাসনে ঘরের বাহিরে।’ এবছর বর্ষার বর্ষণ সমহিমায় শুরু হয়েছে আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে। ১ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফে একশ ৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টিাতের পর, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে একশ ৩৬ মিলিমিটার এবং বরিশালের খেপুপাড়ায় একশ ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে।
বর্ষা আমদের দেশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঋতু। বর্ষার কারণে এদেশ সুজলা সুফলা রূপ পায়। আষাঢ় শ্রাবণ দু’মাস বর্ষাকাল হলেও এদেশে গ্রীষ্মকাল থেকে বৃষ্টি অনিয়মিত শুরু হতে দেখা যায়। গ্রীষ্মে শুরু হয়ে বৃষ্টি হেমন্তকাল পর্যন্ত অনিয়মতি চলতে দেখা যায়। বিশ্ব-উঞ্চায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এদেশে বর্তমানে ঋতুচক্র তার নিয়ম মাফিক চলতে দেখা যাচ্ছে না। এবছর আষাঢ়ের অধিকাংশ সময় বৃষ্টিহীন প্রচন্ড তাপদাহে জনজীবন দুর্ভোগের শিকার হতে দেখা গেছে। যাই হোক এবছরের বর্ষা তার স্বরূপে আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে শুরু হয়েছে। দেশে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত হবার সময় সামনে রয়েছে। শ্রাবণে ভারি বৃষ্টিপাতের ইতিহাস তো রয়েছেই, তার উপর ভাদ্রমাসেও লাগাতার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। মাঝে মধ্যে কার্তিক মাসেও লাগাতার বৃষ্টি হয়। কার্তিক মাসে ঝড়ের ইতিহাসও রয়েছে। সে যাই হোক বর্ষা আমাদের দেশের জন্য খুবই উপকারী ঋতু। বর্ষার বিড়ম্বনা ও কম নেই। ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে মানুষ সাময়িকভাবে দুর্যোগে পড়ে। এ সপ্তাহে টানা কয়দিনের থেমে থেমে ভারি বর্ষণে দেশের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ে পাহাড় ধ্বসের আশংকা দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সম্ভাব্য সাময়িক দুর্ভোগ মোকাবেলায় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। পাহাড় ধ্বস এড়াতে দেশের স্থানীয় জেলা প্রশাসন মাইকিং করে পাহাড় ধ্বসের সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করার পাশাপাশি তাদের সরিয়ে নিচ্ছে। এবছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় ধ্বস ও সাময়িক বন্যা মোকাবেলায় বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকা, নিম্নাঞ্চলীয় এলাকাসহ পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিতে বসবাসকারী মানুষ সচেতন হলে সম্ভাব্য বিপদ আপদ থেকে নিরাপদ অবস্থানে থাকা যায়। এ বিষয়ে সমগ্র দেশের মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা পূর্বের তুলনায় বেড়েছে। সরকার ও এ বিষয়ে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে জনগণকে যে কোন বর্ষাকালীন দুর্যোগ থেকে রক্ষায় সজাগ করছে। যার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আমরা সাধুবাদ জানাই। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা দীর্ঘ দিনের। এবছর ও ভারি বর্ষণ হলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। সরকারি জলাবদ্ধতা সংক্রান্ত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা কমে আসবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। আবহাওয়া দপ্তর থেকে যে সকল বক্তব্য ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে তাতে ব্যাপক বন্যার সম্ভাব্যতা খুব একটা নেই। ব্যাপক বন্যা ছাড়া এবারের বর্ষা শেষ হোক এমন আশা সমগ্র দেশবাসীর।