বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে বৃক্ষরোপণ অভিযান

10

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) এর ক্যাম্পাসে ‘শিক্ষায় বন প্রতিবেশ, আধুনিক বাংলাদেশ’ স্লোগানে বৃক্ষরোপণ অভিযান কর্মসূচি ১০ জুলাই উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্টের অর্থায়নে ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম এলাকায় অবকাঠামোসমূহ উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে ক্যাম্পাস জুড়ে বিভিন্ন বৃক্ষ প্রজাতির ৩১ হাজার ৫০০টি চারা রোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বৃক্ষরোপণ অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. খুরশীদ আকতার। প্রশাসনিক ভবনের পাশে একটি নিম বৃক্ষের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএফআরআই এর মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা (বন ব্যবস্থাপনা উইং) ড. মো. মাসুদুর রহমান, বিভাগীয় কর্মকর্তা (প্রশাসন) ও প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। বৃক্ষরোপণের পর পরিচালক বলেন, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট এলাকা বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় বৃক্ষপ্রজাতির এক সমৃদ্ধ সংরক্ষণাগার। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রার ১৫ নম্বর লক্ষ্যে টেকসই বন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভূমির অবক্ষয় রোধ এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস প্রতিরোধের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। যেখানে অনেকগুলো সূচক রয়েছে; যা বৃক্ষরোপণ এবং বন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভবপর হবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাস এলাকার পূর্ব পাহাড়, পশ্চিম পাহাড়, অতিথি ভবন, প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন ফাঁকা স্থানে বনায়ন করা হয়। পাহাড়ের উপরিভাগে গুটগুটিয়া, তেলসুর, ধারমারা, বুদ্ধ নারিকেল, বহেরা রোপণ করা হয়। পাহাড়ের মধ্যভাগে সুন্দরী, সিভিট, জারুল, ঢাকিজাম, কাইনজল ভাদি, বট, বকুল, বৈলাম, কন্যারি, বান্দরহোলা, রক্তন, বাঁশ, বেত, হলদু, লটকন, তমাল, বাটনা, সিধা জারুল, ব্রুম গ্রাস রোপণ করা হয়। পাহাড়ের নিচু ভূমি বা ঢালুতে কদম, ডুমুর, হিজল, চালতা, করচ, তাল, বাঁশ, বেত, ফুল ঝাড়– (ব্রুম গ্রাস) রোপণ করা হয়। পাহাড়ের রাস্তার দুই পার্শ্ব জুড়ে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগেশ্বর, ফেল্টো ফোরাম, সোনালু, খেজুর রোপণ করা হয় এবং আবাসিক এলাকায় নিম, পুটিজাম, লটকন, কদম, বহেরা, হরিতকি, তাল, বাঁশ রোপণ করা হয়।
বৃক্ষরোপণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক বলেন, “পাহাড়ী ঢালুতে ভূমিক্ষয় রোধ করতে ফুল ঝাড়– (ব্রুম গ্রাস), বাঁশ, বেত রোপণ করা হচ্ছে। এ প্রজাতির বৃক্ষ পাহাড়ের মাটি শক্তভাবে ধরে রাখে। এছাড়া বিলুপ্তপ্রায় বৃক্ষ প্রজাতি যেমন বুদ্ধ নারিকেল, বৈলাম, গুটগুটিয়া, বান্দরহোলা, রক্তন, কন্যারি ইত্যাদি রোপণ করা হচ্ছে। সাথে সাথে ঔষধি উদ্ভিদ হরিতকি, বহেরা, সিভিট রোপণ করা হচ্ছে। এছাড়া এসব বৃক্ষ প্রজাতি বন্যপ্রাণী এবং পাখিসহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞপ্তি