বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা জননেত্রী থেকে বিশ্বনেত্রী

12

মো. মোরশেদুল আলম

২৮ সেপ্টেম্বর। বঙ্গবন্ধুতনয়া গণতন্ত্রের মানসকন্যা, মাদার অব হিউম্যানিটি খ্যাত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার জন্মদিন। তিনি বর্তমান বিশ্বে সরকার কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম সম্মানজনক স্থান অর্জনকারী একজন বিশ্বনেতা। বঙ্গবন্ধুর যাদুকরি নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন দুর্বারগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কুচক্রীমহলের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থাকায় মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় নির্মম এ হত্যাকাÐ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী সরকারের বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে দেশের চরম ক্রান্তিলগ্নে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এসে তিনি ভঙ্গুর আওয়ামী লীগের হাল ধরে একে পুনর্গঠিত করেন। জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ১৯৯৬ সালে দেশরতœ শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে সরকার গঠন করেন। এরপর ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনগুলোতেও নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে তিনি পরপর তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে সুশাসন, স্থিতিশীল অর্থনীতি, কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নয়নে গতিশীলতা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্নক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সফলতা এসেছে।
যে বাংলাদেশ ছিল একসময় অবহেলিত, দারিদ্র্যপীড়িত; যে বাংলাদেশকে নিয়ে পশ্চিমা-বিশ্ব উপহাস করত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে; প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার দূরদর্শী, সুদক্ষ, সৃজনশীল ও সাহসী নেতৃত্বের ফলে; সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়, উন্নয়নের রোলমডেল। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন আমাদের দেখিয়েছিলেন; সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে তাঁরই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরের মাধ্যমে, স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করার মাধ্যমে এবং খাদ্যঘাটতির দেশকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত করার মাধ্যমে। দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক পথ-পরিক্রমায় মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একদিকে যেমন তিনি আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন; তেমনি আবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য উল্লেখযোগ্য এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করেছেন।
বাংলাদেশ এখন দ্রুত উন্নয়নশীল প্রথম ৫টি দেশের মধ্যে একটি। জলবায়ুর ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন অর্জনের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ নামের শতবর্ষের একটি পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রূপকল্প-২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নের পথে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। ভারতের সঙ্গে ৬৮ বছরের অমীমাংসিত স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলের মানুষ অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছে। ১১১টি ছিটমহলের ১৭ হাজার ৮৫১ একর জায়গা বাংলাদেশের সীমানায় যুক্ত হয়েছে। সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বøু ইকোনমির সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৮ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা বাংলাদেশের সীমানায় যুক্ত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ বিজ্ঞানের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। শত ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাবনার রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। পায়রা, রামপাল, মাতারবাড়ি ও মহেশখালিতে কয়লাভিত্তিক ১০,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৮টি মেগাপ্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে। চার-লেন, ছয়-লেন ও আট-লেন জাতীয় মহাসড়ক, উড়াল সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেরিন ড্রাইভ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণের মাধ্যমে যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বিদ্যুৎচালিত বুলেট ট্রেন স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। ৯ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, ফোর জি মোবাইল প্রযুক্তি চালু, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট, অনলাইনে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও ভর্তি প্রক্রিয়া, ই-টেন্ডার প্রবর্তন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র, ই-কমার্স প্রভৃতির মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ আর স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তব।
পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বের দ্বিতীয়, মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, চাল উৎপাদনে চতুর্থ, আলু উৎপাদনে সপ্তম, আম উৎপাদনে নবম, খাদ্যশস্য উৎপাদনে দশম। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, আশ্রয়ণ প্রকল্প, একটি বাড়ি একটি খামার, দুস্থ ভাতাসহ সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান নিশ্চিত করা হয়েছে। শিল্পায়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বন্ধ থাকা পাট কল এবং বস্ত্র কল পুনরায় চালু করা হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে সরকার অটল রয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কর্মকান্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেছে আন্তর্জাতিক বিশ্ব। সরকার কর্তৃক গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন হয়েছে। সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিকায়ন হয়েছে। কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৩.২%। ২০৩২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের বড় ২৫টি অর্থনীতির দেশের একটি হবে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৪৫টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। ২০০৯ সালে রপ্তানি আয় ছিল ১.২৬ বিলিয়ন ডলার, আর ২০১৮ সালে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৪১.১ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধির হার ২০০৯ সালে ছিল ৫.৭৪, তা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮ সালে হয় ৭.৮৬। বৈদেশিক বিনিয়োগ ২০০৯ সালে যেখানে ছিল ৯৬.১ কোটি ডলার, ২০২০ সালে এসে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩৭২.৮০ কোটি ডলারে। ২০০৯ সালে খাদ্য উৎপাদন ছিল ৩৪৭ লক্ষ মেট্রিক টন, বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৪০০ লক্ষ মেট্রিক টন। বিদ্যুৎ আওতাধীন জনগোষ্ঠী ২০০৯ সালে ছিল ৪৭%, বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৯৭%। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০০৯ সালে যেখানে ছিল ৪,৯৪২ মেগাওয়াট, বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২৩,৫৪৮ মেগাওয়াটে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৯ সালে ছিল ১ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২০ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারে। মাথাপিছু আয় ২০০৯ সালে ছিল ৭১০ ডলার, বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ২,০৬৪ ডলার। রেমিটেন্স আয় ২০০৯ সালে ছিল ৯.৭ কোটি ডলার, বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে তা ১৮.০৩ কোটি ডলার। গড়আয়ু ২০০৯ সালে ছিল ৬৬.৮ বছর, বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৭২.৬ বছর হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্সে অবস্থান ২০০৯ সালে ছিল ৯৩তম, বর্তমানে তা ৫০তম। দারিদ্যের হার ২০০৯ সালে যেখানে ছিল ৩৪%, হ্রাস পেয়ে তা ২০২০ সালে হয় ২০.৫%। করোনা ভাইরাসের মহামারীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর পক্ষ থেকে ১ কোটি ২৫ লাখ ৮ হাজার ৮১ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা এবং ১০ কোটি ৫২ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে।
২০১০ সালে শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনায় জাতিসংঘ দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে ‘এমডিজি পুরস্কার’ প্রদান করে। ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন, সাউথ-সাউথ নিউজ ও জাতিসংঘের আফ্রিকা সংক্রান্ত অর্থনৈতিক কমিশন যৌথভাবে স্বাস্থ্যখাতে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জনের জন্য ‘সাউথ-সাউথ পুরস্কার’ প্রদান করে। ২০১২ সালে বন ব্যবস্থাপনায় সাফল্যের জন্য ইকুয়েটর পুরস্কার, ওয়াঙ্গারি মাথাই পুরস্কার এবং আর্থ কেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। ২০১১ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দূরদর্শী নেতৃত্ব, সুশাসন, মানবাধিকার রক্ষা, আঞ্চলিক শান্তি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদানের জন্য ‘গ্লোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্ত হন। ২০১২ সালে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিশেষ অবদানের জন্য ইউনেস্কো কর্তৃক ‘কালচারাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্ত হন। ২০১৩ সালে দারিদ্র্য ও অপুষ্টি দূরীকরণে অবদানের জন্য জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা কর্তৃক ‘ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্ত হন। ২০১৪ সালে নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের জন্য ইউনেস্কো কর্তৃক ‘শান্তিবৃক্ষ পুরস্কার’-এ ভূষিত হন। ২০১৫ সালে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ গ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে ইউনাইটেড নেশনস্ উইমেন-এর পক্ষ থেকে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ‘প্লানেট ৫০: ৫০ চ্যাম্পিয়ন’ অ্যাওয়ার্ড, ২০১৮ সালে নারীদের বৈশ্বিক সম্মেলনে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’, ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদানের জন্য ২০১৮ সালে জাতিসংঘ সদর দফতর তাঁকে ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিল-ইউনিসেফ ২০১৯ সালে ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ সম্মাননায় ভূষিত করে। টিকাদান কর্মসূচিতে অসামন্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৯ সালে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ উপাধিতে ভূষিত হন তিনি। ২০১৯ সালে বার্লিনে নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য ‘লাইফ টাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত হন দেশরত্ন শেখ হাসিনা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি ডক্টর অব লজ, ডক্টর অব লিবারেল আর্টস, ডক্টর অব হিউমেন লেটার্স, ডক্টর অব সায়েন্স প্রভৃতি সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ করেন। তাছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি মাদার তেরেসা পদক, সেরেস পদক, পার্সন অব দ্য ইয়ার, পার্ল এস বাক পদক, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক, নেতাজী মেমোরিয়াল পদক, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফেলিক্স হোফে বোইনি শান্তি পুরস্কার, এম কে গান্ধী পদক প্রভৃতিতে পদক প্রাপ্ত হন। তাঁর রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ৩০টি। এগুলোর মধ্যে শেখ মুজিব আমার পিতা, সামরিক বনাম গণতন্ত্র, ওরা টোকাই কেন, বিপন্ন গণতন্ত্র, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, চবড়ঢ়ষব ধহফ উবসড়পৎধপু, ঞযব ছঁবংঃ ভড়ৎ ঠরংরড়হ ২০২১ ইত্যাদি গ্রন্থগুলো উল্লেখযোগ্য।
বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর দেখানো স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণকে রাজনৈতিক মুক্তি প্রদান করেন, আর বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সুযোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে জয় করে দেশের জনগণকে অর্থনৈতিক মুক্তি প্রদান করার মাধ্যমে বিশ্বসভায় বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতিকে উন্নয়নশীল এবং মর্যাদাবান জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং মানব উন্নয়ন সূচকে দেশরতœ শেখ হাসিনা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়েছেন। সারাবিশ্ব জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রত্যক্ষ করছে ও প্রশংসা করছে। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি বিশ্বমঞ্চের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। তাই তিনি আজ জননেত্রী থেকে বিশ্বনেত্রী।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।