স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভা

বঙ্গবন্ধু বাঙালির আত্মজাগরণের শক্তি : মাহতাব উদ্দিন

10

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালির আত্মজাগরণের শক্তি। ইতিহাস থেকে তাকে যারা মুছে ফেলতে চেয়েছিলো তারাই ইতিহাসের আস্থাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। গত ৯ বুধবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে নগরীর পল্টন রোডস্থ জহুর আহমদ চৌধুরী টাওয়ারে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু বিশ্ব জননায়ক। তিনি শোষিতের মুক্তি সংগ্রামের আদর্শিক প্রতীক। শান্তি ও প্রগতির অগ্রযাত্রায় তাঁর আহব্বান আমাদেরকে পথ দেখায়। তিনি এমনই একজন মহামানব বাঙালি জাতিসত্তাকে বিশ্বে উপস্থাপিত করে মাথা উঁচু করে দাড়াবার ঠাঁই দিয়েছেন। মুখ্য অলোচকের ভাষণে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এটিও ঠিক যে, বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট চক্র এখন নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের জ্বাল বুনতে থাকবে। তাদের দুরভিসন্ধি চরিতার্থ করতে এরা কিছুকাল হয়তো শীত নিদ্রায় বা হাইবারনেশনে যাবে, তারপর খোলস বদলে অন্ধকারের বিবর থেকে আবারও বাইরে বেরিয়ে আসবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছোবলে ছোবলে জর্জরিত করার উদ্দেশ্যে। তা আমাদের সকলকে অতন্দ্র প্রহরীর মত চোখ কান খোলা রেখে এদের প্রতিটি পদক্ষেপের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার প্রধান অবলম্বন। ১৯৭১ সালের আগে বাঙালির তিন হাজার বছরের ইতিহাসে আমরা স্বাধীন ছিলাম না। বাঙালির স্বাধীনতা এ প্রাপ্তির প্রদীপ শিখা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলার জনপথ কখনো হতদরিদ্র ছিলো না। বারবার ঐপনিবেশিক লুন্ঠন্নের শিকার হয়েছে। বাংলার সম্পদ লুট করে পাশ্চত্য সমৃদ্ধ হয়েছে। এ লুন্ঠনের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ, এই পবিত্র মাটিতে তিনি চির সবুজের মাঝে লালবৃত্ত। তিনি আমাদের প্রতিদিনের সুর্য্যােদয়ের হাসি।
সভাপতির ভাষণে নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য শেখ মাহমুদ ইছহাক বলেন-স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও বাংলাদেশ শঙ্কামুক্ত নই। নানা ধরনের চক্রান্তের জাল বুনা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানি সেনার শিবিরের মেহমান ও সেবাদাসী কুখ্যাত ঘসেটি বেগম এইসব চক্রান্তের মূল হুথা। তাকে বিচারের মুখোমুখি করে জাতিকে পাপমুক্ত করতে হবে। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিবসের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এড. সুনীল সরকার, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আলহাজ শফর আলী, কার্যনির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল হাসান, জাফর আলম, চসিক কাউন্সিলর ও নারী নেত্রী আবিদা আজাদ, ইকবাল চৌধুরী, মাস্টার কামাল উদ্দিন, অলিদ চৌধুরী, সুমন দেবনাথ, কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য জাহেদুর রহমান সোহেল, আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত, ফয়সাল বাপ্পী, নগর ছাত্রলীগের সদস্য জালাল উদ্দিন রানা, সংস্কৃতিকর্মী শওকত আলী সেলিম, নজরুল ইসলাম মোস্তাফিজ, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, এনাম উদ্দিন, মুজিবুর রহমান, মো. আদি, মো. ইয়াকুব আবেদ প্রমুখ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাধীণ বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সুযোগ্য সন্তান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল আলমের মৃত্যুতে মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। বিজ্ঞপ্তি