বই পড়ো বই কেনো আর উৎসবে অংশগ্রহণ করো

সাঈদুল আরেফীন

8

বই কেনা, বইমেলা আর উৎসবের মধ্যেই আছে অন্যরকম আনন্দ। আর বই পড়ার আনন্দ তো বলে কয়ে শেষ করা যাবে না। মজার মজার গল্প ছড়া কবিতার বই পাঠের মধ্যে যে কী আনন্দ তা তোমরা নিজেরাই বুঝতে পারো। নিয়মিত বই পড়ার মধ্যে যে কী আনন্দ তা বলে বোঝানো যাবে না। বই আমাদের সবার মনকে বিকশিত করে। মনের একরাশ প্রশান্তি এনে দেয়। নতুন নতুন স্বপ্ন, সুন্দর জগত ও জীবনের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়। যার কারণে আমরা বইমেলা থেকে বই কিনি, মনের আনন্দে বই পড়ি। বইয়ে পড়া গল্পগুলো আবার বন্ধুদের শোনাই। ডানপিঠের ছোট্টসোনামণি বন্ধুরা, প্রতিবছর আমরা সবাই বইয়ের নানা উৎসবে মেতে উঠি। বুঝতেই পারছো, বইকে নিয়ে আমাদের সবারই বেশ কিছু আনন্দঘন সময় কেটে যায়। তোমাদের অবশ্য পাঠ্যবইয়ের দিকে ও মনোযোগ রাখতে হয়। আমাদের গুণীজনেরা বলতেন, বই পড়ার মধ্যে যেমন আনন্দ আছে তেমনি শেখার ও অনেক বিষয় থাকে। তোমরা যতোই বই পড়বে, ততোই নিজেকে অনেক পোক্ত করে তুলতে পারবে। বই তো বইই- বইয়ের মধ্যে আছে দুনিয়ার নানা বিষয়। উপদেশ ও জ্ঞানমূলক মজার মজার ছড়া কবিতা,গল্প, বিজ্ঞানভিত্তিক সায়েন্স ফিকশন, ভ্রমণ ও কল্পকাহিনি; আছে দেশ-বিদেশের আকর্ষণীয় সব বিষয়। বইয়ের দিকে যদি আমরা মনোনিবেশ না করি, তাহলে কী আমরা এতো সব বিষয়গুলো নিজেদের চেনাতে পারবো? কখনো না। যে কারণে আমাদের মেলায় যেতে হবে, বই পড়তে হবে, নানা বইয়ের উৎসবে, শিশুদের নিয়ে আয়োজিত সাহিত্য উৎসবে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে হবে। পছন্দের মনকাড়া প্রচ্ছদ ও রঙিন ছবি দিয়ে আঁকা আকর্ষণীয় বইগুলো কিনতে হবে। তাহলেই আমাদের জীবনটা আনন্দময় হয়ে উঠবে। কেনা বইগুলো পড়ার মধ্য দিয়ে মনটা সারাক্ষণ ফুরফুরে থাকবে। আর মন আনন্দের জোয়ারে ভাসবে। ছোট্টবন্ধুরা আামাদের এক সময়ের জনপ্রিয় রম্য কথা সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর বিখ্যাত ‘বইকেনা’ প্রবন্ধে বলেছেন বই কিনে কেউ কোনদিন দেউলিয়া হয় নি। সত্যিই তো বই কিনে কেউ একেবারে দরিদ্র অর্থশূণ্য হয়ে পড়ে না। মেলায় গিয়ে বই কিনে পড়ো বলেই বর্তমান সময়ের অনেক বিখ্যাত লেখকের অনেকেই তোমাদের প্রিয় হয়ে উঠেছে। ছোট্টবন্ধুরা, তোমাদের স্কুলের পাঠ্যসূচির বাইরে নিজের মনটাকে সুন্দর ফুরফুরে রাখতে হলে তোমাদের বেশি বেশি করে বই পড়তে হবে। তাহলে তোমরা নিশ্চয় দেশের ও বিদেশের নানা অজানা বিষয় তথ্য কাহিনি সহজেই জানতে পারবে। দেখবে বই পড়ার কারণে লেখাপড়ার পাশাপাশি তুমি নিজেই একজন আদর্শ ছাত্র হিসেবে পরিণত হয়ে উঠছো। নানা বিষয়ে তোমাদের জ্ঞানের চর্চা বাড়লে তোমরাও অন্যদের চাইতে আলাদা হয়ে উঠবে।
বলছিলাম, বইয়ের সাথে মেলা উৎসব আর কেনার একটা সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের রাজধানী ঢাকায় বছরের নানা সময় কোন না কোন উৎসবে তোমাদের মতো ছোট্ট শিশুরা মেতে উঠে বইয়ের জগতে। ঠিক সেরকমই বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমির উদ্যোগে এবার চট্টগ্রামে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে তিনদিন ব্যাপী শুরু হয়েছে শিশুসাহিত্য উৎসব ও ছোটোদের বইমেলা-২০১৮। এ আয়োজন কিন্তু তোমাদের জন্যই। এতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তেমরা বইয়ের প্রতি আরো আন্তরিক হয়ে উঠবে। উৎসব মুখর এ মেলায় শুধু বইয়ের সমাহারই নয় তোমাদের জন্য আরো থাকছে ছড়া কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সবশেষে তোমাদের বলি, বই পড়লে তোমরা অনেক উপকার পেতে পারো। এরকম ১২ টি ভালো লাগা বিষয় তোমাদের জানাচ্ছি। তা হলো-১। মানসিক অবস্থা সচল রাখা ২। মানসিক চাপ হ্রাস পাওয়া ৩। শব্দ ভান্ডার বৃদ্ধি ৪। স্মৃতি শক্তি উন্নত করা ৫। বিশ্লেষণাত্নস ক চিন্তা বাড়ানো ৬। অন্যের থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন ৭। কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়া ৮। নতুন বিষয় আবিষ্কার করা ৯। আত্নার জন্য মেডিটেশন ১০। মনোযোগ বৃদ্ধি করা ১১। যোগাযোগ এর মন্ত্র তৈরি করা ১২। আত্নোন্নতিতে সাহায্য করা। তাই তো বলি, বই পড়ে জগতের বিখ্যাত মানুষগুলো তাঁদের জীবনের অনেক মর্যাদাপূর্ণ জায়গায় যেতে পারছে। দেশ বিদেশে উন্নত জীবনের চর্চায় নিজে যেমন অনেক উঁচু আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে, অন্যদের ও জ্ঞানমূলক পরামর্শ দিয়ে অবদান রাখতে পারছে। বড়ো মাপের ওই মানুষগুলোর জীবনী পাঠে দেখবে তাঁরাও মনোযোগী বই পাঠক ছিলেন। ফলে, তোমাদের প্রতি আহবান এইটুকুই- বই পড়ো, বই কেনো, বই উৎসবে অংশগ্রহণ করো আর উৎসবে মেতে উঠো। দেখবে তোমাদের জীবনও অন্যদের মতো সার্থক হয়ে উঠবে।