বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম ও কীর্তিমান অধ্যায়ের পাঠ

দিলীপ কুমার বড়ুয়া

48

ইতিহাসের এক দুর্মর ঘুর্ণাবর্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা একজন সাধারণ মানুষকে অনন্য সাধারণ অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছিল। যার সংগ্রামে তেজস্বী মনোভাব এবং বজ্রকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল স্বাধীনতার স্পর্ধিত উচ্চারণ। তিনি বাঙালির জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর দেশপ্রেম ও নিষ্ঠা ছিল আকাশচুম্বী। দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দায়বোধ তাঁকে মহীরুহে পরিণত করেছিল। তাঁর জীবন ও কর্ম ধ্রæপদী উপন্যাস ও মহাকাব্যিক জীবনবোধকে ছাপিয়ে গেছে এবং ইতিহাস ঐতিহ্যের শাশ্বত পটভ‚মিতে বাঙালির জীবনে তিনি মহাকালের বাতিঘর হয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী আলো ছড়াবেন।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশক শাসন অবসানের পর স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধারাবাহিক নানা আন্দোলন-সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু নেতৃত্ব দেন। ১৯৪৬, ১৯৪৭, ১৯৪৮, ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০, ১৯৭১- এ সংগ্রাম আন্দোলনের প্রতিটি পর্বে তাঁর প্রাজ্ঞ ও সাহসী নেতৃত্বের অভিজ্ঞান ছড়িয়ে আছে। পাকিস্তানি শাসকদের অত্যাচার, নির্যাতনকে উপেক্ষা করে অকুতোভয় হৃদয়ে তিনি এগিয়ে গেছেন। এই উপমহাদেশে ভাষাভিত্তিক জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব তাঁর। তাঁর অনমনীয় নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। মাত্র ৫৫ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে তিনি বাঙালি জনমানসে রূপকথার মহানায়কের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তাই তিনি বাঙালির আবেগ ও শক্তির উৎস। সমগ্র দেশ ও সমগ্র জাতির অস্তিত্বকে তিনি তাঁর মধ্যে ধারণ করেছেন এবং বাঙালির সমগ্র চেতনা, সমগ্র প্রত্যাশা পূরণে জাতির আন্তপরিচয় ও আন্ত-আবিষ্কারের যুথবদ্ধ পথ নির্মাণ করেছেন। স্বদেশকে নির্মাণ করতে গিয়ে তাঁর জীবনের চেয়ে মূল্যবান সময় ব্যয় করেছেন এবং সংগ্রাম ও ত্যাগে হতে পেরেছেন বাঙালির প্রাণপুরুষ ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। বাঙালি জাতিকে ভালোবেসেছিলেন নিজেকে উজাড় করে। তাই তো তিনি আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছেন। তিনি গড়েছিলেন এক রক্তাক্ত আদর্শের পতাকা।
বঙ্গবন্ধুর দিগন্ত প্রসারী ভাবনার জগৎ, চিন্তার প্রান্তর, সংগ্রাম মুখর জীবন এবং কর্মের দ্যুতি ছড়িয়ে আছে বাঙালির মনন সৃজনে। তাঁর হৃদয়ের প্রতিটি অলিন্দে লুকিয়ে আছে অপার বিস্ময়, শিহরণ জাগানিয়া অপূর্ব জীবনকাব্যের দ্যোতনা । আমাদের সাহস, দ্রোহ, বিপ্লব আর সংগ্রামের প্রেরণার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের গৌরব আর শৌর্যকে অন্তরে লালন করে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম ও কীর্তিত অধ্যায়ের পাঠ এখনো জরুরি। বঙ্গবন্ধু নিরন্তর সংগ্রামের প্রত্যয়ে জীবনের বিপুল বিস্তার ও ত্যাগের সাধনায় অবিচল ছিলেন। সে জীবন স্বপ্ন দেখায় ভবিষ্যতের সোনার বাংলার । তাই একজন আদর্শ বাঙালি হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হলে ও সবার আগে শেখ মুজিবের জীবন, কর্ম ও আদর্শের পাঠ নিতে হয়। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্থপতি যিনি, তাঁর ভাবনার জগৎকে জানতে হয়। বঙ্গবন্ধুর জীবন পাঠের মধ্য দিয়ে নিজের সামনে উন্মোচিত হবে অজস্র আলোকরেখা। যে আলোকরেখার বিচ্ছুরণে প্লাবিত হবে হৃদয় জমিন। শেখ মুজিবের জীবন পাঠের মধ্য দিয়ে অনিবার্য ভাবে প্রতিটা বাঙালি তাঁর অব্যয়, অক্ষয় জীবনের রস আস্বাদনে অধ্যায়ের পরতে পরতে আবিষ্কার করবে অজানা সব তথ্য । ফিদেল কাস্ত্রোর হিমালয় না দেখার আক্ষেপ মিটেছে যে শেখ মুজিবকে দেখে, অন্নদাশংকর রায় গৌরী যমুনার বিশালতায় মিলিয়েছেন যে মুজিবকে, সে মুজিবকে অনুশীলন, তাঁর জীবনের অমৃতসুধা পান খুব সহজ কাজ নয়। শেখ মুজিবের অসমাপ্ত আত্মজীবনী পাঠের জন্য এর চেয়ে নির্ভর আর কোনো বই হতে পারে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠে শুধু ৭ মার্চের ভাষণই উচ্চারিত হয়নি, তিনি তুলে নিয়েছিলেন কলমও। তিনি কারাবন্দি জীবনের ফাঁকে ফাঁকে সময়ের সদ্ব্যবহারও করেছেন। তিনি লিখে গেছেন তাঁর আত্মজীবনী। যদিও তা সমাপ্ত করে যেতে পারেননি। তাঁর নিজের বয়ানে নিজ জীবনের আদ্যোপান্ত বিধৃত করেছেন এ গ্রন্থে। এ গ্রন্থ পাঠ বঙ্গবন্ধুকে জানার সর্বোত্তম মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাঙালির মুক্তি আন্দোলনের এক অবিসংবাদিত নেতার দুরন্ত শৈশব, হার না- মানা কৈশোর আর বাঁধভাঙা তারুণ্যের দ্রোহ সাহসের অনুপম ভাষ্য অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিপিবদ্ধ হয়েছে সুনিপুন ভাষা শৈলীতে। এমনকি জনকের জীবনের বহু অজানা কথা প্রকাশিত হয়েছে এ গ্রন্থে। কারাগারে বসে লেখা বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী অসমাপ্ত হলেও আত্মজীবনীক রচনার ক্ষেত্রে এটি একটি উজ্জ্বল মাইলফলক। তাঁর আত্মজীবনী শুধু এক রাজনীতিকের স্মৃতিকথা নয়, উপমহাদেশের রাজনীতির ইতিহাস ঐতিহ্য, ভাষা সংগ্রাম , স্বাধিকারের অক্লান্ত চেতনার এক অনবদ্য আখ্যান । কারাগারে বসে বঙ্গবন্ধু যে আত্মজীবনী লেখায় হাত দিয়েছিলেন এবং লেখার প্রেক্ষাপট, বংশ পরিচয়, জন্ম, শৈশব, স্কুল ও কলেজের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাÐ, দুর্ভিক্ষ, বিহার ও কলকাতার দাঙ্গা, দেশভাগ, কলকাতাকেন্দ্রিক প্রাদেশিক মুসলিম ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগের রাজনীতি, দেশ বিভাগ পরবর্তী সময় থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলার রাজনীতি, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সরকারের অপশাসন, ভাষা আন্দোলন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা, যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন, আদমজীর দাঙ্গা, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক শাসন ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের বিস্তৃত বিবরণ এবং এসব বিষয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে। কারাজীবন, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি এবং সর্বোপরি সহধর্মিণীর কথা, যিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সহায়ক শক্তি হিসেবে সকল দুঃসময়ে তাঁর পাশে অবিচল ছিলেন।
প্রশ্ন জাগতে পারে – বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষের পর ও কেন মুজিব পাঠ আবশ্যক। বাঙালি হিসেবে নিজেকে চিনতে হলে, নিজের শেকড় জানতে হলে, মা, মাটি আর মানুষকে জানতে, ভালোবাসতে হলে, দেশের মাটি, বায়ু, জল শরীরে মেখে বেড়ে উঠার রোমাঞ্চিত স্মৃতি মাধুর্য , সে দেশকে বুকে আগলে রাখতে হলে, ব্যক্তি অথবা জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে হলে সর্বোপরি অস্তিত্বের ভিত মজবুতের জন্য শেখ মুজিব পাঠ দরকার। যে দেশকে আমরা মা বলে সম্বোধন করি , যে দেশের নক্ষত্র আর চাঁদের জ্যোছনায় উদ্বেলিত আবেগ, মায়ায় জড়ানো যে মাটির প্রতিটি ধূলিকণা… সে দেশটিকে প্রকৃতপক্ষে ভালোবাসার জন্য শেখ মুজিব পাঠ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। কারণ শেখ মুজিব আর বাংলাদেশ বাঙালির অস্তিত্বে মিশে আছে একাকার হয়ে। যে জীবনের রহস্যজাল ভেদ করা কঠিন , যে জীবন সাগরের উত্তাল জলরাশির মতো জোয়ার ভাটার উদ্দামতা , যে জীবনের বেশির ভাগই কেটেছে কারাগারে সে জীবন ঘাত প্রতিঘাতের। সে জীবন আদর্শের, সে জীবন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গিত। বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন, তাঁর রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাত, বাঙালির সংগ্রাম-সংঘাত, ইতিহাসের নানা বাঁকবদল প্রভৃতি বিষয়গুলো নিয়ে আরেকটি গ্রন্থ কারাগারের রোজনামচা। এ গ্রন্থের প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালি জাতির সংগ্রামের ইতিহাস, খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার ইতিহাস। এর পরতে পরতে আছে এক অবিসংবাদিত নেতার জীবন ও সংগ্রামের গল্প। কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থটি দিনলিপি হলেও; তিনি কখনো ফিরে গেছেন রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে গড়ে ওঠা সেই ভাষা সংগ্রামের প্রারম্ভিক উত্তাল দিনগুলোয়। পাশাপাশি বর্ণনা করেছেন সেই সময়কার সংগ্রামে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের বীরত্বব্যঞ্জক ভ‚মিকার কথা। একজন মহান, মানবিক নেতার সং¯পর্শে এসে আলোর পথে ফেরা একজন কুখ্যাত চোরের জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তন। সে সত্য কথন ও বইটিতে সন্নিবেশিত হয়েছে। অসমাপ্ত আন্তজীবনী কিংবা কারাগারের রোজনামচা বই দুটো কোনো ব্যক্তিগত গ্রন্থ নয়, বরং ব্যক্তির বয়ানে বাঙালির উত্থান-পতনের এক আকর গ্রন্থ । এসব গ্রন্থের পাশাপাশি আবুল ফজলের শেখ মুজিব তাঁকে যেমন দেখেছি, এ বি এম মুসার মুজিব ভাই, শেখ মুহাম্মদ ইব্রাহিমের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, সেলিনা হোসেনের প্রিয় মানুষ শেখ মুজিব, আতিউর রহমানের বাংলাদেশের আরেক নাম শেখ, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জীবন ও রাজনীতি, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের শেখ মুজিব ও স্বাধীনতা সংগ্রাম, ড. আবদুল মতিনের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, কয়েকটি ঐতিহাসিক দলিল, অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান স¤পাদিত বঙ্গবন্ধু মহাকালের মহানায়ক, শ্যামল দত্ত ও সালেক নাসির উদ্দীন স¤পাদিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, পোয়েট অব পলিটিকস প্রভৃতি গ্রন্থ পাঠ, দৈনিক সংবাদ পত্রে বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে বিভিন্ন প্রবন্ধ মুজিব পাঠের সাহায্য করতে পারে। তা ছাড়া, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক যেকোনো রচনাতেই মুজিব পাঠ করা যায়। কেননা, বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস মিশে আছে। এ দেশের যেকোনো আন্দোলন– সংগ্রামের ইতিহাস পাঠ মানে শেখ মুজিবকে অধ্যয়ন। আসলে, এত ব্যপ্ত, এত অসীম ছিল তাঁর কর্মপরিধি যে বাঙালি, বাংলাদেশ আর শেখ মুজিব একই সূত্রে গাঁথা।
শেখ মুজিব এমনই এক অতল মহাসাগর, যার বুক জুড়ে বাংলার নিপীড়িত মানুষের আর্তি, সর্বব্যাপী তাঁর বিস্তার যে, তাঁকে অধ্যয়ন অনুশীলনের তৃপ্তি মিটবে না কখনো। কারণ তাঁর মধ্যে জেগে উঠেছিল বাংলার তেরোশত নদী, বঙ্গোপসাগর, আকাশ, প্রকৃতি, ঋতুপ্রবাহ, মানুষের জীবনধারা, আবহমান বাংলা। এ জাতির সমস্ত জাগরণ, সমস্ত দ্রোহ, সমস্ত স্বপ্ন, সমস্ত গরিমা নিজের মধ্যে ধারণ করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন একটি জাতির অগ্নিপুরুষ। তিনি হয়ে উঠেছিলেন একটি জাতির একটি দেশের স্বাধীন পরিচয়ের মানচিত্র; তাঁর দেহ জুড়ে অঙ্কিত ছিল বাংলাদেশ, হূদয় জুড়ে চিত্রিত ছিল বাংলাদেশ। তিনি ছিলেন সেই মানুষ যাঁর মৃত্যুর পরেও ভ‚লুণ্ঠিত রক্তাক্ত দেহ ছিল এদেশের স্বাধীন মানচিত্র, ‘রক্তমাখা বুক জুড়ে স্বদেশের ছবি’। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানা লেখনী, তথ্যচিত্র, ঐতিহাসিক বহু ভাষণ, সাক্ষাৎকার ও তো হতে পারে আমাদের জ্ঞান অন্বেষার বাহন। তারুণ্যকেই এগিয়ে আসতে হবে মুজিব পাঠে। তরুণ হৃদয়ে দেশকে ভালোবাসার প্রথম পাঠ হতে হবে শেখ মুজিব। মুজিবের ত্যাগ, বীরত্ব, সাহস, সংগ্রাম আর নেতৃত্বগুণ তরুণ প্রজন্মকে উজ্জ্বল আলোর পথ রেখার সন্ধান দিতে পারে। একজন মানুষ একটি দেশকে নিজের মধ্যে অপূর্ব মহিমায় ধারণ করেছিলেন, কিভাবে আগলে রেখেছে দেশ। তিনি আমাদের সত্তায়, চৈতন্যে, উত্থানে, জাগরণে সর্বদা অ¤¬ান হয়ে আছেন। বাঙালির প্রতিটি জাগরণে, প্রতিটি উত্থানে, প্রতিটি সংকটে তিনি সাহস ও ভরসা, আশা ও উদ্যম, তাঁর দিকে তাকিয়ে আমরা ভবিষ্যত রচনা করি। তিনি নশ্বর হয়েও অবিনশ্বর, মৃত্যুর পরও তিনি মৃত্যুহীন; এই দেশ এই বাংলা এই বাংলা ভাষা এই মাতৃভ‚মি এই মাতৃভাষা তাঁরই ললাটে অমরত্বের বিজয়টিকা এঁকে দিয়েছেন, দেশমাতৃকা তাঁর এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকেই অমরত্বের বর দান করেছেন। তাঁর নাম গাঁথা হয়ে আছে আমাদের হৃদয়ের শ্রদ্ধার সোপানে ।
ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ ক্যালি ড্রেজার বলেছিলেন, প্রায় ১২শ বছর পর বাঙালি জাতির পুনর্জন্ম হয়েছে এবং হাজার বছর পরে বাংলাদেশ এমন নেতা পেয়েছে, যিনি রঙে-বর্ণে, ভাষায় এবং জাতি বিচারে প্রকৃতই একজন খাঁটি বাঙালি। বাংলাদেশের মাটি ও ইতিহাস থেকে তাঁর সৃষ্টি এবং তিনি জাতির স্রষ্টা। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও আদর্শের দীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে আজকের উদ্ভাসিত বাংলাদেশ।
পনেরোই আগস্টে কিছু বেপথু রক্তলোলুপ নরপশু চেয়েছিল বাংলার কিংবদন্তী জনককে, বাংলার স্বাধীনতাকে, বাংলাভাষাকে, বাংলা বর্ণমালাকে, বাংলার গৌরবকে ছিন্নভিন্ন বিদীর্ণ করতে, অবলুপ্ত করতে চেয়েছিল বাংলার স্বাধীনতা, মুছে ফেলতে চেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের অর্জন। তাদের সেই অপপ্রয়াস ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। বাংলার জনগণ বিলম্বে হলেও আবার রুখে দিয়েছে ঘৃণ্য অপপ্রয়াস, সাহসে উঠে দাঁড়িয়েছে নির্ম‚ল করতে শত্রæদের চক্রান্ত। সেই জাগরণই আজকের বাংলাদেশের নবজাগরণ, কে তাকে রুধিতে পারে। বাংলার সেই গৌরবকে যারা অস্তমিত করতে চেয়েছিল তারাই আজ অস্তমিত হয়েছে কিংবা অস্তমিত হওয়ার পথে। ইতিহাসের পাতা থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলার অনেক অপচেষ্টা হয়েছে এই রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই। তবে সবংশে তাঁকে নির্মম হত্যার পরেও তিনি থেকে গেছেন বাঙালির হৃদয় ও মননের সমস্ত সত্তাজুড়ে।
বাংলা ও বাঙালির জয়রথ রোধ করার ক্ষমতা তাদের নেই। বাংলার মানচিত্রে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে সেই অপার ঐশ্বর্যশালী অবিস্মরণীয় নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জনক বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন আর শপথ নিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এখন বাবার সেই স্বপ্নের পথেই ধাবমান ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ সফল করার লক্ষ্যে। উন্নত দেশের কাতারে বাংলাদেশকে তার নিজস্ব পরিচয়ে বিশ্বসভায় ঔজ্জ্বল্যে ভরিয়ে দিতে তিনি নিরন্তর কাজ করছেন।

লেখক: রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ইউএসটিসি
কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক